উদারনৈতিক গণতন্ত্র কেন অপরিহার্য

অ্যাডভোকেট আনসার খান :বিশ্ব ব্যবস্থায় বিদ্যমান রাষ্ট্রগুলোতে এখনো শাসন ব্যবস্থার অপরিহার্য্য উপাদান হলো গণতন্ত্র। গণতন্ত্রের বহুবিধ সমালোচনা এবং অপকারিতা রয়েছে বলে অনেকেই মন্তব্য করে থাকেন, তা সত্বেও গণতন্ত্রকে একটা জীবন ব্যবস্থা হিসেবেই গণ্য করা হয়ে থাকে। বিশ্বের দেশে দেশে মানুষ এখনো গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করে চলেছে। বিস্তৃত সংখ্যাগরিষ্ট বিশ্বের গণতন্ত্রই হলো রাজনৈতিক বৈধতার একমাত্র চালু উৎস।
তবে গণতন্ত্রের কোনো সহজ সরল অবয়ব নেই। নবম শতকের প্রাচীন গ্রীকে গণতন্ত্রের উৎপত্তিকালে; অর্থাৎ ঐতিহাসিক ও দার্শনিক হেরোডোটাসের সময়কাল থেকে গণতন্ত্র বা ইংরেজী ডেমোক্র্যাসি-দ্য রুল অব দ্য পিপল বা জনগণের শাসন হিসেবে গণ্য হয়ে আসছে।
আধুনিক কালে গণতন্ত্র আরো ব্যাপকতা লাভ করেছে,-এটা ক্রমেই হয়ে ওঠছে জীবন ব্যবস্থামুখি। গণতন্ত্রায়ন প্রক্রিয়া কার্যত: পদসোপানের ভিত্তি ভেঙ্গে দিয়ে ব্যক্তিকে করেছে শক্তিশালী, আর সমাজের রূপান্তর ঘটাচ্ছে-যা খুবই উত্তমরূপেই তাদের রাজনৈতিক ভাবনাকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে, সমাজে ও রাষ্ট্র ব্যবস্থায় আসছে বহুমুখি পরিবর্তন। সমাজের এ রূপান্তর ও পরিবর্তনশীলতার সাথে ব্যাপক সংখ্যক নারী পুরুষ জনতা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সাথে অংশ গ্রহণ করে পুরো গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে আরো বেশি মাত্রায় কার্যকর ও প্রাণবন্ত করে তুলছে।
গণতন্ত্রে ব্যাপক মানুষের অংশ গ্রহণের মাধ্যম হচ্ছে নির্বাচন। দ্য থার্ড ওয়েভে রাষ্ট্র বিজ্ঞানী সামুয়েল পি, হ্যান্টিংটন বলেন, গণতন্ত্রের জন্য মুক্ত, স্বচ্ছ, কারচুপিমুক্ত এবং সকলের নিকট গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হলো অপরিহার্য শর্ত ও উপাদান। তাই যেনতেন প্রকারের নির্বাচন যা জনগণের নিকট গ্রহণযোগ্য হলো না-সে ধরনের নির্বাচন গণতন্ত্রের জন্য মঙ্গলজনক নয়। বরং এধরনের অগ্রহণযোগ্য নির্বাচন গণতন্ত্রের কবর রচনা করে থাকে। এ সম্পর্কে চমৎকার এক উদাহরণ দিয়েছিলেন সাবেক মার্কিন কূটনৈতিক রিচার্ড হলব্রুক। ১৯৯০ এর দশকে অনুষ্ঠিত যোগোশ্লাভিয়ার এক নির্বাচন প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে ঐ কূটনৈতিক বলেছিলেন, ‘ধরুন নির্বাচন সুষ্ঠু, সুন্দর ও নিরপেক্ষভাবেই হলো এবং সে নির্বাচন হলো বর্ণবাদী, ফ্যাসিবাদী এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী ধাঁচে,-তাহলে সেটা কী প্রকৃত গণতান্ত্রিক নির্বাচনের আওতায় পড়বে। সে নির্বাচনে গঠিত সরকারকেই কী গণতান্ত্রিক সরকার বলা যাবে? এটা হলো উভয় সংকট। কেননা, নির্বাচন হলো সত্য; কিন্তু গণতন্ত্রের প্রকৃত সংজ্ঞায় এটাকে বৈধ নির্বাচন বলা যাবে না; অথচ যারা নির্বাচিত হয়েছে বলে দাবি করছে তাদের দৃষ্টিতে এটাই প্রকৃত নির্বাচন।
পৃথিবীর প্রায় দেশেই এখন দেখা গেছে, ক্ষমতার জন্য দেশের বিদ্যমান সাংবিধানিক সীমা লংঘন করে যেনতেনভাবে একটা সাধারণ নির্বাচন করে জোর করে রাষ্ট্র ক্ষমতা ধরে রাখছে এবং নিজেদেরকে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার হিসেবে পরিচয় দিচ্ছে, এটা কিন্তু গণতন্ত্রের সাথে এবং নিজের দেশের জনগণের সাথে প্রতারণার শামিল হয়ে যায়।
এই যে গলা ফাটিয়ে নিজেদের সরকারকে গণতান্ত্রিক সরকার বলে দাবি করছে সেটাও এক ধরনের গণতন্ত্র। তবে প্রকৃত গণতন্ত্র নয়, রাষ্ট্র বিজ্ঞানীরা এটাকে অনুদার গণতন্ত্র বলে অভিহিত করেছেন। তবে, এ ধরনের গণতন্ত্র দেশের গণ মানুষের আকাংখার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয় বলে জনগণের নিকট এটা গ্রহণযোগ্য তা পায় না। কারণ, গণতন্ত্র বলতেই মানুষের মধ্যে উদার গণতন্ত্রের ধারাই ফুঁটে ওঠে। যেহেতু বর্তমান বিশ্ব ব্যবস্থায় গণতন্ত্র একটা জীবন ব্যবস্থা হিসেবে গণ্য হয়ে থাকে, সেহেতু উদার গণতন্ত্রটাই মানুষের প্রত্যাশা। কেননা, উদার গণতন্ত্র হলো-এমন একটা রাজনৈতিক ব্যবস্থা-যেখানে নির্বাচন হয়ে থাকে মুক্ত, স্বচ্ছ এবং স্বাধীন পরিবেশে, ভোটাররা নির্ভয়ে তাদের পছন্দের রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীকে ভোট প্রদান করতে পারেন। যেমন-গত ১২ ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত ব্রিটিশ নির্বাচনকে উদারনৈতিক গণতন্ত্রের একটা উদাহরণমূলক নির্বাচন হিসেবে বিবেচনা করা যায়।
উদারনৈতিক গণতন্ত্র এমন এক গণতন্ত্র যেখানে কেবলমাত্র সুষ্ঠু গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই হবে না, সে সঙ্গে তা হবে আইনের শাসন সম্বলিত, সেখানে থাকবে ক্ষমতার স্বতন্ত্রীকরণ, মত প্রকাশের স্বাধীনতার সংরক্ষণ ও নিশ্চয়তা, সমবেত হওয়ার অধিকার, নিজ নিজ পছন্দ অনুযায়ী ধর্ম চর্চা করার অধিকার, আইনের দৃষ্টিতে সকল মানুষের সমানাধিকারের নিশ্চয়তা বিধান, স্বাধীন নিরপেক্ষ ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপমুক্ত বিচার ব্যবস্থা, ব্যক্তির নিরাপত্তা ও সম্পত্তির অধিকার সংরক্ষণের নিশ্চয়তা এবং এগুলো হচ্ছে গণতন্ত্রের জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম শর্ত।
তবে স্বাধীন নির্বাচন ব্যবস্থা গণতন্ত্রের মূল মানদন্ড হিসেবে স্বীকৃত। জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন স্বাধীন নির্বাচনকে ধ্বংস করা, নির্বাচনে কারচুপি করার মাধ্যমে জনগণের প্রদত্ত ভোটের ফলাফল পাল্টে দেওয়া, মিডিয়া ও মত প্রকাশে বাধাদান, ক্ষেত্র বিশেষে সেন্সরশীপ আরোপ, জেল-জুলুম-নির্যাতনের দ্বারা বিরোধী মত ও বিরোধী দল দমনের চেষ্টা করা, রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করা ইত্যাদি দমনমূলক অস্তিত্ব সেখানে-যে দেশে প্রচলিত আছে-সেখানে গণতন্ত্র পদবাচ্যটা অর্থহীন হয়ে পড়ে; গণতন্ত্রের আত্মগত অর্থ, একটা উত্তম সরকারের ধারণা ও কার্যক্রম নিরর্থক হয়ে যায়।
গণতন্ত্রের দীর্ঘ ক্রমবিকাশের ধারায় নানারূপে গণতন্ত্রকে দেখেছেন বিশ্ববাসী। তবে বিংশ শতকের শেষ প্রান্তে এবং একুশ শতকে গণতন্ত্রকে-‘উদার এবং অনুদার’ এ দু’টি ধারায় ভাগ করে মূল্যায়ন করা হয়ে থাকে। সাধারণত: পশ্চিমা বিশ্বের গণতন্ত্রগুলো উদার গণতন্ত্রের আওতার মধ্যে পড়ে। বাদবাকী বিশ্বে প্রচলিত গণতন্ত্রকে অনুদার গণতন্ত্র বলে অভিহিত করা হয়ে থাকে।
পশ্চিমা বিশ্বের দেশগুলোতে প্রচলিত গণতন্ত্র এ কারেণ উদার গণতন্ত্রের অন্তর্ভুক্ত যে, প্রকৃত গণতন্ত্রের মূল উপাদানগুলোর সাথে স্বাধীনতা বা লিবার্টি অঙ্গীভুত হয়ে আছে। এখানে রাষ্ট্র ক্ষমতা প্রতিটা শাখা-প্রশাখায় ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে, সরকার ও এর প্রত্যেকটা অঙ্গের মধ্যে ক্ষমতা এমনভাবে ভাগ করে দেয়া হয়েছে যে, কেউই বা কোনো কর্তৃপক্ষই অসীম ক্ষমতা ভোগ বা প্রয়োগ করার অধিকার পায় না। সকল কর্তৃপক্ষের ক্ষমতাই আইনের দ্বারা সীমাবদ্ধ ও নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে বলে এক কর্তৃপক্ষ অন্য কর্তৃপক্ষের ওপর হস্তক্ষেপ করতে পারে না। ফলে ব্যক্তির নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও অধিকার যেমন নিশ্চিত হয়েছে, তেমনি শাসক গোষ্ঠীর কর্তৃত্বের অসীমতা হ্রাস পেয়েছে। অর্থাৎ, গণতন্ত্রের উদারীকরণের ফলে প্রত্যেকেই তার নিজ নিজ স্বকীয়তায় শাসনের প্রতিটা ক্ষেত্রে সংযুক্ত হওয়ার অধিকার লাভ করেছে; অথচ কেউই (না শাসক বা না ব্যক্তি) এককভাবে ক্ষমতার চর্চা করতে বা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। অথচ সব কিছুই চলছে সুশৃঙ্খলভাবে আইনের বিধানের আওতায়। আর সেই আইন নিশ্চিত করছে সবার গণতান্ত্রিক অধিকার। আসলে উদারনৈতিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সমাজের সকল ক্ষেত্রে-সর্বত্র ক্রমবর্ধমান গণতন্ত্রায়ন পুরাতন ব্যবস্থাকে ভেঙে দিয়ে নতুন নতুন ব্যবস্থার উদ্ভবের জন্য পথ করে দিয়ে চলছে এবং প্রত্যেক মানুষের ইচ্ছায় ক্ষমতায়ন ক্রমাগতভাবে ব্যক্তির ক্ষমতায়ন ও স্বাধীনতা এবং সুখ-সমৃদ্ধি বৃদ্ধিতে সহায়ক হচ্ছে।
যেখানে সরকার নিশ্চিতভাবে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হয়ে থাকে এবং সে সঙ্গে সেখানে থাকে সাংবিধানিক আইন ও অধিকারসমূহ, থাকে হস্তক্ষেপমুক্ত স্বাধীন বিচার বিভাগ, শক্তিশালী রাজনৈতিক দল ব্যবস্থা, ব্যবসা-বাণিজ্য, প্রাইভেট সংঘ, শক্তিশালী স্থানীয় ও আঞ্চলিক প্রতিস্থানসমূহ; থাকে শক্তিশালী এলিট ও নাগরিক পেশাজীবী সমাজ-সে ধরনের ব্যবস্থাই হলো উদারনৈতিক গণতন্ত্রের উর্বর চারণভূমি। এসবের যোগফলেই গণতন্ত্রের কার্যকারিতা সুস্থির ও সুষ্ঠু হয়ে থাকে। উদার গণতন্ত্রের জন্য দরকার উচ্চ মাত্রার বহুমুখি সামাজিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা-যাতে করে কখনো একটা মতবাদ বা আইডিয়া এককভাবে প্রভাব-প্রতিপত্তি বা কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত করতে না পারে। কোনো একটা কর্তৃপক্ষ যাতে অন্য প্রতিষ্ঠান বা কর্তৃপক্ষের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে না পারে সেটা নিশ্চিত করাই উদারনৈতিক গণতন্ত্রের লক্ষ্য। এটা নিশ্চিত করার ওপরই উদারনৈতিক গণতন্ত্রের কার্যকারিতা ও সফলতা নির্ভর করে।
পৃথিবীর অধিকাংশ দেশেই গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা চালু আছে। তবে সব গণতন্ত্রই উদার গণতন্ত্রের আওতার মধ্যে পড়ে না। জনগণের সরাসরি ভোটে এসব দেশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও নির্বাচনগুলো হয় ত্রুটিযুক্ত, জনগণের নিকট অগ্রহণযোগ্য। অন্যদিকে, এসব দেশের নির্বাচিত কথিত সরকারগুলো অতি দ্রুতই স্বৈরতান্ত্রিক শাসকে পরিণত হয়ে যায়। প্রকৃতপক্ষে, সে সকল দেশে নির্বাচন কেবলমাত্র ক্ষমতার বৈধতার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এসব দেশ নির্বাচনের পথে থেকেও নির্বাচিত স্বৈরশাসনের পথে চলে এবং অধিকতরভাবে জনগণের স্বাধীনতা তত্ত্বগতভাবে মেনেও প্রকৃতপক্ষে এবং বাস্তবে সেটা লংঘন করে। অধিকন্তু, অর্থনীতি, রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও রাজনীতিতে দুর্নীতি অব্যাহত থাকে। এ সকল দেশে মূলত গণতন্ত্র ও কর্তৃত্বমূলক শাসনের সংমিশ্রণ দেখতে পাওয়া যায়। মূলত: এবং কার্যত: শাসন বিভাগ হয়ে ওঠে অপ্রতিদ্বন্দ্বি ক্ষমতার অধিকারী এবং রাষ্ট্রের অন্যান্য বিভাগ ও কর্তৃক্ষ শাসন বিভাগের আওতাধীন হয়ে পড়ে। আরো সুনির্দিষ্টভাবে বলতে গেলে, রাষ্ট্রের সকল বিভাগ ও কর্তৃপক্ষ মূলত: একক ব্যক্তির বা গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণাধীন হয়ে পড়ে।
এ ধরনের ব্যবস্থায় বিরোধী রাজনৈতিক দল ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবদমন করা হয় অত্যন্ত কঠোর ও নির্মমভাবে। এটাকে গণতান্ত্রিক শাসন বলে অভিহিত করার চেষ্টা করা হলেও সেটা গণতান্ত্রিক শাসন নয়, এটা হলো ফ্যাসিস্ট গণতন্ত্র বা বড়জোর এটাকে অনুদার গণতন্ত্র বলা যেতে পারে। কারণ, এ ধরনের গণতন্ত্রকে বলা হয় কর্তৃত্বমূলক গণতন্ত্র, যেখানে রাষ্ট্রীয় সকল ক্ষমতাকে একটা মাত্র জায়গায় বা একজন মাত্র ব্যক্তির হাতে কেন্দ্রীভূত করা হয়ে থাকে। আর সেটা প্রায়শঃই ঘটে সংবিধান বহির্ভুত উপায়ে। এ শাসনে সংবিধান থাকে; কিন্তু সংবিধান মানা হয় না।
প্রকৃতপক্ষে, এ সকল দেশের গণতন্ত্রের সাথে স্বৈরশাসনের খুব একটা পার্থক্য থাকে না। এ ধরনের গণতন্ত্রে নির্বাচিত সরকারগুলো জনগণের প্রতিনিধিত্বের দাবিদার হয়েও ক্ষমতার সীমা লংঘন করে সমাজের অন্যান্য উপাদানের ক্ষমতা ও অধিকার বেশ ব্যাপকভাবে পর্যুদস্ত করে থাকে। বিশেষভাবে, ক্ষমতার বিকল্প শাখা সমূহ; যেমন-শক্তিশালী আইন সভা, স্বাধীন বিচার বিভাগ, শক্তিশালী রাজনৈতিক দল ব্যবস্থা, স্থানীয় নাগরিক সমাজ ও সংবাদ মাধ্যমগুলোকে নিষ্ঠুর অবদমনের মাধ্যমে শাসন কর্তৃপক্ষের কর্তৃত্বেও নিয়ন্ত্রণে রাখতে সচেষ্ট থাকে। এমনকি, এসবের বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে থাকে। অর্থাৎ, এ ধরনের সরকার সর্বক্ষেত্রেই নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ও কর্তৃত্ব স্থাপন করতে সচেষ্ট থাকে। এ ধরনের অনিয়ন্ত্রিত কেন্দ্রীভূত ক্ষমতাধারী সরকার উদার গণতন্ত্রের বড় শত্রু।
অনুদার ফ্যাসিস্ট গণতান্ত্রিক নামধারী সরকার-নির্বাচিত সরকার দাবি করে কায়েম করে ত্রাসের রাজত্ব। সরবে-নীরবে সমতার বিভাজন ভঙ্গ করে মানবাধিকারের অবমাননা করে অতি মাত্রায় দুর্নীত করে লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করে এবং পক্ষান্তরে বিরোধী মত কঠোরভাবে দমন করে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় ত্রাস সৃষ্টি করে সুন্দর জীবন ব্যবস্থাকে তছনছ করে দেয়। গোটা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাটাকেই ধ্বংস করে দিয়ে কায়েম করে এক ব্যক্তির স্বৈরশাসন। ফলে এসব অনুদার এব ব্যক্তির শাসনে জনগণের জীবনে নেমে আসে দুর্বিসহ যন্ত্রণা। এসব সরকারগুলোর অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য হলো; জনগণের ওপর নিজেদের অন্যায্য, অগণতান্ত্রিক কর্তৃত্ব স্থাপনের মাধ্যমে অগণতান্ত্রিক সমাজ টিকিয়ে রেখে নিজেদের ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী করা। তবে-যেখানে এসব শাসন চলছে-সেসব দেশের ব্যাপক জনগণ কোনো না কোনোভাবেই এ সকল স্বৈরশাসকদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ আন্দোলন করে যাচ্ছে এবং সেখানে জনগণের আন্দোলন জয়যুক্ত হয়েছে-সেখানে স্বৈরশাসকের পতন ঘটেছে অত্যন্ত নির্মমভাবে।
যাহোক, বিশ্বে এখনো গণতন্ত্রের গ্রহণযোগ্যতা সর্বজনবিদিত; যদিও উদার এবং অনুদার গণতন্ত্রের মধ্যে এক ধরনের শীতল যুদ্ধ চলছে। তবে জনগণ উদারনৈতিক গণতন্ত্রেরই সমর্থক।
লেখক : আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষক।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.