১৭ কোটি মানুষকে আগের চেয়ে স্পষ্ট এবং সমান চোঁখে দেখবেন

গতকাল শুদ্ধস্বর ডটকম পত্রিকার সহকারী সম্পাদক বুলবুল তালুকদারের একটি  লেখা , রাজনৈতিক কলাম ” টেলিফোন কন্সপিরেসি , চিকিৎসা এবং বলিষ্ঠ সাংবাদিকতা ” এই আর্টিকলের বিষয়বস্তুকে বিবেচনায় নিয়ে ফেসবুকে জনাব মোস্তাক আহমেদ তার নিজেস্ব বিশ্লষণে এই লেখার বিষয়ে কিছু মতামত ও প্রশ্ন তুলেছেন । শুদ্ধস্বর ডটকম পত্রিকার বিষয়টি নজরে  আসায় , পত্রিকার পক্ষ থেকে জনাব মোস্তাক আহমেদের লেখাটি ছাপানোর সিদ্ধান্ত হয় । নিম্নে জনাব মোস্তাক আহমেদের লেখাটি ওনার ফেসবুক টাইম লাইন থেকে সম্পূর্ণ অপরিবর্তিত রেখে হুবুহু  ছাপানো হলো। এই মতামত বা বিশ্লষণের পরিপ্রেক্ষীতে লেখক তার নিজস্ব ব্যাখ্যাও  সময় করে প্রকাশ করিবেন।

 

“আশা করি এখন থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশের ১৭ কোটি মানুষকে আগের চেয়ে স্পষ্ট এবং সমান চোঁখে দেখবেন”।

BY MOSTAQUE AHMED
12 MAY 2019
———————x——————
———————x——————

অস্ট্রিয়ায় বসবাসকারী এক প্রিয় কলম যোদ্ধা ফেসবুক বন্ধু যিনি সাধারণত ভাল কবিতা, রাজনৈতিক প্রবন্ধ ও কলাম লিখে থাকেন। প্রতিদিনই তিনি বিভিন্ন বিষয়ে কিছু না কিছু লিখে থাকেন। রাজনীতির কোন কোন লেখায় আমার দ্বিমত থাকলেও তার লেখার আমি একজন ভক্ত।

কলকাতা হোটেলে খুব সকালে ঘুম থেকে জেগে ফেসবুকে সেই বন্ধুর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে ” টেলিফোন কন্সপিরেসি, চিকিৎসা এবং বলিষ্ঠ সাংবাদিকতা” নামে একটা পলিটিক্যাল স্ট্যাটাস চোখে পরল। পড়ে অস্বস্তি ভোগ করায় অনিচ্ছা সত্বেও এ বিষয়ে কিছু লিখা থেকে নিজেকে ফেরাতে পারলাম না।

কিছুদিন আগে দেখলাম লাইনে দাড়িয়ে শ্যামলীর চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে ১০ টাকার টিকেট কেটে চোঁখের ডাক্তার দেখালেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অথচ উনি বলেছিলেন, মরে গেলেও চিকিৎসার জন্য আমাকে বিদেশে নিবেন না। যাই হোক, আমাদের দেশের বিখ্যাত ডাক্তাররা ভরসা পেলেন না তাই শেষ পর্যন্ত মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে লন্ডন যেতে হল এবং সফল চিকিৎসার পর গতকাল শনিবার দেশে ফিরে এলেন।

আগে তিনি ঝাপসা দেখতেন এখন তিনি স্পষ্ট দেখতে পান। আলহামদুলিল্লাহ! আশা করি এখন থেকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সারা বাংলাদেশকে বিশেষ করে দেশের ১৭ কোটি মানুষকে আগের চেয়ে স্পষ্ট এবং সমান চোখে দেখতে পারবেন। সে যাই হোক, আমরা যারা অতি সাধারন নাগরিক। যারা শত কষ্ট সহ্য করেও নিজ দেশ ছেড়ে ইঊরোপ আমেরিকার দেশ গুলিতে পারি জমাইনি বা পারি জমানোর সামর্থ্য হয়নি।

আমাদের কাছে ভাল লাগত যদি শুনতাম যে,
আমাদের প্রধানমন্ত্রী অথবা বড় বড় মন্ত্রীরা নিজের চিকিৎসার জন্য সিরিয়াল নিয়ে লাইন ধরে ডাক্তার দেখাচ্ছেন এবং সেটা আমাদের প্রিয় ঢাকা শহরের বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারী হসপিটাল, ক্লিনিক ও ডক্টর চেম্বারে।

ভাল লাগত এজন্যে যে, আমরা তখন মনে করতে পারতাম আমাদের গোটা স্বাস্থ্য খাতের অনেক টা উন্নতি হয়েছে এবং আমাদের দেশেও এত উঁচু মানের ডাক্তার হয়েছে যে, রাষ্ট্র এবং সরকার প্রধান থেকে শুরু করে কাওকেই আর চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে হয়না। পাশা পাশি আইনের প্রতি শ্রদ্ধা, সাম্য ও অধিকার এমন যায়গায় পৌছেছে যে, দেশের প্রধানমন্ত্রীও আমাদের মত লাইন ধরে চিকিৎসার জন্য চোখের ডাক্তার দেখিয়ে থাকেন। আহা! কত স্বপ্ন!!

যাই হোক, আমাদের এই স্বপ্নটুকু দেখার অধিকার আছে এবং মাঝে মাঝে দেখি এতেই আমরা খুশী। অবশ্য প্রধান মন্ত্রী এবং মন্ত্রীরা লাইন ধরে সিরিয়াল নিয়ে ডাক্তার দেখাবেন বাস্তবতার সাথে এটা মানাবে না। এতে সাধারন মানুষের ভোগান্তী আরও বাড়বে বই কমবে না।

এবার আসা যাক, ফেসবুকে সেই বন্ধুর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে” টেলিফোন কন্সপিরেসি, চিকিৎসা এবং বলিষ্ঠ সাংবাদিকতা” নামে পলিটিক্যাল স্ট্যাটাস প্রসঙ্গে।

আমার বন্ধুটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হাসিখুশি ভাব সহ অনুষ্ঠানে সবার সাথে কন্ঠ মিলিয়ে গান করা কিংবা সাকিবের কান টেনে দেয়ার মত কিছু কাজের প্রসংশা করলেও ইনিয়ে বিনিয়ে বেশ কিছু অসংলগ্ন বাক্য উচ্চারন করেছেন।

যেমন, তারেকের বিরুদ্ধে টেলিফোন কন্সপিরেসি সহ বিচারপতিদের বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভুমিকাকে তিনি দ্বিচারিতা বলেছেন, এমন কি পেশার প্রতি সামান্য একটুও সম্মান থাকে বা ব্যক্তিগত লাজ লজ্জা থাকে তাহলে ডাক্তার/ সাংবাদিকদের অনেকের সাথে প্রধানমন্ত্রীরও পেশা ত্যাগ করা উচিত বলে তিনি মনে করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যুক্তরাজ্যে দশ দিনের সরকারি সফর কালে রাজনৈতিক আলোচনার প্রাসঙ্গিকতায় আমাদের প্রধানমন্ত্রী যদি বলেও থাকেন যে” তারেক কে জানিয়ে দিও, ও যদি বেশি বাড়াবাড়ি করে তাহলে ওর মা জেল থেকে বেড় হতে পারবে না”! যদিও বলেছেন কিনা, নাকি তার ভয়েসকে বিশেষ ভয়েস চেঞ্জার সফটওয়্যার দিয়ে কন্ঠ পরিবর্তন করে তারেকই উল্টো কন্সপিরেসি করেছেন এ বিষয়েও ব্যপক আলোচনা হচ্ছে সর্বত্র।

আর যদি তার মায়ের ব্যপারে সত্যই বলে থাকেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে তবে এ উক্তির সাথে বিচারপতিদের সাহসীকতা নিয়ে তার বক্তব্যকে দ্বিচারিতা বলা যায় না। সরকার আর বিচার বিভাগ যে পৃথক তা বলাই যায় এবং সেটা এ সরকারের সময়কালেই সবচেয়ে বেশী প্রস্ফুটিত হয়েছে।

দেশে সাহসী কোনো বিচারপতি নাই”? কথাটা আমার মনে হয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা মন থেকেই জানতে চেয়েছেন, সত্যিই বিতারিত প্রধান বিচারপতি তো পারতেন বার বার দেশে ফিরে আসার চেষ্টা করে সেই সাহসের পরিচয়টা দিতে।
তিনি আসতে পারবেন না, কারন তার সেই সৎ সাহস টুকু নেই। তিনি ভাল করেই জানেন তার দুর্বলতা।

এদিকে তারেকের মা অর্থাৎ এতিমদের অর্থ আত্মসাৎ সহ অন্যান্য মামলায় সাজা ভোগকারী বেগম খালেদা জিয়ার রায় গুলো কিন্তু দিয়েছে মহামান্য আদালত। সরকার শুধু সংবিধান অনুযায়ী তার অ্যাটর্নি জেনারেলকে বা বিভাগকে দিয়ে আইনগত বাধা বা ছাড় প্রধান করে থাকেন। আর সেই সরকারের প্রধান হচ্ছেন শেখ হাসিনা।

সুতরাং, লন্ডনের কোথায় গাড়িতে বসে যদি তারেককে নিয়ে কথাটা বলেও থাকেন আমি আমার যৎসামান্য রাজনৈতিক জ্ঞানে তিনি অনৈতিক বা অন্যায় কিছু করেছেন বলে মনে করিনা। তার শক্তিশালী আইন কর্মকর্তাদের ভরসায় তারেকের সম্ভাব্য বেয়াদবি ও বাড়াবারির আশংকায় সেকথা হয়ত বলেছেন।

সরকারের প্রধান হিসাবে তার ইচ্ছার প্রতফলন ঘটানোই হল তার নিজস্ব প্রধান আইন কর্মকর্তা ও অ্যাটর্নি বিভাগের কাজ। আর সেই ভরসায় হয়ত বলে থাকতে পারেন, “তারেক কে জানিয়ে দিও, ও যদি বেশি বাড়াবাড়ি করে তাহলে ওর মা জেল থেকে বেড় হতে পারবেন না”। কারন, তারেক রহমানের অতিত ইতিহাস সবার জানা ।

সবশেষে বন্ধুটি লিখেছেন, চলিতেছে সার্কাস, জনগণ আছে এখন এবাদত নিয়ে, সুতরাং চলুক। নিশ্চয়ই যা হবার সব ঈদের পরে হবে। তার শেষ কথার সাথে আমি শুধু যোগ করলাম “ঈদের পরে —– হবে, তবে কোন ঈদের পরে হবে তা জানিনা?  “সমাপ্ত”

22154256_1843314742349837_3768067708869398289_n

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.