মোদীর বিজয় ও ভারতের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি

FB_IMG_1555553829150

অ্যাডভোকেট আনসার খান : ভারতের জাতীয় নির্বাচন পূর্ব এক উপ সম্পাদকীয় নিবন্ধে লিখেছিলাম-যেভাবে বিশ্বব্যাপী রক্ষণশীল জাতীয়তাবাদের জয়যাত্রা অব্যাহত আছে, যেমন শেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদ, খৃষ্টধর্মীয় জাতীয়তাবাদ, কনফুসিয়াস জাতীয়তাবাদ মাথাঝাড়া দিয়ে ওঠেছে-সেদিক বিবেচনায় নিলে ভারতে হিন্দুত্ববাদী জাতীয়তাবাদকেও অবহেলা করার নয়। এ দেশটায়ও অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক জাতীয়তাবাদের বুকের ওপর হিন্দুত্ববাদী জাতীয়তাবাদের বিকাশ ঘটে চলেছে। বিকাশমান এই উগ্র জাতীয়তাবাদ ভারতের অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি ও সমাজ ব্যবস্থার জন্য বিপজ্জনক হয়ে ওঠার সমূহ আশঙ্কা রয়েছে।
ভারতে এই উগ্র জাতীয়তাবাদের চাষ করে চলেছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ এবং এটা সর্বজনগ্রাহ্য যে, নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপির পিতৃসংগঠন হলো রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ বা আর.এস.এস। সে হিসেবে ভারতে উগ্র হিন্দুত্ববাদী জাতীয়তাবাদের সম্মুখসারির প্রকাশ্য সংগঠন হলো বিজেপি এবং ২০১৪ সাল থেকে এই বিজেপিকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন নরেন্দ্র মোদী। তাঁরই নেতৃত্বে বিজেপি প্রথম বারের মতো ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের নেতৃত্ব গ্রহণ করেছিলো জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ২০১৪ সালে।
২০১৪ সালে বিজেপি জিতে যাওয়ার মধ্য দিয়েই ভারতে অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির পেছন যাত্রা শুরু হয়েছিলো এবং পক্ষান্তরে গেরুয়া বসনে আবৃত্ত উগ্র সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিজয় পতাকার উড্ডীন হয়েছিলো ভারতের আকাশে। এই যে গেরুয়া বসনে আবৃত্ত উগ্র সাম্প্রদায়িক রাজনীতি তার সহজবোধ্য পরিচয় হলো-‘হিন্দুত্ববাদ’।
হিন্দুত্ববাদের উগ্র রাজনীতির চাষ ও বিকাশ ভারতে যেভাবে হচ্ছে তা দেখে আমি লিখেছিলাম- সকল দিক বিবেচনা করলে নরেন্দ্র মোদী ২০১৯ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নহেন, এটা ভাবাই যায় না। অর্থাৎ আমি ধরেই নিয়েছিলাম ২০১৯ সালের ভারতের জাতীয় নির্বাচনেও হিন্দুত্ববাদী জাতীয়তাবাদের বিজয় অনিবার্য এবং সে ক্ষেত্রে মোদীই হবেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী। বাস্তবে তাই ঘটেছে, ২০১৯ সালেও বিজয়ী হয়েছেন নরেন্দ্র মোদী।
তবে ২০১৪ সালের নির্বাচনে যে হারে হিন্দুত্ববাদের বিজয় কেতন উড়েছিলো, ২০১৯ সালে হয়তো সে উত্তাপটা কমে আসবে বলে মনে করা হয়েছিলো। কিন্তু বাস্তবে ঘটেছে তার উল্টোটা। ২০১৯ সালে এসে হিন্দুত্ববাদ সারা ভারতের প্রতিটি অঞ্চলে ব্যাপকভাবে নাড়া দিয়েছে। যে পশ্চিমবঙ্গকে মনে করা হতো অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির সুরক্ষিত দুর্গ-সেই পশ্চিমবঙ্গেও এবার গেরুয়া বসনের ঝড়ে অসাম্প্রদায়িকতার দুর্গ ভেঙ্গে পড়েছে এবং হিন্দুত্ববাদের জয়যাত্রায় মুখরিত হয়ে ওঠেছে বলা যায়, গোটা কলকাতা নগরী।
ভারতের পাঁচ সপ্তাহব্যাপী নির্বাচন শেষে গেল সপ্তাহে নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন। এ নির্বাচনে সকল হিসেব-নিকেশ পাল্টে দিয়ে আবারও ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে বিজয়ী হয়েছে।
প্রায় সকল পর্যবেক্ষকদের ধারণা ছিলো বিজেপি হয়তো বিজয়ী হবে; তবে দলটির আসন সংখ্যা ২০১৪ সালের তুলনায় অনেকটা কমে যেতে পারে। কিন্তু সকল মহলের ধারণার বিপরীতে গিয়ে ভারতীয় ভোটাররা বিজেপির ঝুড়িতে আরো অধিক সংখ্যক আসন তুলে দিয়েছেন। ২০১৪ সালে যেখানে বিজেপির একক আসন সংখ্যা ছিলো ২৮২, এবারের এই ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির আসন সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩০৩। অর্থাৎ বেড়েছে ২১টি আসন।
বিজেপির হিন্দুইজম ন্যাশন বা হিন্দুত্ববাদী জাতি গঠনের প্রত্যয় এবং নরেন্দ্র মোদীর হিন্দু ভোটারদের প্রতি এই হিন্দুত্ববাদী রাজনীতিকে জয়যুক্ত করার জন্য আবেগঘন আবেদনে সাড়া দিয়ে ব্যাপক সংখ্যায় হিন্দু ভোটাররা বিজেপিকে ভোট দেবার ফলেই বিজেপি ২০১৪ সালের চেয়েও অধিক সংখ্যক আসন পেয়ে বিশাল জয় পেয়েছে। গেরুয়া বসনের ঝড়ের কবলে পড়ে জাতীয় কংগ্রেস সহ অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির ধারক ও বাহকরা ছিন্ন ভিন্ন হয়ে পড়েছে।
নরেন্দ্র মোদীর আহবানে সাড়া দিয়ে ভারতের প্রায় ৮০% শতাংশ ভোটার বা মোট ভারতীয় ভোটারের মধ্যে ১.৩ বিলিয়ন ভোটারই মোদীর পক্ষে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। হিন্দুত্ববাদ এতোটাই জোরালো ও বিকশিত হয়েছে এবারের নির্বাচনে যে, পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যে বিজেপি এবার লোকসবার ১৮টি আসনে বিজয়ী হয়েছে। অথচ ২০১৪ সালে এখানে মাত্র ২ (দু’টি) আসন পেয়েছিলো বিজেপি।
হিন্দু হার্টল্যান্ড রাজ্য যেমন-হিমাচল প্রদেশ, হরিয়ানা, রাজস্থান, উত্তরাখন্ড, দিল্লী, মধ্যপ্রদেশ, ছত্রিশগড়, বিহার, ঝাড়খন্ড, উত্তরপ্রদেশ এবং কেন্দ্র শাসিত রাজ্য চান্ডীগড় প্রভৃতি উক্ত রাজ্যগুলোর ভোটাররা বিজেপির অভূতপূর্ব বিজয়ের জন্য বড় ধরণের ভূমিকা পালন করেছে। নির্বাচনী ফলাফল থেকে দেখা যায়-২০০ মিলিয়ন জনঅধ্যুষিত উত্তর প্রদেশের মোট ৮০টি লোক সভা আসনের মধ্যে ৫৭টি আসনই পেয়েছে বিজেপি এবং কংগ্রেস পেয়েছে মাত্র ১টি আসন। রাজস্থানে মোট ২৫ আসনের ২৫ আসনই বিজেপি, আবার মধ্যপ্রদেশের ২৯ আসনের মধ্যে ২৮ আসনেই বিজেপি বিজয়ী হয়েছে।
শুধু যে, হিন্দু হার্টল্যান্ড রাজ্যেই বিজেপি জয় পেয়েছে তা নয়, বরং হিন্দু অপ্রাধান্য ভোটার রাজ্যগুলোতেও এবার বিজেপি ভালো ফলাফল করেছে যা ২০১৪ সালের নির্বাচনে সম্ভব হয়নি। যেমনটা পশ্চিমবঙ্গের কথা উল্লেখ করেছি। অন্যদিকে গুজরাটের দিকে চোখ ফেরালে দেখা যায় গুজরাটের মোট ২৫ আসনের ২৫টাই পেয়েছে বিজেপি। সাউথ ইন্ডিয়ার রাজ্যগুলোর মধ্যে কেরালায় ২০টার মধ্যে কোন আসন পায়নি বিজেপি। অন্যদিকে দিল্লীতে ৭টার মধ্যে ৭টা আসনই পেয়ে যায় বিজেপি। হরিয়ানার ১০ আসনের ৯ আসনই বিজেপির দখলে চলে যায়।
এভাবে নির্বাচনী ফলাফল বিশ্লেষণ করলে ২০১৪ সালের নির্বাচনের চেয়ে এবারের নির্বাচনের ভিন্ন চিত্র লক্ষ্য করা যায়। যেমন-২০১৪ সালে বিজেপির বিজয়ের পেছনে ৮টি হিন্দু হার্টল্যান্ড রাজ্যের ভূমিকা ছিলো গুরুত্বপূর্ণ। যেমন-২০১৪ সালের নির্বাচনে বিজেপি ২৮২ আসন পেয়েছিলো। এর মধ্যে কেবল বিহার, গুজরাট, রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ ও মহারাষ্ট্র-এই ছয় রাজ্যে বিজেপি পেয়েছিলো ১৯৪ আসন এবং বাদবাকী সারা ভারত থেকে পেয়েছিলো মাত্র ৮৭ আসন। তবে এবারের নির্বাচনে তার অনেক ব্যতিক্রম লক্ষ্য করা গেছে। কেননা, সারা ভারতের সবগুলো রাজ্যতেই বিজেপি কমবেশি আসন পেয়েছে। অর্থাৎ সারা ভারতেই এবার গেরুয়া বসনের ঝড় ওঠেছিলো এবং সে ঝড়ের কারণেই বিজেপি এবার ৩০৩ আসন পেয়েছে, ভারতবাসী নরেন্দ্র মোদীকে বিজয়ী করেছেন অকুন্ঠচিত্তে। কোনো কোনো রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক তাই এবারের নির্বাচনকে মোদীর পক্ষে গণভোট বলে অভিহিত করেছেন। তাঁদের মতে একমাত্র মোদীর একক জনপ্রিয়তার কারণেই ৫৪৩ আসনের লোকসভায় ৩০৩ টি আসন এককভাবে জিতে গেছে বিজেপি। অনেকে অবশ্য বলেছেন হিন্দুত্ববাদী এক্সট্রিম জাতীয়তাবাদের জোয়ার ওঠেছিলো বলেই মোদী বিশাল জয় পেয়েছেন।
এককভাবে ৩০৩টি আসন বিজেপির দখলে চলে যাওয়ায় এ দলটি ভারতের শক্তিশালী একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে আবির্ভূত হলো এবং এর ফলে দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নে বড় ধরণের কোনো বাধার মুখে পড়বে না বিজেপি সরকার। কারণ, লোকসভায় মোট ৫৪৩টি আসনের অবশিষ্ট ২৪০ আসনের মধ্যে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস পেয়েছে মাত্র ৫২ আসন।
বিজেপির এই একক শক্তিমান হয়ে ওঠার কারণে অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির পরিবর্তে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির প্রসার ঘটবে-যা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জীবনযাত্রা প্রণালী ও ধর্মীয় বিধান পালনের ক্ষেত্রে হুমকি হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে মুসলমানদের জন্য বড় ধরণের সংকট সৃষ্টি করতে পারে। কেননা, সরাসরি মুসলিম বিদ্বেষী, মুসলমান হত্যাকারী হিসেবে চিহ্নিত অনেকেই এবারের নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হয়ে নির্বাচিত হয়ে এসেছে।
চিহ্নিত এসব উগ্র হিন্দুত্ববাদী নেতাদের মধ্যে প্রজ্ঞা ঠাকুর অন্যতম, যিনি হিন্দু ভারত প্রতিষ্ঠার অন্যতম প্রবক্তা এবং ৬৫ জন মুসলমানকে হত্যা মামলার আসামী। অথচ ঐ ব্যক্তি বিজেপির প্রার্থী হয়ে লোকসভায় এসেছেন। নবনির্বাচিত এই সাংসদই ভারতের জাতির পিতা মহাত্মা গান্ধীর হত্যাকারী ‘নাথুরাম গডসেকে প্রকৃত দেশ প্রেমিক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
এছাড়া বিজেপির বিজয়ের অন্যতম মধ্যমণি বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ কট্টর মুসলিম বিদ্বেষী, তা ইতোমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে। তিনি সিটিজেনশীপ ভেরিফিকেশনের যে কথা বলে আসছেন তাতে হিন্দু, বুদ্ধ, শিখ, এদের কথা নেই। কেবল মুসলমানদের লক্ষ্য করেই তিনি এটা বলছেন বিধায় দেশটির বৃহত্তম সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। কেননা গত পাঁচ বছরের বিজেপি শাসনে মুসলমানরা সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত হয়েছেন, নিগৃহীত হয়েছেন আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক, সকল ক্ষেত্রে।
মোদী ও বিজেপির বিজয় মানে গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, সংখ্যালঘুর নিরাপত্তা ইত্যাদি বিষয়গুলোর জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিয়েছে। ভারতের সামাজিক-রাজনৈতিক ভূচিত্রে ব্যাপক পরিবর্তন নিয়ে আসবে। ‘গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা তলানীতে চলে যাবে’ বলেছেন লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ওরিয়েন্টাল এন্ড আফ্রিকান স্টাডিজের অধ্যাপক সুবীর সিনহা। অন্যদিকে রাজনীতি বিশ্লেষকরা এই ভেবে আতঙ্কিত যে, ভারত এক ব্যক্তির শাসনাধীনে চলে যাবে। আর সর্বত্র হিন্দুত্ববাদ চাপিয়ে দেবার চেষ্টা করবে।
বিজেপির এই ভূমিধস বিজয় দেশটিকে বহুত্ববাদি সমাজ থেকে সংখ্যাগরিষ্ঠতাবাদী জাতি ও সমাজে রূপান্তরিত করার শঙ্কা দেখা দিয়েছে, যেখানে সংখ্যালঘু মুসলমান ও দলিত সম্প্রদায়ের মানুষের জীবন, স্বাধীনতা, সম্পত্তি ও নিরাপত্তা বিপন্ন হয়ে পড়বে। এর ফলে বিশেষ কর ভারতের ১৪.২ শতাংশ মুসলমান সম্প্রদায় অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে নির্যাতিত হতে থাকবে, যেমনটা অতীতেও হয়েছে।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও কলামিস্ট সুহাস পালসিকার মনে করেন ‘মোদীর বিরাট বিজয়ের অর্থ হলো-সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসন প্রবর্তন, যেখানে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিকে রূপান্তরিত হবে। হিন্দু জাতীয়তাবাদীরা স্বাধীনভাবে অধিকার ভোগ করবে।’ পক্ষান্তরে সংখ্যালঘুদের জন্য মুক্তভাবে মত প্রকাশ করা, স্বাধীনভাবে ধর্মচর্চা করা, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বাধীনতা ভোগ করা ইত্যাদি সংকুচিত হয়ে পড়বে।
প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসবিদ গিয়ান প্রকাশের মতে, মোদীর শাসনে হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠের সন্ত্রাসবাদ প্রতিষ্ঠিত হবে। মানবাধিকার কর্মী, লেখক, কলামিস্ট হারস মান্দার বলেছেন-সেক্যুলার ইন্ডিয়ার প্রধান শত্রু মোদী নয়; প্রধান শত্রু রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ-এই সংঘই হোল বিজেপির পিতৃ সংগঠন। কাজেই সেক্যুলার ভারত আজ ভয়াবহ বিপদের সম্মুখীন।
লেখক : আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষক।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.