রাত প্রায় সাড়ে ৮টা। প্রায় ছ’হাজার ফুট উপর থেকে ঝকঝক করছে ঢাকা বিমানবন্দরের রানওয়ের আলো।
ইউএস বাংলা উড়ান সংস্থার বিমান বিএস ১৩৮টি পণ্য নিয়ে আসছিল শ্রীহট্ট থেকে ঢাকা। দিন কয়েক আগের কথা। নিজের অবস্থানের কথা জানিয়ে ঢাকার এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোল (এটিসি) টাওয়ারের সঙ্গে নিয়ম মেনে ইংরেজিতেই যোগাযোগ করলেন বাংলাদেশি পাইলট। টাওয়ার বলল, নেমে আসার পথ পরিষ্কার। দু’হাজার ফুটে নেমে রানওয়ের লোকালাইজ়ারের (বিমান নেমে আসতে সাহায্য করার অন্যতম যন্ত্র) সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করুন।
পাইলট: দু’হাজার ফুট পর্যন্ত নামার পথ পরিষ্কার। লোকালাইজ়ারের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে জানাচ্ছি।
রাতের আকাশে কাছাকাছি কোথাও কোনও বিমান নেই। সেই ২৫ মার্চ থেকে সব ধরনের যাত্রী-বিমান ওড়ার উপরে নিষেধাজ্ঞা বলবৎ আছে। উড়ছে শুধু কিছু পণ্যবাহী বিমান।
নিয়মিত ঢাকায় নামাওঠা করা অভিজ্ঞ পাইলটের কাছে এ এক অচেনা দৃশ্য। নিজেকে সামলাতে পারেন না পাইলট। এ বার পরিষ্কার বাংলায় বলে উঠলেন, আমরা ছাড়া আকাশে আর কেউ নেই!
টাওয়ারে বসে যিনি পাইলটের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন, সেই পুরুষ কণ্ঠ বলেন, তা-ই তো মনে হচ্ছে!
পাইলট: ভেরি আনইউজ়ুয়াল।
এ বার টাওয়ার থেকে ভেসে আসে এক মহিলা কণ্ঠ। মজা করে বলেন, ‘উই অলসো মিস দ্য ক্যাওস’ (নেমে আসার জন্য যোগাযোগ করা অনেক পাইলটের কণ্ঠস্বর)।
পাইলট: হ্যাঁ। কেমন যেন লাগছে।
মহিলা: সব শূন্য, শূন্য। আপনারাও বন্ধ করে দিন। তা হলে আমরাও বাড়ি চলে যাই (মজা করে)।
পাইলট: তা হলে খাব কী?
মহিলা: (হাসি) কী যে বলেন না!
এই কথোপকথনের মধ্যে বিমান নেমে আসে দু’হাজার ফুটে। যোগাযোগ স্থাপিত হয় লোকালাইজ়ারের সঙ্গে। পাইলট ফিরে যান পরিচিত বয়ানে: ‘এস্ট্যাব্লিশড লোকালাইজ়ার, রেডি টু ল্যান্ড।’
শুদ্ধস্বর/আইপি

