গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের এক বছর পূর্ণ হওয়া উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে বাম গণতান্ত্রিক জোটের কালো পতাকা মিছিলে পুলিশী হামলায় শতাধিক নেতা-কর্মী আহত হয়। এই হামলার প্রতিবাদে সন্ত্রাস বিরোধী ছাত্র ঐক্যের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে।
আজ সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে রাজু ভাষ্কর্যে সমাবেশ করে।
সন্ত্রাসবিরোধী ছাত্র ঐক্যের সমন্বয়ক ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সভাপতি আল কাদেরী জয়ের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতা ও ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেন, ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি মেহেদী হাসান, বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর কেন্দ্রীয় সভাপতি ইকবাল কবীর, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন প্রিন্স, ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অনিক রায় , সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি জয়দ্বীপ ভট্টাচার্য, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুনয়ন চাকমা, নাগরিক ছাত্র ঐক্যের নেতা সাকিব আনোয়ার ।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেন, শান্তিপূর্ন কর্মসূচিতে পুলিশের এমন হামলা সরকারের ফ্যাসিবাদী আচরণের বহি:প্রকাশ। নেতৃবৃন্দ এই হামলার তীব্র নিন্দা জানান।
উল্লেখ্য , আওয়ামী ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে এবং অবিলম্বে ভোট ডাকাতির সরকারের পদত্যাগ দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে বাম গণতান্ত্রিক জোটের কালো পতাকা মিছিলে পুলিশের হামলায় অন্তত অর্ধশত আহত ও মৎস্যভবন এলাকা থেকে ১০ জনকে আটক করা হয়েছে ।
গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট ডাকাতির প্রতিবাদে ‘কালো দিবস’ হিসেবে পালনের অংশ হিসেবে সোমবার ( ৩০ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সমাবেশের পর বেলা সাড়ে ১২টার দিকে কালো পতাকা মিছিল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে যাত্রা শুরু করে বাম জোটের নেতা-কর্মীরা। কদম ফোয়ারার সামনে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে মিছিলটি সামনের দিকে এগোতে থাকলে পুলিশ জোটের মিছিলে হামলা করে।
ঘটনাস্থলে দফায় দফায় পুলিশের সঙ্গে বাম নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন।
বাম জোটের এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বাসদ-এর রাজেকুজ্জামান রতন, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশুসহ অন্যরা।
বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন জানান, শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল মিছিলে পুলিশ হামলা চালিয়েছে। হামলায় আমাদের অন্তত ৫০ জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছে।
সংঘর্ষে বাম জোটের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশের লাঠিচার্জের শিকার হয়েছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাসুদ রানা ।
শুদ্ধস্বর/আইপি

