বাংলাদেশে বন্দী অবস্থায় নির্যাতনের অভিযোগ জেনেভা ভিত্তিক মানবধিকার সংগঠনের

বাংলাদেশে ভিন্ন মতাবলম্বীদের কণ্ঠকে রুদ্ধ করতে আটক অবস্থায় বন্দিদের ওপর নানা রকম নির্যাতন চালায় আইন প্রয়োগকারী এজেন্সিগুলো। সোমবার যৌথভাবে এমন রিপোর্ট দিয়েছে জেনেভাভিত্তিক মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন ওয়ার্ল্ড অর্গানাইজেশন এগেইনস্ট টর্চার (ওএমসিটি) ও বাংলাদেশের মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন অধিকার। তবে সরকার এ রিপোর্টকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

‘সাইকেল অব ফিয়ার’ বা আতঙ্কের বৃত্তে শীর্ষক ৭৬ পৃষ্ঠার ওই রিপোর্টে অভিযোগ করা হয়, ২০০৯ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে কমপক্ষে ৩০০ ঘটনা যাচাইবাছাই করে ওই রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। এতে যোগ করা হয়েছে ভিকটিম, নাগরিক সমাজ ও আন্তর্জাতিক সংগঠন সব বিভিন্ন মাধ্যম থেকে প্রাপ্ত তথ্য। অভিযোগ করা হয়েছে, বন্দিদের ওপর চরম শারীরিক নির্যাতন করা হয়।

পায়ে বা হাঁটুতে গুলি করা হয়। হাড় ভেঙে দেয়া হয়। বাহুতে বা পায়ে ড্রিলিং করে ফুটো করে দেয়া হয়। ধর্ষণ করা হয়। মানসিক নির্যাতন করা হয়। সাজানো মৃত্যুদণ্ডের ভয় দেখানো হয়। হত্যার হুমকি দেয়া হয়। এতে আরো অভিযোগ করা হয়, নির্যাতনের অভিযোগ, জোরপূর্বক গুম ও বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড সাম্প্রতিক সময়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু এসব অভিযোগ তদন্ত করে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনতে ব্যর্থ হয়েছে সরকার। তবে এসব রিপোর্টকে প্রত্যাখ্যান করেছে সরকার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, আমরা জোর দিয়ে বলতে পারি, এই সরকারের জানামতে একটিও গুম বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হয়নি। তিনি আরো বলেছেন, গত ১০ বছর ধরে দেশে কোনো অনাচার নেই। ভিন্ন মতাবলম্বীদের কণ্ঠকে স্তব্ধ করে দিতে সরকার তার কোনো রাষ্ট্রযন্ত্রকে নির্যাতনে ব্যবহার করে নি।

তবে ওএমসিটির সেক্রেটারি জেনারেল জেরাল্ড স্ট্যাবেরক বলেছেন, ভীতি সৃষ্টি করতে নির্যাতনকে ব্যবহার করা হয়েছে। ভিন্নমতকে বন্ধ করে দিতে নির্যাতনকে ব্যবহার করা হয়েছে। জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায়ে নির্যাতন করা হয়েছে অথবা ঘুষ আদায় করতে দুর্নীতিপরায়ণ এজেন্টরা এটাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে। জেরাল্ড স্ট্যাবেরক বলেন, সমস্যার ভয়াবহতা সম্পর্কে স্বীকার করে নিতে আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই। একই সঙ্গে আইন প্রয়োগকারী ও বিচারিক ব্যবস্থা পুরোপুরি ঢেলে সাজানো শুরু করার আহ্বান জানাই।
শুদ্ধস্বর/এইচ বি

 

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.