করোনাভাইরাসে বিজয়ী ১০২ বছর বয়সী নন্না লিনা সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরলেন

ইতালিকা গ্রুনদোনা, ১০২ বছর বয়সি। সবাই তাকে “নন্না লিনা” (নানু লিনা) বলেই ডাকে। একটি অসম্ভব ঘটনার তারকা তিনি। ১৯১৭ সালে জন্ম নেয়া লিনা দুটো বিশ্বযুদ্ধ দেখেছেন। সম্মুখীন হয়েছেন, অনেক কঠিন সময়ের। দেখেছেন সন্তানের মৃত্যুও। বিচ্ছেদ ঘটেছে জীবন সঙ্গীর সাথেও।

 

91918779_144117530356738_3616704677636210688_nসেটিও ইতালির প্রথম বিবাহ বিচ্ছেদের একটি। সে জয়ী হয়েছেন আরেকটি যুদ্ধে, যা কিনা অসম্ভব ছিল। লড়াইটি করেছেন কোভিড-১৯ রোগের বিরুদ্ধে। ইতালির জেনোয়া শহরের বাসিন্দা তিনি। করোনাভাইরাসের উপসর্গ, প্রচণ্ড জ্বর ও কাশি নিয়ে হসপিটালে ভর্তি হন। জেনোয়ার সান মার্টিনো হাসপাতালে চিকিৎসা হয়েছে তার। “নন্না লিনা”র চিকিৎসক ভেরা স্কাভালদি বলেন, “আমাদের জন্য তিনি কেবল দুর্দান্ত লিগুরিয়ান: শক্তিশালী, দৃঢ়, প্রতিরোধী … এবং অবাক হওয়ার মতো বিষয় নয় যে তিনি পানারেলো কেকের মোমবাতি উড়িয়ে দিয়েছেন!” করোনাভাইরাসের ভয়াবহতা হতে বেঁচে যাওয়া সাহসী “নন্না লিনা” সম্পর্কে লিগুরিয়ার গভর্নর জোভানি টিটু তার ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন , “লিনা ইতিমধ্যে আমাদের সকলের জন্য প্রত্যাশার প্রদিপ হয়ে উঠেছেন। এবং নির্বিশেষে সকলকে সমান চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়, এটি তাঁর একটি অন্যতম উদাহরন।

90989378_641600103342810_1222118908123676672_n.jpg

এখানে বয়সের কোন বৈষম্য নেই। তিনি আমাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন, তাঁর সেবা, যত্ন, ও সুস্থতার জন্য। তাঁর কথা আমাকে অবিশ্বাস্য মানসিক শক্তি যোগায়, আজকের দিনে । আমাদের প্রত্যেকের জীবন অনেক মুল্যবান।” তিনি সকলকে আবেগি করেছেন তাঁর সাহস দিয়ে। জীবনের অনেক প্রতিকূলতার পরেও তিনি এই বয়সে ভয়াবহ চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবার শক্তি খুঁজে পেয়েছেন: সেই করোনাভাইরাস যা ইতালিকে কয়েক সপ্তাহ ধরে পর্যদুস্ত করে রেখেছে।

91998280_226295521815652_6917408583873200128_n.jpg

 

বিশেষত বয়স্ক মানুষদের জন্য সবচেয়ে বেশি হুমকির কিন্তু “নন্না লিনা”কে হারেতে পারেনি। তিনি যখন জানতে পারলেন করোনাভাইরাসের আক্রমনের শিকার হয়েছেন, তিনি হতাশ হননি। হাসি মুখে সাহসিকতার সাথে মোকাবেলা করেছেন, বিশ্বাস রেখেছেন চিকিৎসা সেবার উপর। হাসপাতালের সময়গুলো কাটিয়েছেন হাসিমুখে। তাঁর ডাক্তারদের শঙ্কা কাটিয়ে সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরে গিয়েছেন। তিনি জীবন মৃত্যুর মধ্যে সময় কাটিয়েছেন, হার্ট ও শ্বাসকষ্টের সমস্যার কারণে খুব রিস্কের মধ্যে ছিলেন তিনি। বয়সের ঝুঁকি জানার পরেও সাহস হারাননি। চিকিৎসক তাঁর সম্পর্কে আরও বলেন, আমাদের খুব আশাবাদী ছিলাম না।করোনাভাইরাস বয়স্কদের জন্য খুব বেশি বিপদজনক।

91501305_924070561384537_1725921861889425408_n.jpg

আমরা তাঁর সাহসিকতার কথা ভাবিনি।” জেনোয়া-র সান মার্টিনো হাসপাতালের মেডিসিন ও ক্লিনিকাল ইমিউনোলজির প্রধান রাফায়েল দে পেলমা আরও বলেছেন: “কোভিড -১৯ থেরাপির প্রয়োজন ছাড়াই তিনি সুস্থ হয়েছিলেন। আমাদের নিজেদের কাছেও এর কোন ব্যখ্যা নেই। তাঁর গল্পটি আমরা যে ঝড়ের মুখোমুখি হয়েছি তাতে আশার আলো ফেলা হয়েছে।” লিনার নামকরণ করা হয়েছে “হাইল্যান্ডার” ইতালিকা গ্রুনদোনা, নামের সার্থক লিনা, ডাক্তার, নার্সদের কাছে তিনি, “মৃত্যুঞ্জয়ী” !

ইতালির সংবাদপত্র অবলম্বনে।

 

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.