বুর্জোয়া দলের দায় ও মৌলবাদে আত্মসমর্পণ

 

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে জামাতে ইসলামীর ভূমিকা কি এবং কতটুকু ছিলো এ বিষয়ে আজকের তরুণ সমাজ খুব সামান্যই জানে। অনেকেই জামাতে ইসলামীকে অন্য সব স্বাধীনতা বিরোধী মৌলবাদী রাজনৈতিক দলের একটি হিসেবে বিবেচনা করেন। অথচ প্রকৃত সত্য এই যে, জামাতে ইসলামীর সঙ্গে মুসলিম লীগ, নেজামে ইসলামী প্রভৃতি সাম্প্রদায়িক দলের তৎকালীন কর্মকাণ্ডের মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে কিংবা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে জামাতে ইসলামীর ভূমিকা পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ছিল বৈরিতাপূর্ণ। আর পাকিস্তান সৃষ্টির পূর্বে এই দলটি পাকিস্তান আন্দোলনেরও বিরোধী ছিল। ইসলামের দোহাই দিয়ে রাজনীতি করলেও জামাতে ইসলামী যেমন পাকিস্তান আন্দোলনের ঘোরতর বিরোধী ছিল, তেমনি বিরোধী ছিল উপমহাদেশে বৃটিশ শাসন অবসানের। কখনও বিরোধীতা করেছে আন্দোলনের মূল স্রোতের বাইরে দাঁড়িয়ে, কখনও করেছে আন্দোলনের ভেতরে থেকেই। ইউরোপের ফ্যাসিবাদ ও নাৎসিবাদকে সমর্থন দিয়ে এবং সেই আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে জামাত ধর্মকে ব্যবহার করেছে নিজেদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনের জন্য।
জন্মলাভের পর থেকে জামাত এদেশে যে কাজটি করার জন্য নিজেদের তৈরি করেছে, অস্ত্রে শান দিয়েছে, সেই সুযোগ তারা পেয়েছিল ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের পর। যখন বর্বর পাকিস্তানী সামরিক জান্তা মানব ইতিহাসের নৃশংসতম হত্যাযজ্ঞটি এদেশে পরিচালিত করে, তখন জামাতে ইসলামী ছিল তাদের সবচেয়ে বড় অবলম্বন। বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে জামাতের বিরুদ্ধ-ভূমিকার প্রস্তুতি ছিল দীর্ঘদিনের। প্রথমে শান্তি কমিটি, তারপর রাজাকার বাহিনী এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে আলবদর, আলশামস বাহিনী গঠন করে তারা বাঙালি জাতির অস্তিত্বকে নিশ্চিহ্ন করার যে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছিল তার সঙ্গে হিটলার বা মুসোলিনীর আদর্শিক সাযুজ্য বিশেষভাবে লক্ষণীয়। ফ্যাসিস্ট আর নাৎসিদের দ্বারা সংগঠিত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন গণহত্যার সঙ্গে একাত্তরে আমাদের স্বাধীনতাযুদ্ধে জামাতীদের দ্বারা সংঘটিত গণহত্যা, নারী নির্যাতন, বুদ্ধিজীবী হত্যার কোন পার্থক্য নাই। জামাতের অতীত ইতিহাস, রাজনীতির স্বরূপ, সাম্প্রতিক পুনরুত্থান, সাংগঠনিক তৎপরতা, আন্তর্জাতিক যোগসূত্র, নৃশংসতার খতিয়ান – এই গ্রন্থে সম্পূর্ণ না হলেও আংশিক যতটুকু দেয়া হয়েছে তার দ্বারা এই দলটির চরিত্র ও উদ্দেশ্য অনুধাবন করা কঠিন হবে না।।

সাম্প্রতিক জামায়াতের দুর্গতির বিপরীতে উল্লাসভাব হেফাজতে। দিনকাল বেশ ভালো যাচ্ছে হেফাজত নেতা-কর্মীদের। নিত্য যোগ হচ্ছে নানা প্রাপ্তি। বিএনপির দীর্ঘদিনের সঙ্গী জামায়াত নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার নতুন কচলানিতে এ রিলাক্স হেফাজতের। বেমালুম হয়ে ঢাকা পড়ে যাচ্ছে হেফাজতি কাণ্ডকারখানার খবর। এই মুহূর্তে জামায়াতে ইসলামীই যেন একনম্বর এবং একমাত্র ইস্যু। হেফাজতসহ বাদবাকি সব তামাদি। ‘নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত ৪০টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ইসলামপন্থী ১১টি। আর নিবন্ধনের বাইরে তাদের সংখ্যা অগুনতি। হেফাজতে ইসলামসহ এ ধরনের দল শত শত। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটে থাকা একমাত্র ইসলামী দল বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন। ১৪ দলভুক্ত বলে সংগঠনটি সভা-সমাবেশের অনুমতি চাইলেই পায়। কিন্তু রাজপথে কর্মসূচি দেয়ার মতো সামর্থ নেই দলটির।’

টানা নীরবতা ভেঙে হঠাৎ লন্ডন থেকে ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের পদত্যাগ জামায়াতকে এনে দিয়েছে হটইস্যুতে। পদত্যাগের কারণ হিসেবে তিনি সামনে এনেছেন একাত্তরের অপরাধের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা না করা এবং দলের নাম ও নীতি পরিবর্তনে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অনিচ্ছার অজুহাত। এরও কদিন আগ থেকে জামায়াতের বিএনপি ত্যাগ নিয়ে আলোচনাটা জমে উঠছিল। ব্যারিস্টার রাজ্জাক তাতে দিলেন নতুন মাত্রা। ধর্মীয় কারণে বাংলাদেশ ইসলামী ধারার দলগুলোর জন্য উর্বরভূমি। কিন্তু তারা নিজস্ব প্লাটফর্ম তৈরি করতে পারেনি। ভর করেছে অন্যের প্লাটফর্মে। কখনো আওয়ামী লীগ, কখনো বিএনপির ওপর ভর করতে গিয়ে তাদের পায়ের নিচের মাটি সরে গেছে অনেক আগেই। ইসলামী দলগুলোর নেতাদের অনৈক্য, সংকীর্ণতা, ক্ষমতার মোহ দক্ষিণ ধারার রাজনীতি ভীতকে শুধু দুর্বল করেছে। ব্যক্তিগতভাবে নিজেরাও চলে গেছেন উচ্ছিষ্টের ভাগাড়ে। রাজনীতির বাজারের এ মন্দাদশা কাটানোর সামর্থ-প্রস্তুতি কোনোটাই আপাতত নেই ধর্মভিত্তিক দলগুলোর। সরকারি ঘরানা, বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলের শরিক, স্বতন্ত্র ধারাসহ সব ইসলামি দলেই প্রায় একই অবস্থা। আওয়ামী লীগে ভর করা দল ও নেতারা কোনো মতে টিকে আছেন টুকটাক ভাগেযোগে। অবস্থা-অবস্থান ভিন্ন শুধু হেফাজতের। এক সময় যেমনটি ছিল জামায়াতের।

রাজনীতিতে জামায়াতের উত্থান-পতন বরাবরই নাটকীয়তায় ঠাসা। সময়ে সময়ে বড় দুই দলই জামায়াতি মোয়া খেয়েছে। সমর্থন-সহায়তা দিয়ে মোটাতাজা করেছে। মণ্ডা-মিঠাই খেয়েছে জামায়াতের অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে। একে উত্থানের সুযোগ হিসেবে নিয়ে জামায়াত কখনো বিএনপির ঘাড়ে সওয়ার হয়েছে। কখনো আওয়ামী লীগের সঙ্গী হয়ে নিজের অবস্থান পোক্ত করেছে। যেই আওয়ামী লীগ যুদ্ধাপরাধের দায়ে জামায়াতের কয়েকজন নেতার বিচার করেছে। আবার এই আওয়ামী লীগই নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝিতে বিএনপির বিরুদ্ধে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলনে জামায়াতকে সঙ্গী করতে দ্বিধা করেনি। তখন চেতনার প্রশ্ন আসেনি। যাতনাও হয়নি। এরও আগে, এরশাদকে ক্ষমতায় রেখে বিএনপি ১৯৮৬ সালে নির্বাচন করতে রাজি না হলেও আওয়ামী লীগ ও জামায়াত তাতে অংশ নিয়েছিল। খালেদা জিয়ার প্রথম সরকারের আমলে (১৯৯১-৯৬) রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাসের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থী বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরীর পক্ষে জামায়াতের সমর্থন চেয়েছিল আওয়ামী লীগ। আবার ১৯৯৫-৯৬ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সংসদের ভেতরে- বাইরে সক্রিয় ছিল জামায়াত।

দক্ষিণপন্থী আরো প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী হেফাজতে ইসলামের উত্থানও সিনেমেটিক। কোনো কোনো ক্ষেত্রে হেফাজতের দর্শন জামায়াতের চেয়েও পশ্চাৎপদ। ভয়ঙ্কর। কয়েক দিন আগেও হেফাজতের আমির মেয়েদের ক্লাস ফাইভের বেশি না পড়ার ফতোয়া দিয়েছেন। বারণ করেছেন নারী-পুরুষ একসঙ্গে পড়াশোনা না করার। স্কুল কলেজে জেনা করা হয়। বলেছেন, নারী রোগীরা চিকিৎসার জন্য পুরুষ ডাক্তার দেখাতে পারবেন না। কখনো বিএনপি কখনো আওয়ামী লীগের ঘাড়ে সওয়ারি হয়ে অনেক পথ মাড়িয়ে এই গোষ্টিটি এখন বলবান-ধনবান। আওয়ামী লীগ থেকে কিছুদিন আগেও বলা হতো- বিএনপি, জামায়াত-হেফাজত একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। আর হেফাজতের কাণ্ডারি মাওলানা শফিকে ডাকা হতো তেঁতুল হুজুর নামে। আবার এই হেফাজতই বিএনপির মদদে ২০১৩ সালে কী কাণ্ডকারখানাই না করেছে। ঢাকা শহরে তাণ্ডব ঘটিয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার ঘোষিত শিক্ষানীতি ও নারী উন্নয়ন নীতি বাতিল চেয়েছে। সেই হেফাজতকে আচ্ছা মতো জব্দই করেনি, আয়ত্বেও নিয়েছে আওয়ামী লীগ। ম্যাজিক, নাটকীয়তার মতো হেফাজতও বিএনপিকে ছেড়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে মিতালি করেছে। তাদের আমির আল্লামা আহমদ শফী সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিশাল সমাবেশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি শোকরিয়া জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দিয়েছেন কওমী জননী খেতাব। নীতি-আদর্শের দুর্ভিক্ষের এ সুযোগে তারা পাঠ্যপুস্তক পাল্টে নিয়েছে সরকারকে দিয়ে। হেফাজতের দাবি মেনে সরকার পাঠ্যপুস্তক থেকেও কথিত ‘অনৈসলামিক’ রচনাগুলো বাতিল করে দেয়। এমন কি তাদের সমাবেশের সুবিধার্থে পাবলিক পরীক্ষাও স্থগিতের নজির তৈরি করেছে অসাম্প্রদায়িকতার দাবিদার সরকার।

বিএনপির এ ধরনের জামাতি-হেফাজতি অন্যান্য মিত্ররাও এখন আওয়ামী লীগের আজ্ঞাবহ। প্রচণ্ডভাবে আওয়ামী লীগবিরোধী মাওলানা ফজলুল হক আমিনীর ইসলামী ঐক্যজোট এখন আর বিএনপির সঙ্গে নেই। খেলাফত মজলিসের একাংশও ছুটে গেছে বিএনপি থেকে। রাজনীতির দক্ষিণ আকাশে দুর্যোগের ঘনঘটা ঘটাতে রাজনৈতিকভাবে সাফল্যের শীর্ষে আওয়ামী লীগ। অবশ্য নিজেদের এ পরিণতি ডেকে আনার পেছনে দক্ষিণপন্থীদের নিজেদের অবদানও ব্যাপক। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির লেজুড়বৃত্তির জেরে নিজেদের তেজ-জৌলুস অবশিষ্ট রাখেনি তারা।

সম্প্রতি আবার জামাত বিলুপ্তি করে নুতন নামে আত্বপ্রকাশের একটি ডামাডোল শোনা যাচ্ছে। আর এক্ষেত্রে সরকারি দল এবং তাদের সেবাদাস সুশীলগন বিভিন্ন মিডিয়া এবং টকশোতে বিষয়টি যেভাবে চাউর করে চলেছেন তাতে সহজেই অনুমেয় এখানেও ডাল মে কুচ কালা হায়।
যেখানে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন এর জন্য নির্বাচন কমিশন আইন বলবত আছে সেখানে একটি যুদ্ধাপরাধীদের দল কিভাবে নুতন নামে নিবন্ধন পেতে পারে সে আলোচনায় কেউ না গিয়ে তারা জামাত যদি মহান মুক্তিযুদ্ধকালের কৃতকর্মর জন্য ক্ষমা চায় তবে তারা নুতনভাবে আসতে পারে এজাতীয় আলোচনায় ব্যস্ত।। আসলে বর্তমানে দেশের দুটি বুর্জোয়া দলই সংকট এ পতিত হয়েছে।বিগত নির্বাচন থেকেই দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মুরব্বিরা বুঝতে সক্ষম হয়েছেন যে বাংলাদেশে দীর্ঘ ৪৮ বছর পালাক্রমে দুই বুর্জোয়া দল ক্ষমতাসীন থেকে দেশের পুঁজিবাদী গোষ্ঠীকে যে অবাধ লুটপাট এর সুযোগ করে দিয়েছিল তাতে ভাটার টান পড়েছে।দেশের জনগণ আর এই দুই বুর্জোয়া দলের প্রতি আস্থাশীল নয়।।সেকারণের দেশের পুঁজিবাদী গোষ্ঠী তাদের লুটপাট এর অবাধ প্রবাহ ধরে রাখতেই দেশের বর্তমান বিরোধী দলের রাজনৈতিক শুন্যতার সুযোগে জামাতকে বিলুপ্তি করে তাদেরই অপভ্রংশকে নিয়ে একটি নুতন রাজনৈতিক শক্তির বিকাশের চেষ্টা চালাচ্ছে যার সাথে তাদের আন্তর্জাতিক মুরব্বীরাও জড়িত।আর দেশের ক্ষমতাসীন ও ক্ষমতা বহির্ভূত বুর্জোয়া দলসমুহের আচরণ থেকেও মনে হচ্ছে একাজে তাদেরও সায় আছে।।

আজকে একজন সাবেক বামপন্থী নেতা যিনি বর্তমান সরকারি দলীয় জোটভুক্ত তিনিও এক আলোচনা সভায় বলেছেন বর্তমান সরকারি দল আওয়ামীলীগ এর বিকল্প কোন বিরোধী দল দেশে নেই। বিএনপি জামায়াত বিকল্প হওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে। কারণ যুদ্ধাপরাধীদের দেশের জনগণ বর্জন করেছে। জামায়াতের কেউ কেউ এখন ক্ষমা চাইতে রাজি। অবশ্যই তাদের ক্ষমা চাইতে হবে। তবে সেটা হতে হবে মুক্তিযুদ্ধকে স্বীকার করে। এছাড়া জামায়াতের কেউ কেউ সংস্কারের কথা বলে। এ সংস্কার হতে হবে একে পার্টির মতো, মুসলিমদের মতো। এরপর যে জামায়াত আসবে তারা জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদ ত্যাগ করেছে কিনা তা এখন থেকেই ভাবতে হবে।পক্ষান্তরে তিনিও জামাতের ভিন্নতর উপায়ের উত্থানকে গ্রহণ করে নিচ্ছেন যা হতে পারে আগামীর বাংলাদেশের জন্য অশনিসংকেত।।

সরকারি দল বা তাদের জোট যদি শুধুমাত্র ক্ষমতাকেন্দিক রাজনীতির বিবেচনায় জনগনকে জঙ্গীবাদ,সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী ঘোরটেপে আটকাতে তাদের আগামী রাজনীতির ধারাবাহিকতা রক্ষায় বিকল্প নয়া জামাত সৃষ্টির চেষ্টা করে সেটা তাদের জন্য বুমেরাং হবে।।

মুক্তিযুদ্ধকে মেনে নেয়া অথবা এর বিরোধীতার জন্য ক্ষমা চাওয়াই যথেষ্ট নয়, মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক চেতনাকেও একইভাবে মানতে হবে। সংস্কারের নামে একটি নতুন জামায়াত তৈরি করা যাবে না। সেটা হবে আরও প্রতারণামূলক ও ভয়ংকর। তুরস্কের একে পার্টি, মিসরের মুসরির শাসন তারই প্রমাণ দেয়। সে কারণেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা অনুসরণে একটি অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক সমতাভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লড়াইকে জরুরি ধরে অগ্রসর হতে হবে।

সামাজিক মুক্তির মধ্যেই ব্যক্তির মুক্তি নিহিত। সামাজিক মুক্তির জন্যে চাই সামাজিক বিপ্লব। বিপ্লবের জন্যে চাই বিপ্লবী পার্টি। সে পার্টি না থাকলে গড়ে তুলতে হবে। বিপ্লবী পার্টি গড়ে তোলার কাজটা সহজসাধ্য নয়। জটিল ও কঠিন। কোনো উদ্যোগ ব্যর্থ হতে পারে। একাধিক উদ্যোগ ব্যর্থ হতে পারে। তবু্ও, থেমে থাকলে চলবে না। নতুন উদ্যোগ নিতে হবে। নতুন উদ্যোগের সাথে থাকতে হবে। হতাশ হয়ে হাল ছেড়ে দিলে চলবে না। হাল ছেড়ে দিলে শোষণ-দুঃশাসন আরও দীর্ঘায়িত হবে।।

আহমেদ ফজলুর রহমান

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ।

 

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.