CureVac, BioNTech, এই দুটি জার্মান বায়োটেকনোলজি কোম্পানি করোনা ভাইরাস প্রতিষেধক তৈরির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। আজ জার্মানির সবচেয়ে জনপ্রিয় টিভি চ্যানেল ARD তে এক প্রতিবেদনে এই তথ্য বেরিয়ে আসে। টুইবিনগেন শহরে অবস্থিত CureVac, এর বিজ্ঞানীরা গত ডিসেম্বর থেকেই একনিষ্ঠ ভাবে এই গবেষণায় ব্যস্ত আছেন। এর সাথে যোগ দিয়েছে মাইন্স শহরে গবেষণা রত কোম্পানি, BioNTech.
এই দুটি জার্মান সংস্থা করোনার ভাইরাসের ভ্যাক্সিন তৈরির প্রতিযোগিতায় এখন নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
বায়োটেকনোলজি সংস্থাগুলি
করোনার ভাইরাসের বিরুদ্ধে গবেষণায় মার্কিনযুক্তরাষ্ট্রর বিজ্ঞানিদের সাথেও প্রতিনিয়ত তথ্য আদান প্রদান করে আসছে, কারন যুক্তরাষ্ট্রেও গবেষণার কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। কোভিড -১৯ এর ভ্যাকসিন অবশ্যই এই বছরের গ্রীষ্মমৌশুমেই আবিস্কৃত হবে, বলে বিজ্ঞানীরা আশাবাদী। এটি বর্তমানে মানবজাতির সবচেয়ে বড় চিকিত্সা এবং সেইসাথে অর্থনৈতিকভাবে ভাবে দারুন ক্ষতিগ্রস্ত পৃথিবীটার নতুন আশার আলো। এই দুটি জার্মান এবং মার্কিন বায়োটেক সংস্থাগুলোর একত্রে গবেষণা করে সমাধানের ভাল এক্টা সুযোগ রয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের একটি তীক্ষ্ণ দৃষ্টি পরেছে এই দুটো জার্মান কোম্পানির দিকে। ভ্যাকসিন তৈরিতে বার্লিন এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে এক দ্বন্দ্বের পরিণত হয়েছে, ট্রাম্প স্পষ্টতই যুক্তরাষ্ট্রে বড় বড় আর্থিক অবদানের কথও বলে জার্মানির বিজ্ঞানীদের প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করেছেন। এরই মধ্যে নাকি ৪ বিলিয়ন ডলারে ৪ জন জার্মান বিজ্ঞানীদেরকে কেনার প্রস্তাব ও এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে মার্চের শুরুতে হোয়াইট হাউসে একটি রাউন্ড টেবিলে বসে ঔষধ ও জৈবপ্রযুক্তি সংস্থাগুলির প্রায় এক ডজন বিজ্ঞানীরা আলোচনায় বসেছিলেন। গ্রুপের প্রত্যেকের প্রথমে নিজের পরিচয় দেওয়া পরে, নতুন করোনার ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তারা কী করছে তা বর্ননা করেন। জার্মান বিজ্ঞানী এই গ্রুপ পরিচালকরা ডানিয়েল মেনিচেল্লা (৫০) কিছুটা বিস্তারিত ব্যখ্যা দিয়েছিলেন, যিনি তখন এখন টুইবিংগেন এর CureVac বায়োটেক সংস্থব প্রধান ছিলেন। তিনি তাঁর কাগজটি থেকে তাঁর বার্তাটি পড়েছিলেন: “আমরা বিশ্বাস করি যে আমরা খুব দ্রুতই কোভিড -১৯ এর বিরুদ্ধে একটি ভ্যাকসিন তৈরি করতে সক্ষম হবো,” মেনিচেলা বলেছিলেন।
ডানিয়েল মেনিচেল্লা বক্তব্য টি মার্কিন প্রেসিডেন্টের পছন্দ করেছেন এবং বলা হয় যে তিনি এই সংস্থাটিকে প্রচুর অর্থের অফার দেবেন, যাতে এটি বাইয়োটেক কোম্পানিটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকেই কেবল ভ্যাকসিন সরবরাহ করে। Welt Am Sonntag পত্রিকাটি এভাবেই জানিয়েছে যে জার্মান সরকারের কর্তাব্যক্তি দেরকে উদ্ধৃত করে চার বিলিয়ন ডলারের কথাও হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় নিশ্চিত করেছে যে মার্কিন সরকার টুইবিংগেন এর CureVac সংস্থা কোভিড-১৯ এর উপর কাজ করছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের পল এহরলিচ ইনস্টিটিউটের সাথে ও কাজ করছে যারা করোনার ভাইরাসের প্রতিষেধকের একটি ভ্যাকসিন নিয়েও কাজ করছে।
সংস্থাটি জুনের পরে বেশ কয়েকটি ভ্যাকসিন প্রার্থী এবং ক্লিনিকাল পরীক্ষার ঘোষণা দিয়েছে। CureVac বেশিরভাগ অংশীদার হ’ল SAP সহ-প্রতিষ্ঠাতা ডিটমার হপ্প তার হোল্ডিং সংস্থা Dievini মাধ্যমে ৮০ শতাংশেরও বেশি অংশীদার হয়েছে। তিনি তাই ট্রাম্প এর অফার প্রত্যাখ্যান করেছিলেন, “আমরা গোটা বিশ্বের জন্য একটি ভ্যাকসিন বিকাশ ও প্রস্তুত করতে চাই, পৃথক দেশের জন্য নয়,” Dievini-র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টোফ হেটিচ গত রবিবার, Mannheim Morgenpost সংবাদপত্রকে বলেছেন।

সুত্রঃ জার্মান টিভি ARD এর সংবাদ ভাষ্য ।
মীর মোনাজ হক , জার্মান প্রবাসী সাংবাদিক এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক ।

