ভূমধ্য সাগরে বাংলাদেশীদের করুন মৃত্যু এবং রাষ্ট্রের দায়

বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হয় প্রায় ৫ দশক আগে , মুক্তিযুদ্ধের সময় আমরা কিশোর ছিলাম মুক্তিযুদ্ধ পূর্ব আন্দোলন, সংগ্রামে কিছুটা হলেও সেই সময়ে অংশ নিয়েছি ,আমাদের চোখে মুখে তখন স্বপ্ন ছিল এই দেশ স্বাধীন হলে আমরা অন্তত অন্ন, বস্ত্র,খাদ্য, বাসস্থান এবং চিকিৎসার নিশ্চয়তা পাবো, স্বাধীনতাপূর্ব আন্দোলনে এই পাঁচটি মৌলিক দাবী নিয়ে আন্দোলনও হয়েছে । কিন্তু স্বাধীনতার ৫০ বছরের কাছাকাছিএসেও আমরা কিন্তু জনগণকে এই পাঁচটি মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা আমরা দিতে পারিনি । আমাদের তরুন সমাজের মধ্যে একটি ধারনা সৃষ্টি হয়েছিলো এই দেশে কিছু করা সম্ভব নয় যদি না পেছনে কোন রাজনৈতিক আশীর্বাদ না থাকে , এটা স্বাধীনতার পর থেকেই শুরু হয়েছিলো  এখনও চলছে , যদিও এর  ব্যতিক্রম ও আছে , প্রতিকুল অবস্থার মধ্যেও অনেকে অনেক কিছু করেছেন । তারপরও আমরা দেখছি আমাদের দেশ থেকে জনসংখ্যা রফতানি চলছেই , জনসংখ্যাকে সম্পদে পরিনত করে দেশের ভেতর কাজে লাগানো গেলে দেশ আরও এগিয়ে যেতো এটা বলার অপেক্ষা রাখে না । কিন্তু সেরকম কোন পদক্ষেপ রাষ্ট্র নিচ্ছে বলে আমরা দেখছিনা বরং বিদেশে মানব সম্পদ রফতানিতেই রাষ্ট্র বেশী মনযোগী ।

আমাদের নারীদেরও রফতানি করা হচ্ছে সৌদি আরব সহ মধ্যপ্রাচ্চ্যের বিভিন্ন দেশে এবং সেসব দেশ থেকে নির্যাতিত হয়ে দেশে ফিরে এসে করুন কাহিনী প্রকাশ করছে , মাঝে মধ্যেই সংবাদপত্রে প্রকাশ পায়  এই ফেরত আসা নারীদের কাহিনী যা শুনলে গা শিউরে উঠে । এইসব কাহিনী সংবাদপত্রে প্রকাশ হওয়ার পরও আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে কোন প্রতিবাদ করা হয়েছে কি না আমার জানানেই ।

মানুষ খুব স্বাভাবিক ভাবেই যাযাবরের মতোই তুলনামুলকভাবে যেখানে সুযোগ সুবিধা বেশী পাবে সে দিকেই মানুষ ছুটবে এতে দোষের কিছু নেই , কিন্তু একটি সিস্টেমের মধ্যে দিয়ে গেলে কোন সমস্যা থাকে না বা বিপদে পড়ার সম্ভাবনাও অনেক   কম থাকে ।বাংলাদেশের যুব সমাজের মধ্যে বিদেশ যাওয়ার ঝোঁক মারাত্মক ভাবেই রয়েছে  বৈধ ভাবে না যেতে পারলে অবৈধ পথ বেঁছে নেয় । এটা চলে আসছে ৮০ দশক থেকেই ৮০ দশকের আগে অনেক দেশেই আমাদের ভিসার প্রয়োজন হতনা, তাই সে সময় অবৈধভাবে আসার প্রশ্ন ছিল না । এখন অনেক দেশেই আমাদের ভিসা লাগে এবং তা পাওয়া সহজ নয় । তাই অনেকটা বিদেশে আসার নেশা   বা প্রয়োজনে অবৈধ পথে সাগর , পাহাড়, জঙ্গল পাড়ি দেয়ার ঝুঁকি নিচ্ছে কেউ হয়তো গন্তব্যে পৌঁছে যাচ্ছে , কেউ সাগরে ডুবে মারা যাচ্ছে , কেউ পুলিশের হাতে ধরা পরে জেল খাটছে ।ঠিক কত সংখ্যক বাংলাদেশের নাগরিক বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জেলে আছে তার সঠিক হিসাব মনে হয় রাষ্ট্রের কাছেও নেই এবং তা থাকারও কথা নয় । আমার মনে হয় রাষ্ট্রের কিছু দায় আছে তার নাগরিকদের জন্য , রাষ্ট্র থেকে উদ্যোগ নিয়ে জনসচেনতা তৈরি করা যাতে কেউ বিদেশে যাওয়ার জন্য অবৈধ পথ অবলম্বন না করে ,এবং দেশেই বেকার যুবকদের কর্ম সংস্থানের চেষ্টা করে যাতে সে দেশেই কিছু করতে পারে ,  এবং চাকরী দিতে না পারলে বেকার ভাতা দেয়া । শুধুই এটাই নয় দেশের জিনিসপত্রের দামের সাথে সঙ্গতি রেখে বেতন নির্ধারণ করা যাতে সে দেশেই সম্মানের সাথে বসবাস করতে পারে । এই রকম কিছু পদক্ষেপ যদি রাষ্ট্র নেয় তা হলে হয়তো অবৈধভাবে বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা কিছুটা হলেও কমবে ।  আমরা আশা করবো সাম্প্রতিক ভূমধ্য সাগর পাড়ি দিতে যেয়ে প্রায় ৩৭ জনের করুন মৃত্যুর পর সরকার বিষয়টি নিয়ে ভাববে এবং  এমন কিছু পদক্ষেপ নেবে যাতে আর কেউ অবৈধ পথে বিদেশে যেতে না পারে বা যেতে না হয় ।

হাবিব বাবুল। প্রধান সম্পাদক

শুদ্ধস্বর ডটকম ।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.