ঈদের নামাজের পরই আবার ফাঁকা হয়ে গেলো কাশ্মীরের রাস্তাঘাট

না কলরব শোনা যাচ্ছে মহল্লায়। রাস্তা থেকে সরে যাচ্ছে কাঁটাতারের বেড়া। পায়ে পায়ে ভিড় বাড়ছে পথে। ইদগাহে প্রার্থনার জন্য জড়ো হচ্ছেন মানুষ। গত এক সপ্তাহ ধরে, জম্মু-কাশ্মীরের কার্ফু-নিষেধাজ্ঞার চেনা ছবিটা হঠাৎ উধাও হয়ে গিয়েছিল সোমবার   ঈদের সকালে। কিন্তু, তা যেন সাময়িক। মসজিদে প্রার্থনা শেষ হতেই থমথমে পরিবেশ ফিরে এল উপত্যকায়। শুনশান হয়ে গেল রাস্তাঘাট।  কোথাও কোথাও ফের জারি করা হল নিষেধাজ্ঞা। কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে এ দিন এ ভাবেই ঈদ পালিত হল জম্মু-কাশ্মীরে।

রবিবারও, শ্রীনগরে কার্ফু জারি করা হয়েছিল। ঈদের  দিন অবশ্য তা তুলে নেওয়া হয়। তবে, বড়ো জমায়েত করে প্রার্থনার অনুমতি দেওয়া হয়নি। তার বদলে স্থানীয় মসজিদেই প্রার্থনা সারেন সাধারণ মানুষ। স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা, মেহবুবা মুফতি-সহ উপত্যকার বেশ কয়েকজন রাজনীতিককেও স্থানীয় মসজিদে প্রার্থনার অনুমতি দেওয়া হয়। কাশ্মীরের জনজীবন কতটা স্বাভাবিক তা তুলে ধরতে, এ দিনের নানা ছবি দেন জম্মু-কাশ্মীরের প্রশাসনিক আধিকারিকরা। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফেও জানানো হয়েছে, অনন্তনাগ, বদগাম, বারামুলা ও বন্দিপোরের সর্বত্র নির্বিঘ্নে প্রার্থনা মিটেছে। বারামুলার জামিয়া মসজিদে প্রায় ১০ হাজার মানুষের জমায়েত হয়েছিল বলেও দাবি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়।

 

এ দিন কার্যত নিরাপত্তার ঘেরাটোপে মুড়ে ফেলা হয় উপত্যকাকে। সকালে রাস্তার কাঁটাতারের বেড়া সরিয়ে দেওয়া হয়। তবে, শ্রীনগরে রাস্তার দু’ধারেই নিরাপত্তাকর্মীরা মোতায়েন ছিলেন। বিক্ষোভের আশঙ্কায় মজুত রাখা হয়েছিল জলকামানও।

 

 

কড়া নিরাপত্তার মধ্যেও, ঈদের দিনে উপত্যকায় বিক্ষিপ্ত বিক্ষোভের খবরও মিলেছে। শ্রীনগরে বিক্ষোভ দেখানো হয় বলে খবর প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স।

তবে, জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের অবশ্য দাবি, উপত্যকায় নির্বিঘ্নেই ঈদ পালিত হয়েছে। টুইটে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের তরফে ইমতিয়াজ হুসেন নামে এক আধিকারিক দাবি করেছেন, ‘এ দিন হাজার হাজার মানুষ শ্রদ্ধার সঙ্গে ও শান্তিতে ঈদের  প্রার্থনা সারেন।’ সাধারণ মানুষকে ইদের শুভেচ্ছাও জানিয়েছে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ। পুলিশের তরফে মিষ্টিও বিলি করা হয়।

 

 

প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে,  এ দিন শ্রীনগরে ব্যাঙ্ক ও এটিএমও খোলা ছিল। পশু বিক্রির জন্য খোলা ছিল ছ’টি মাণ্ডিও। সব্জি, গ্যাস সিলিন্ডার ও অন্যান্য় নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রশাসনের তরফে মোবাইল ভ্যান নামানো হয়েছিল বলেও জানিয়েছে প্রশাসন। জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যসচিব রোহিত কংশাল বলেছেন, ‘‘জম্মুতে পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ ইদগাহে প্রার্থনা সারেন। এ ছাড়া, শ্রীনগর, বারামুলা, রামবাণ, অনন্তনাগ, শোপিয়ান ও অবন্তীপোরা থেকেও সুষ্ঠু ভাবে প্রার্থনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।’’

 

দিনের শুরুটা অন্যরকম হলেও, প্রার্থনার শেষ হওয়ার পরই অনেক জায়গায় ফের বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে বলেও জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসন সূত্রে খবর। শ্রীনগরের ডেপুটি কমিশনার শাহিদ চৌধরি বলেছেন, ‘‘এ দিন সকালে ঈদের প্রার্থনার পর উপত্যকার বহু জায়গাতেই ফের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।’’ সূত্র রয়টার্স ।

শুদ্ধস্বর/এইচ বি

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.