ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজাপ্রাপ্ত শিশুদের কারামুক্তির নির্দেশ দিলেন হাইকোর্ট

ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজাপ্রাপ্ত ১৮ বছরের কম বয়সী সব শিশুকে কারামুক্তির দিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি মো. মাহমুদুল হাসান তালুকদারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন।

বৃহস্পতিবার একটি জাতীয় দৈনিকে ‘আইনে মানা, তবু ১২১ শিশুর দণ্ড’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

একই দিনে চিলড্রেন চ্যারিটি বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের পক্ষে বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন ব্যারিস্টার আবদুল হালিম।

ওই প্রতিবেদনে র্যা বের ভ্রাম্যমাণ আদালতে ১২১ শিশুকে সাজা দিয়ে তাদের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর তথ্য উল্লেখ করা হয়।

পত্রিকায় প্রকাশিত এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে স্বপ্রণোদিত হয়ে এ আদেশ জারি করলেন আদালত।

হাইকোর্ট তার আদেশে ভ্রাম্যমাণ আদালতে শিশুদের সাজা দেয়ার বিষয়টিকে অসাংবিধানিক, অবৈধ ও বাতিল বলে ঘোষণা করেন।

পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালত ইতিমধ্যে যেসব দণ্ড দিয়েছে, তাদের হাজত বা দ্রুত শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র থেকে ছেড়ে দিতে নির্দেশ দেন।

শুধু ভ্রাম্যমাণ আদালতই নয়, শিশু আদালত ব্যতীত অন্য যেকোনো আদালত যেসব শিশুকে দণ্ড দিয়েছেন, সেই শিশুদের ছয় মাসের জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। আর জামিনপ্রাপ্ত এসব শিশুর জামিননামা সংশ্লিষ্ট জেলা শিশু আদালত বরাবর জমা দিতে বলেছেন হাইকোর্ট।

আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে ওই ১২১ শিশুকে দণ্ড প্রদানকারী সংশ্লিষ্ট র্যা ব কর্মকর্তাদের (যারা অবৈধভাবে দণ্ড দিয়েছেন) এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে শিশুদের মামলার যাবতীয় নথি আলাদা করে দাখিল করতে বলেছেন আদালত।

ভ্রাম্যমাণ আদালত কর্তৃক পরিচালিত শিশুদের দণ্ড দেয়ার বিষয়ে শিশু আইন ও দণ্ডবিধির বিধিবহির্ভূত হওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের দণ্ড কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়েও আদালত রুল জারি করেছেন। সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের এসব রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

এ বিষয়ে ব্যারিস্টার আবদুল হালিম বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় খরচে এই আদেশের অনুলিপি সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো হবে। আদেশ পাওয়ার পর শিশুদের ছেড়ে দিতে হবে। আগামী ১৮ নভেম্বর-পরবর্তী আদেশের জন্য দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।’

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.