প্রয়োজন মানুষকে মানুষ হতে শেখায়

 

 

করোনা ভাইরাসের মতো মহামারী আমাদের মোকাবেলা করতে হচ্ছে। এতে আমাদের সুস্থতা কতো প্রয়োজন তা সবাই অনুধাবন করতে পারছি। শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা আমাদের এই বিপদ হতে অনেকটা রক্ষা করতে পারে এ কথা প্রতিটি ডাক্তারই বলবে। তাই আসুন আমরা যারা হাউজ এ্যারেস্ট হয়ে ঘরে বসে আছি আমরা আমাদের জীবনটা নিয়ে, আমাদের শরীরের চাহিদা নিয়ে একটু ভাবি, একটু গুছিয়ে তুলি।

সন্তানাদি, মা বাবা, ভাইবোন সবার জীবন ব্যাবস্থা নিয়ে কোনো ভুল ভ্রান্তি আছে কিনা খতিয়ে  দেখি। আমরা জানি সন্তানরা স্কুলে যাচ্ছে কিন্তু কি শিখচ্ছে? কতটুকু মানুষের প্রতি সহানুভূতি হওয়া শিখেছে, কতটুকু, সন্মান করা শিখেছে, কতটুকু ভালো আচরণ করা শিখেছে, কেননা এর সব কিছুর প্রভাব সমাজ বা আপনার উপর পড়বে, যাতে আপনি, সন্মানিত হতে পারেন, আবার অসম্মানিত হতে পারেন সন্তানের কর্মে। কারণ ডিগ্রির চাইতে মানুষ হওয়া প্রয়োজন।

দ্বিতীয়ত, আমরা আমাদের দৈনন্দিন কর্মে কতটুকু শরীর চর্চা করছি, রক্ত সন্চলনের জন্য শরীরের মাসেলস গুলো কতটুকু রিলাক্স করছি, নিয়মিত দু’চার লিটার পানি পান করছি কিনা, যথেষ্ট পরিমান সুস্থ থাকতে প্রয়োজনীয় রোগ প্রতিরোধমুলক খাবার গ্রহন করছি কিনা, শরীরে যথেষ্ট পরিমান ভিটামিন আছে কিনা ইত্যাদি যা সুস্থ বাঁচতে সবারই সহায়ক।

তৃতীয়ত, আবাস ভূমির চারোপাশের পরিবেশ সুস্থ বাঁচার সহায়ক কিনা, রোগজীবাণু মুক্ত কিনা বা কতটুকু সচেতনতা বাড়ালে বা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখলে নিজে ও পরিবারের সকলে মিলে বলতে পারব একটা সুস্থ পরিবেশ বজায় আছে চারোপাশে তার নিশ্চয়তা বিধান, যা ভাবা ও করণীয়  কর্ম হাতে নেওয়া সময়ের দাবী বা বাধ্যবাদকতা কতটুকু।

চতুর্থ, সেই কোন কালে বই পুস্তক পড়া হয়েছিল, এখন কার বই পুস্তক কি বলে, কি লেখে, মিডিয়া সময় উপযোগী  সংবাদ সরবরাহ করছে কিনা, সমাজ কোন দিকে ধাবিত  হচ্ছে, আপনার আমার আচরণ আমাদের
পরিবার,আত্মীয় স্বজন, সবার প্রতি সময় উপযোগি কিনা এগুলোও সময়ের দাবী সম্পর্কের খাতিরে নিজেকে মানিয়ে নিতে আমরা সঠিক কিনা তা যাচাই বাছাই  করা। যেমনটা, ছেলের বউ এখন আর পড়ের মেয়ে নয়, নিজের মেয়ে ভাবতে শেখা, মেয়ে জামাইকে নিজের ছেলের মর্যাদা দেওয়া, এক কথায় দেওয়ায় পাওয়ার আবেদন তুলে ধরা এবং আদায় করা এটা একটা বড় ধরণের শিক্ষনীয় বিষয় এই আধুনিক সমাজে তার উপযোগী আমরা কতটুকু ।
পঞ্চম, মারধর, অসম্মানিত করা ছেলে মেয়েকে, বা ছাত্র ছাত্রী, পাড়া প্রতিবেশীর প্রতি অশোভন  আচরণের দিন শেষ। মানবের প্রতি মানবিক আচরণ ছাড়া এই সমাজে কেহই আর শিক্ষিত বলে দাবী করার অধিকার  রাখে না, কারণ ব্যাক্তিগুণাবলী বিকাশের নাম শিক্ষা এমনটাই এনে দিয়েছে বর্তমান শিক্ষা ব্যাবস্থা তাই যুগের সাথে এর সব কিছুই মেনে চলতে হবে সবাইকে।

সর্বোপরি আমরা সবাই আমাদের সচেতনতা বাড়িয়ে, কারো ক্ষতি না করে, অপরের কষ্টকে নিজের কষ্ট ভেবে যদি আমরা আমাদের দৈনন্দিন জীবন চালিয়ে যাই তবে নিশ্চয়ই আমরা আমাদের সুস্থ জীবন ফিরে পাব। সবার একটি কথা মনে রেখে চলতে হবে, পাপ মুক্ত জীবনই শান্তির পথ, ধর্মের পথ। আলোর পথ। আপনার সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন, অপরকে ভালো রাখুন। হই আমরা নতুন পথের যাত্রী।

মায়েদুল ইসলাম তালুকদার , জার্মান প্রবাসী কবি এবং লেখক ।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.