ঢাকা সিটি নির্বাচন: জয় পেতে আওয়ামী লীগের এবারের কৌশল

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নতুন কৌশল নিচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। তারা এবার বিরোধীদের ইস্যু দিতে চায় না। এছাড়া বিএনপির বিভ্রান্তির ফাঁদ নিয়ে সতর্ক নেতাকর্মীরা। সূত্র জানায়, দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হওয়ার কারণে সিটি করপোরেশন নির্বাচন চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে কাজ করছে আওয়ামী লীগ। বিশেষ করে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার নির্দেশের পর এ নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে জয়ের লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছেন দলটির নেতাকর্মীরা। জয়ের বিষয়টি মাথায় রাখার পাশাপাশি এ নির্বাচনের মাধ্যমে বিরোধী পক্ষ যেন কোনো ধরনের ইস্যু তৈরি করতে না পারে, সেটিকেও মাথায় রাখছেন শাসক দলের নেতারা। বিশেষ করে নির্বাচনি আচরণবিধি মেনে চলার পাশাপাশি অন্য দলের প্রার্থীদের নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণায় কোনো ধরনের বাধা না দেওয়ার বিষয়টিকেও গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন তারা। সরকারের লক্ষ্য বিতর্কমুক্ত নির্বাচন করার মধ্য দিয়ে ইভিএমের পক্ষে অবস্থান আরও জোরালো করা এবং সবার কাছে গ্রহণযোগ্য করা।

আওয়ামী লীগের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গেল নির্বাচনের মতো এবারের সিটি নির্বাচনও মূলত নৌকা ও ধানের শীষের প্রার্থীর মধ্যে হবে এমনটা ধরেই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েছে আওয়ামী লীগের হাই কমান্ড। এজন্য এবার সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে শুরু থেকেই শতর্ক আওয়ামী লীগ। মূলত এ কারণে উত্তরে আগের প্রার্থী অতিকুল ইসলামকে মনোনয়ন দেওয়া হলেও বিতর্ক এড়াতে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে প্রার্থী পরিবর্তন করা হয়। ওখানে সাঈদ খোকনের পরিবর্তে ঢাকা ১০ আসনের এমপি ফজলে নূর তাপসকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়। মূলত ক্লিন ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য প্রার্থী নির্ধারণকে গুরুত্ব দিয়ে প্রার্থিতা নির্ধারণ করার জন্য এমনটা করা হয়েছে। এতে প্রাথমিকভাবেই ধানের শীষের প্রার্থীদের থেকে এগিয়ে রয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনিত নৌকার প্রার্থীরা। মূলত এ কারণে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা বিএনপি নেতাদের বক্তব্যের কাউন্টার দিচ্ছেন খুব কৌশলে।

আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিএনপি নেতাদের সব অভিযোগ বা বক্তব্যের কাউন্টার খুব হিসেব করেই দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে বিএনপি নেতারা শুরু থেকেই ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) নিয়ে একটা ইস্যু বানানোর চেষ্টা করে আসছেন। কিন্তু তাদের সেই সুযোগ দেওয়া হয়নি। আমাদের নেতারা এ ইস্যুতে পাল্টা বক্তব্য দেননি। কারণ, এটা ইসির বিষয়। এ বিষয় নিয়ে আমাদের খুব বেশি কথা বলার দরকার নেই। আর ইভিএম নিয়ে কোনো বিতর্ক হোক, এটা আমরা কখনওই চাই না। আওয়ামী লীগ সব সময় নতুন প্রযুক্তির পক্ষে। এটা সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হোক, আমরা সেটাই চাই। কিন্তু বিএনপি এটা নিয়ে নানা ধরনের বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়ে এটা বিতর্ক করতে চাচ্ছেন।

অন্যদিকে নির্বাচনের লেবেলপ্লেইং ফিল্ড নিয়ে বিএনপি নেতাদের অভিযোগের পাল্টা রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনিকভাবে পদক্ষেপের অংশ হিসেবে ইসির কাছে গিয়ে আইন সংশোধনের দাবি জানানো হয়েছে আমাদের পক্ষ থেকে। এজন্য বিষয়টি নিয়ে আমাদের নেতারাও প্রতিদিন বক্তব্য দিয়ে এর যুক্তি তুলে ধরার চেষ্টা করছেন, আইন সংশোধনের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করছেন। নির্বাচনি পরিবেশ যেন কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় বা বিএনপি যেন কোনো বিষয়কে ইস্যু বানাতে না পারে, সে বিষয়ে আমরা সতর্ক রয়েছি।

এজন্য আমাদের দলের পক্ষ থেকে মন্ত্রী-এমপিদের নির্বাচনি আচরণবিধি মেনে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। খুব কৌশলে ও যৌক্তিকভাবেই বিএনপি নেতাদের অভিযোগের কাউন্টার দেওয়া হচ্ছে। এজন্য বিএনপি নেতারা যখন এমপি-মন্ত্রীদের প্রচারণার অংশ নেওয়ার বিষয়টিকে ইস্যু বিরোধীদের ইস্যু দিতে বানানোর জন্য বক্তব্য দিচ্ছেন, তখন আমাদের পক্ষ থেকে এমন প্রশ্ন তোলা হয়েছে যে এমপি-মন্ত্রী নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নিতে সমস্যা তাহলে সাবেক এমপি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নেওয়াটা আইনে বাধা হবে না কেন? এজন্য ইসির কাছে আমরা আইন সংশোধনের দাবিও জানিয়েছি।

আওয়ামী লীগের অন্যতম প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুর রহমান বলেন, এ নির্বাচনের মধ্যদিয়ে বিএনপির হাতে কোনো ইস্যু তুলে দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। আমরা বিশ্বাস করি, নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে। নির্বাচনে হার-জিত আছে, ফল যাই হোক তা মেনে নেওয়ার মানসিকতা থাকাটাই সবার জন্য মঙ্গলকর হবে। আর বিএনপি কেন্দ্রীয় নেতারা এ নির্বাচন সামনে রেখে শুরু থেকেই ভিত্তিহীন অভিযোগ করছে। তারা তাদের মিথ্যাচারের রাজনীতির মাধ্যমে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। এজন্য আমরা আমাদের নেতাকর্মীদেরও সজাগ ও সতর্ক থাকতে বলেছি, যেন তারা কোনো ইস্যু বানানোর সুযোগ না পায়।

শুদ্ধস্বর/আইকে

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.