11.03.2020, Berlin: Bundeskanzlerin Angela Merkel spricht neben Jens Spahn (CDU, l), Bundesminister für Gesundheit, vor einer Pressekonferenz der zur Entwicklung beim Coronavirus. Foto: Michael Kappeler/dpa +++ dpa-Bildfunk +++

করোনা ভাইরাস নিয়ে প্রেস কনফারেন্সে যা বললেন জার্মান চ্যান্সেলর মার্কেল

 

করোনা ভাইরাসের আতংকে কাঁপছে গোটা বিশ্ব। এর মধ্যে আক্রান্ত হয়েছে বিশ্বের ১১৫টি দেশ। এই অবস্থায় জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেল মের্কেল তাঁর প্রথম প্রেস কনফারেন্সেই বললেন “৭০ শতাংশ জার্মান নাগরিক হয়তো করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে” কোনো লুকোচুরির আশ্রয় না নিয়ে দারুন সত্য কথন করলেন তিনি।

এখনও অবধি, চ্যান্সেলর মার্কেল করোনার সঙ্কট সম্পর্কে খুব কমই মন্তব্য করেছেন – এবং এর জন্য সমালোচনাও পেয়েছেন বহু, আজ মধ্যাহ্নভোজনের পর, ম্যার্কেল এবং জার্মান স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইয়েন্স স্পান ফেডারেল প্রেসের সামনে উপস্থিত হন। নেতৃস্থানীয় অর্থনীতিবিদেরকে আহ্বান করেছেন দেশের সংকটে সম্পুর্ন সহযোগিতা ও পুনর্বিবেচনা করার জন্য জানিয়েছেন।

চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মের্কেল প্রথমবারের মতো সকালের সংবাদ সম্মেলনে প্রথম বক্তব্য রাখেন, কেবল করোনার সঙ্কট নিয়েই তাঁর দীর্ঘ আলোচলনা। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইয়েনস স্পান এবং রবার্ট কোক ইনস্টিটিউটের প্রধান লোথার উইলারের সাথে তিনি সকাল ১১.০০ টায় ফেডারেল সংবাদ সম্মেলনে মিডিয়ার প্রশ্নের উত্তর দেন।

এটি এখন মহামারীতে পরিনত হয়েছে তাই মানবিক ও অর্থনৈতিক পরিণতিগুলিও মোকাবেলা করা উচিত। উপস্থিত ইফো’র (Ifo Institute for Economic Research) প্রধান ক্লেমেনস ফুয়েস্টের মতে, জার্মানির অর্থনীতি বছরের প্রথমার্ধে মন্দার মধ্যে পিছলে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রাজনীতিবিদদের এখনই পুনর্বিবেচনা করা উচিত এবং দ্রুত কাজ করা উচিত। ফুয়েস্ট আয়করের ছাড় বা সংস্থাগুলিতে রাষ্ট্রের অংশগ্রহণকে সম্ভাবনা হিসাবে কর সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। অন্যান্য শীর্ষ অর্থনীতিবিদদের সাথে একত্রে তিনি সম্ভাব্য পদক্ষেপের জন্য ১৫-পৃষ্ঠার একটি পেপার প্রকাশ করেছিলেন। এই মহামারীতে মানব জীবনের ক্ষতির পাশাপাশি জার্মানিতে বিরাট অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্ভবনা রয়েছে।

এর আগের সন্ধ্যা থেকেও ইউরোপীয় কাউন্সিলের ভিডিও কনফারেন্সের ফলাফল নিয়ে আলোচনা করতে চান মার্কেল। তাঁর দল সিডিইউ এর বিদেশনীতি রাজনীতিবিদ নরবার্ট র্যাটজেন ইতিমধ্যে এটিকে অপর্যাপ্ত বলে সমালোচনা করেছিলেন। ইইউ কমিশনের সভাপতি উরসুলা ভন ডের লাইন ইউরোপীয় রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের সাথে ভিডিও কনফারেন্স শেষে একটি ২৫ বিলিয়ন ইউরোর তহবিল ঘোষণা করেছে।

মের্কেল উল্লেখ করেন, এখনও করোনা ভাইরাসের কোনো ওষুধ আবিষ্কৃত না হওয়া মনোযোগ দিতে হবে ভাইরাসের সংক্রমণ কমিয়ে আনার দিকে।

দেশে করোনা ভাইরাসে প্রাদুর্ভাব নিয়ে প্রথম সংবাদ সম্মেলনে মের্কেল আরো জানান, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সীমান্ত বন্ধ যথেষ্ট পদক্ষেপ নয়। করোনা ভাইরাসের কারণে অস্ট্রিয়া ইতালির নাগরিকদের প্রবেশের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। তবে জার্মানিও সেই পথে হাঁটবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে মার্কেল দ্বিমত পোষণ করে তিনি জানান, এটা আমাদের ইউরোপীয় সংহতির পরিপন্থী, আমাদের বিবেক ও একের প্রতি অন্যের মানবিকতার পরীক্ষা, এবং আমি আশা করি আমরা সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি।

উল্লেখযোগ্য যে জার্মানিতে ১২৫০ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলেও মাত্র তিন জন মৃত্যুবরন কতেছে, যা অউরোপের অন্যান্য দেশের মৃত্যুর তুলনায় অনেক নিচে। ইটালিতে করোনাভাইরাসে ১০.০০০ মানুষ আক্রান্ত হয়েছে এবং ৬৪০ জন মানুষ মৃত্যুবরণ কতেছে, চীন সহ এই মহামারীতে ১ লক্ষ ২০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে এবং ৪ হাজারের ও বেশি মানুষ মৃত্যুবরণ করেছে। জার্মানি তার দায়িত্বশীল ভুমিকা পালন করবে, বলেন চ্যান্সেলর মের্কেল।WHO declares virus crisis a pandemic, urges world to fight  আজ   বিশ্ব সাস্থ সংস্থা করোনা ভাইরাস সংক্রামক কে মহামারী আখ্যায়িত করেছে ।

মীর মোনাজ হক

জার্মান প্রবাসী সাংবাদিক এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক ।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.