ক্ষুদ্র অতি ক্ষুদ্র একটি জীবাণুর সাথে আমরা হিমশিম খেয়ে যাচ্ছি। বিশ্ব আজ হতাশ,নির্বাক। করোনা ভাইরাসের এই সংক্রমনকে পৃথিবীর কোন শক্তি পারছেনা প্রতিরোধ করতে। বিশ্বের প্রতিটি দেশে বাধ্য হয়েছে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, কর্মক্ষেত্র, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বন্ধ করতে।এই সব বন্ধ আমাদের কাছে সহজ না হলেও মেনে নিয়েছি। কিন্তু মেনে নেয়া কঠিন হচ্ছে প্রতিটি এবাদতগৃহ বন্ধকে। অজানা ভীতি সবার মনে বিরাজ করছে। পৃথিবীর সর্ব প্রথম আল্লাহর ঘর পবিত্র কাবা শরীফ এই পরিস্থিতির জন্য আজ বন্ধ । ভাবতে কষ্ট হচ্ছে। একি হলো? কেন এমন হলো? মসজিদ আছে অথচ নামাজ পড়া হচ্ছে না। কতো দুর্ভাগা মানুষ আমরা। আমরা, আমরাই বিশ্বের এই পরিস্থিতির জন্য দায়ি। আমরা, আল্লাহপাকের সৃষ্টি করা প্রিয় শ্রেষ্ঠ মানুষ। আমরা পৃথিবীতে কি না করেছি।। বিশ্লেষণ করতে গেলে শয়তানের মাথা নত হয়ে আসবে। মানুষ আমরা প্রকৃতি বিনাশকারী, হিংস্র, ধ্বংসকারি, লোভী, অবিবেচক, শোষনকারি, অপকর্মকারি, বৈষম্য সৃষ্টিকারি, অত্যাচারকারি, এবং ইজ্জত হরনকারি। এতো সুন্দর গুনাবলির পরও আল্লাহপাক আমাদের ক্ষমা করে দিয়েছেন। কিন্তু সব ক্ষেত্রের একটি নির্দিষ্ট সীমারেখা থাকে। সেই সীমারেখা অতিক্রম করলে শাস্তি পেতেই হবে। আমরা মানুষরা আজ অপরাধের শেষ সীমান্তে পৌঁছে গিয়েছি। শান্তি আমাদের পেতেই হবে। আল্লাহ মহান, সর্বশ্রেষ্ঠ ক্ষমাকারি, সর্বশ্রেষ্ঠ রক্ষনা বেক্ষনাকারি,, সর্বশ্রেষ্ঠ দয়াময়। আমাদের এখনো সময় আছে সঠিক পথে ফিরে আসার। এবাদতগৃহ বন্ধ হয়েছে কি হয়েছে, সর্বক্ষেত্রে, সর্বস্তরে আল্লাহ্ আমাদের সাথে বিদ্যমান রয়েছে। এই মুহূর্তে কিছু কথা মনে পড়ে গেল। সাথী, সম্পর্কে আমার আপুর মতো। কাতারে থাকে দীর্ঘদিন। সাথীর কাছ থেকেই জানলাম , প্রাচীনকালে আরবরা উটের বহর নিয়ে সফরে যেত। সেই উটের সাথে একটি গাড়ি লাগানো থাকতো। অনেকটা ঘোরাগাড়ির মতো দেখতে। ওটাকে বিহাল বা রাহেলা বলা হতো। সফরে চলাকালীন সময়ে আজান হতো এইভাবে, “সাল্লু আল্লা বিহাল্লিকুম’ অনুবাদ করলে অর্থ এই হবে,”তুমি তোমার গাড়ির উপর নামাজ আদায় করো’ অর্থাৎ বোঝাতে চাচ্ছে , তুমি নিজস্ব জায়গায় নামাজ আদায় করো’। সাথী, বলছিল এখন এখানে মসজিদে নামাজ পড়া হয় না বন্ধের কারনে শুধু আজান হয়। তবে আজানের শব্দের পরিবর্তেন হয়েছে। এখন আজানে প্রাচীনকালের সফরের বলা ঐ শব্দগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে,” তোমরা নিজস্ব জায়গায় নামাজ আদায় করো”। এবাদত আমরা যেখান থেকেই করিনা কেন, আমাদের প্রার্থনা পৌঁছে যাবে আল্লাহপাকের কাছে। বিশ্বের উপর করোনা ভাইরাসের এই কঠিন দুর্যোগ থেকে রক্ষা পেতে হলে একটি মাত্র পথ রয়েছে প্রার্থনা করা। ছোট নিয়ামতপূর্ন , সবার জানা সুরা ফাতিহার এই অংশটি ,”ইয়া কা – না-বুদু ওয়া ইয়া-কানাছ্তাইন’ ( অর্থ আমরা তোমারই এবাদত করি ও তোমারই সাহায্য প্রার্থী) যতোবার সম্ভব হয় নামাজ শেষে তজবিহ পাঠের মতো অথবা সর্বদা পড়লে রাব্বুল আলামীন আমাদের প্রার্থনা একসময় গ্রহণ করে আমাদের সৌভাগ্য প্রদান করবেন। হতে পারে মুক্ত করে রাব্বুল আলামীন এই করোনা ভাইরাস থেকে বিশ্বের প্রতিটি মানুষকে।
গুলশান আরা আতিক, জার্মান প্রবাসী লেখিকা ।

