করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষার কিছু পরামর্শ

হাতে একদম সময় নেই
বাঁচতে হলে জানতে হবে
.
“COVID 19 এটা হচ্ছে সংক্রামক করোনা ভাইরাস এর বর্তমান নাম। COVID 19 বিষয়ে সচেতন হওয়া টা এখন আর ইচ্ছা না, অতি আবশ্যক হয়ে গেছে।
চারপাশের আরো অনেক ঘটনার ডামাডোলে COVID 19 ভাইরাস প্যানডেমিক আউটব্রেককে এখন শুধু চীন বা যেসব দেশে COVID 19 বহনকারী রোগী সনাক্ত করেছে তাদের ব্যাপার ভাবার সুযোগ নাই। COVID 19 সম্পর্কে সতর্ক না হলে আউটব্রেকের ঢেউ যখন আমাদের আশেপাশে চলে আসবে, অপ্রস্তুত অবস্থায় আমরা অতি ঘনবসতি নিম্ন আয়ের জনগোষ্টির এলাকায় অতি অল্প সময়ে অনেকে সংক্রামিত হবার ভয় বেশি।

মাথায় রাখতে হবে, আমাদের দেশ চীন না। পশ্চিমা যে কোন দেশের চেয়ে আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থা দূর্বল। WHO এর সাইটে গেলে পরিষ্কার একটা ধারণা পাওয়া যাবে। সংক্রামিত দেশগুলার প্রস্তুতি আর আমাদের সামর্থ্য তুলনায় আনারও উপায় নাই। আমাদের নিজেদেরকেই নিজেদের প্রয়োজনে সচেতন হতে হবে। COVID 19 সচেতনতা থাকলে আমরা একটু একটু করে প্রস্তুতি নিতে পারবো। হঠাত করে অনেক দেরীতে গিয়ে সচেতন হয়েও খুব একটা সুবিধা পাওয়া যাবেনা। একসাথে সবাই চাইলে যে কোনো জিনিসই বাজার থেকে উধাও হয়ে যায় নিমেষে। শেষ হয়ে যাবার আগে সব জিনিসই অযৌক্তিক উচ্চমূল্য নিয়ে ফেলে। অতীতের অভিজ্ঞতা আমাদের তাই দেখায় । আমি চেষ্টা করি একটা প্রাইমারী প্রেপ লিস্ট খাড়া করতে।

১। COVID 19 সম্পর্কে শুরুতেই মনে রাখা ভাল, এই ভাইরাস সম্ভবত বায়ূবাহী হিসাবে চূড়ান্ত হচ্ছে। তার মানে হচ্ছে, আক্রান্ত ব্যাক্তি হাঁচি, কাশির মাধ্যমে অজান্তেই সংক্রমন ছড়াবে। হাঁচি, কাশির মাধ্যমে হাতে ভাইরাসের সংক্রমন হবে, সেই হাতে কোনো কিছু ধরলে, সেই বস্তুতে ভাইরাস লেগে থাকবে, সুস্থ ব্যক্তি সেই বস্তু ধরলে, ভাইরাস তার হাতে লেগে যাবে, এরপর সেই ব্যক্তি খুব সহজেই অবচেতনেই ভাইরাস নিয়ে নিবে নিজের শরীরে। COVID 19 সংক্রমিত হবার সাথে সাথেই বোঝা যাবে না। আক্রান্ত ব্যাক্তি জ্বর, শুকনা কাশি, ধীরে ধীরে শ্বাসকষ্ট অনুভব করবে। ১৪ দিন পর রোগের উপসর্গ বের হয়ে আসে। এখন কথা হচ্ছে COVID 19 কিট দিয়ে টেষ্ট করলেই শুধু ১৪ দিনের ভেতরে বোঝা যায় যে ব্যাক্তিটি COVID 19 সংক্রমিত কী না । এই ১৪ দিনে এই ব্যাক্তি হাঁচি, কাশি, স্পর্শের মাধ্যমে অজান্তেই কতজনকে সংক্রমিত করতে পারে, তার একটা ধারনা দেই। সাউথ কোরিয়ায় একটা বিশেষ ধর্মগোষ্টির সাপ্তাহিক প্রার্থনায় অংশ নিয়ে এক মহিলার মাধ্যমে শুধু সাউথ কোরিয়াতেই এখন আড়াই হাজার সংক্রমিত রোগী পাওয়া গেছে, প্রতিদিন নতুন লোক যোগ হচ্ছে। ইতালী এবং ইরানেও খুব কম সময়ে অনেক বেশি মানুষ সংক্রমিত হয়েছে। এই COVID 19 সংক্রমনে মৃত্যুর হারও কিন্তু দেখার বিষয়। চীনে শ্বাসকষ্ট জনিত কারণে মৃতদের বেশিরভাগই বয়স্ক মানুষ। রিকভারীর হারও বেশ ভাল। অপেক্ষাকৃত তরুনরা রিকভার করছে। কিন্তু শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যার চিকিতশা সেবা নিশ্চিত করতে না পারলে তরুনদের মৃত্যুঝুঁকি কতটা সেটা কিন্তু নিশ্চিত না। ইরানে এবং ইতালীতে মৃতের হার বেশ উচু। এসব উদাহরণ আমাদের সামনে কিছু করণীয় নির্দেশনা নিশ্চিত করে, সেগুলো নিয়ে বলি

২.১ মাস্ক ঃ
COVID 19 ভাইরাস শ্বাসের মাধ্যমে সংক্রমন ঠেকাতে মাস্ক ব্যবহার এর নির্দেশ দিয়েছে WHO. কিন্তু মাস্ক মানেই সার্জিকাল মাস্ক বা সাধারন ডাস্ট মাস্ক ব্যবহার করলে ফল পাওয়া যাবেনা। আক্রান্ত ব্যক্তি এইসব সাধারন মাস্ক ব্যবহার করলে কিছুটা সংক্রমনের মাত্রা কমার চান্স থাকে। কিন্তু নিরোগ ব্যক্তি সংক্রমন ঠেকাতে হলে N 95 মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।
অথবা ইউরোপ স্ট্যান্ডার্ডে FFP3, বা সমমানের রেস্পিরেটর ব্যাবহার করা উচিত। কেনার সময় চেক করে নেয়া উচিত। অনলাইনে কেনার সময় কনফার্ম হয়ে নিবেন। একটা রেস্পিরেটরের দাম যাই হোক, সেটার একটা মেয়াদ আছে। আমাদের ঢাকার বাতাস অলরেডি এই সিজনে বেশি ডাস্ট থাকে বলে রেসপিরেটর ৫-৭ দিনের বেশি ব্যবহার করা যাবেনা।

২.২ হাত ধোয়া ঃ
COVID 19 সংক্রমনের কাট অফ চ্যানেল হচ্ছে হাত ধোয়া, হাত থেকে নাকে, মুখে, চোখে ভাইরাসের চলাচল বন্ধ করতে ঘন ঘন সাবান / হ্যান্ড ওয়াস দিয়ে মিনিমাম ১ মিনিট ঘসে ঘসে হাত ধোয়ার অভ্যাস করতে হবে। ঘন ঘন হাত ধোয়া ছাড়াও হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করা ভাল। কাজের মাঝখানে ঘন ঘন হ্যান্ড স্যানিটাইজার ইউজ করলে মাস্ক ব্যাবহারের সাথে বেটার প্রোটেকশান তৈরী করে। এলকোহল বেইজড হ্যান্ড স্যানিটাইজার দেশেই তৈরী হয়। এছাড়াও ফার্মেসীতে হেক্সাসল কিনতে পাওয়া যায়, যদিও গন্ধ কড়া। কিন্তু কাজের জিনিস। বাচ্চাদেরকে স্কুলে স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে অভ্যাস করানো উচিত।

২.৩ দূরত্বঃ
সম্ভব হলে, হাত মেলানো, কোলাকুলি জাতীয় নৈকট্য কমানো উচিত। আমরা অনেকেই ভদ্রতা করে, হাত মুঠি করে, লুকিয়ে কাশি দেই। সেই হাতে হ্যান্ডশেক করলে সংক্রমন হবে। তাই ম্যাস গ্যাদারিং এভয়েড করার চেষ্টা করা ভাল। বাসার বাইরে মাস্ক এর মতন হাতেও সার্জিকাল গ্লাভস ব্যবহার করা যায়। খুবই সহজলভ্য প্রতিরক্ষা।

২.৪ সম্যক জ্ঞান
COVID 19 বিষয়ে আপডেট রাখার চেষ্টা করুন। আমাদের দেশে, কোন হসপিটাল বা কিভাবে চেক করা যাবে, কোয়ারেনটাইন ব্যবস্থা, চিকিতশা এসব ব্যাপারে খোজ খবর নিয়ে রাখা ভাল। নেটে অনেক তথ্যবহুল নির্দেশনা আছে, সেলফ কোয়ারেন্টাইন প্ল্যান কিভাবে ডেভলপ করা যায় ধরে ধরে বলা আছে। অন্তত জানা থাকলে অন্যদেরকে জানানোর কাজটা তো আগায়। বেশিরভাগ মানুষই ভাসা ভাসা জানে, তাই উদাসীন থাকবে। এই অবস্থা চেঞ্জ করতে হলে, আশে পাশের সবাইকে নিজের তাগিদেই সচেতন করুন। যার হাচি কাশির দুরত্বে আপনি চলাচল করেন, তার সচেতনতা আপনার ঝুঁকি কমাবে, এটা হচ্ছে সায়েন্স।

২.৫ দীর্ঘ প্রস্তুতিঃ
এই বিষয়ে অগ্রিম কিছু বলতে চাই না। তবে COVID 19 প্যানডেমিকের ঢোকা ঠেকানো আমাদের সাধ্য নাই, এটা বুঝতে হবে। লাকিলি যদি আমাদের কমিউনিটি বাদ পড়ে যাই, এর চেয়ে ভাল কিছু হতে পারে না। তবে যদি আমাদের দেশে, শহরে সংক্রমন ছড়ায় তাহলে এর দীর্ঘ মেয়াদী প্রভাব পড়বে উতপাদন, পরিবহন, বিপনন ব্যবস্থায়। সংক্রমন ঠেকাতে সব দেশই একসময় লকডাউন ডিক্লার করছে অঞ্চল ভেদে। লক ডাউন সিচুয়েশানে সমস্ত আটকে পড়া মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানোর মত সামগ্রী সরবরাহ ব্যাবস্থা আমাদের নাই। তো কেউ চাইলে আগাম প্রস্তুতির চিন্তা করলে সেটাকে বোকামী ভাবার কারন নাই।

যারা ভাসা ভাসা ভাবে শুনেছেন চীনে বাদুড় , শিয়াল সাপ খায় বলে করোনা ভাইরাস তাদেরকে ধরসে, মোসলমানদের ভয় নাই, তারা ভুল জানে। ভাইরাস কি থেকে মানুষের শরীরে আসছে এই তত্ত্ব আপনাকে নিরাপত্তা দিবেনা। এয়ারবর্ন ভাইরাস যদি প্যান্ডেমিক হয়ে পড়ে তখন দেশ, জাতি, ধর্ম, নাগরিক সুবিধা দেখে না। সবাই সমান ঝুঁকিতে থাকে। তাও জানায়ে রাখি, ইরানে সংক্রমন ছড়ানোর এপিসেন্টার বলা হচ্ছে একটা ধর্মীয় সমাবেশকে। সৌদী আরব সংক্রমনের ঝুঁকি ঠেকাতে সব দেশের ওমরাহ হজ্জ্ব যাত্রীদেরকে ফিরিয়ে দিচ্ছে। এর পরেও যদি কেউ নানা রকম মুখরোচক গল্প শুনে কাটাতে চান কাটাইতে পারেন। আমি আপনাদের সাথে হাত মিলাচ্ছি না। অসচেতনতা আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থার দূর্বলতাকে শুধু আরো ভংগুর বা অকার্যকর করতেই সাহায্য করবে। এখনো যেহেতু আমরা এই দূর্যোগে আক্রান্ত হই নাই, প্রস্তুতি নেয়াই তো ভাল , তাই না ?
.
(হুবহু কপি-পেস্ট সাইফুল আযম চৌধুরী মুকুল-এর পোস্ট থেকে।)

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.