করুণার পাত্র না করে সক্ষম করে তুলুন

একটি শিশুকে যেমন হাটি হাটি পা পা করে একটু এগিয়ে নিয়ে হাতটা ছেড়ে দেই ঠিক তেমনি প্রয়োজন আমাদের অগ্রজ বৃদ্ধ পিতা মাতা, দাদা দাদী,নানা নানী শশুর শাশুড়ীদের বয়সের সাথে সাথে সাহস দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। তারা জীবন যুদ্ধে হাটতে হাটতে ক্লান্ত, বয়সের সাথে সাথে, কর্ম বিরতীতে জমাট বাধতে না দেই শরীর।
অনেকটা নিজেদের কৃতজ্ঞতা বোঝা নামাতে কিছু না করতে দিয়ে দিনের পর দিন করতে থাকি তাদের পঙ্গু। তারা এ বয়সে কিছু বোঝা উঠালে লোকে কি বলবে? বিভিন্ন সামাজিক কুসংস্কারে করতে থাকি আমরা তাদের অকর্মণ্য। দিনের পর দিন জং ধরা লোহার মত মিশে যেতে দেই মাটিতে। ঠেলে দেই অকাল মৃত্যুর দিকে। এভাবেই চলে এসেছে, আসছে আমাদের অগ্রজদের সমাজ ব্যবস্থা।
এমনই অজ্ঞতার জগৎ থেকে বেড়িয়ে না আসলে আমরা যে যুগোপযোগী না, এবং অজ্ঞতার জগতে বাস করছি তারই প্রমাণ দিয়ে থাকি বা দিয়ে আসছি ।
বৃদ্ধদের জীবিকা অর্জন বিরতিতে আসলেও তাদের কর্ম বিরতিতে নিয়ে যাওয়া মানে একটা চলন্ত গাড়িকে থামিয়ে রেখে জং ধরায়ে তিলে তিলে কষ্টের দিকে ঢেলে দেওয়া, মৃত্যুর কোলে এগিয়ে দেওয়া।
যেখানে প্রয়োজন তাদের পর্যপ্ত শরীর চর্চা করা, শরীরের মাংসপেশির রন্ধে রন্ধে রক্ত সঞ্চলন সঠিক রাখা কিন্তু আমরা করে তুলি বিকলঙ্গ।
একা ছাড়া যাবে না, পড়ে যাবে, শরীরে শক্তি নেই, হাটতে পারে না, এখানে যেতে পারবে না ওখানে যেতে পারবে না, ঘরে কাজ করতে পারবে না, এক কথায় ছিনিয়ে  নিতে থাকি তাদের সাহস, আঘাত করি তাদের মানসিকতায় করে তুলি অপদার্থ।
যেখানে প্রয়োজন ছিলো একটি শিশুকে যেন সাহস দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, হাটা সেখানো, তেমনি সাহস দিয়ে শেষ দিন পর্যন্ত জীবন যোদ্ধা বানিয়ে রাখা। পর্যপ্ত
পানিয় পান করানো, শরীরের মিনারাল ও ভিটামিন সঠিক রাখতে পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ করুণ। শরীরের যত্ন করতে উৎসাহিত করুণ, এক কথায় শিশুর মত পরিচর্চার  হাত বাড়িয়ে দিন।

তাই সবার প্রতি বিনীত অনুরোধ আপনার সবাই এমন অজ্ঞতা থেকে  বেরিয়ে আসুন। বৃদ্ধ পিতা মাতা,আত্মীয় অনাত্মীয় শশুড় শাশুড়ী সবার প্রতি এমন ভুল আচরণ পরিহার করুন। তাঁহাদের কর্মবিরতিতে না রেখে কর্মের ভিতর জড়িয়ে রাখুন, শরীর চর্চার ব্যায়াম গুলোতে নিমজ্জিত রাখুন, নিজের কাজ নিজে করতে দিন। পর্যাপ্ত হাটা হাটি দৌড়া দৌড়িতে রাখুন, ঘরে বাইরে রক্ত সন্চলনের জন্য এক্সচার সাইজের সাইকেল, বা ইনস্টুমেন্টের ব্যবস্থা করুণ, সে স্বাভাবিক মানুষের মত সব কিছুই করত সক্ষম সে কথা প্রতিটি মূহুর্তে স্মরণ করিয়ে দিন, দেখবেন শত বার্ষিকী পালন করছে হেসে খেলে ওয়েস্টার্ণদের মতো।
মানসিক শক্তি বড় শক্তি। কেউ বয়স নিয়ে নেগেটিভ কিছু বললে তার স্পর্শ থেকে তাকে আলাদ করুণ বলুন, বৃদ্ধতা কোনো অসুস্থতা নয় বরং জীবনের একটা স্বাভাবিক প্রসেস মাত্র। সবাই ভালো থাকুন। নিজেকে ভালো রাখুন। জীবনকে জানুন।

মায়েদুল ইসলাম তালুকদার, প্রবাসী লেখক এবং কবি ।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.