বাজারে দুই মেয়র, র‌্যাব ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের ঝটিকা অভিযান

  • তিন প্রতিষ্ঠান সিলগালা

পবিত্র রমজান মাসে বাজারে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম, দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন, র‌্যাব ও ঢাকা মহানগর পুলিশের ভ্রাম্যমাণ আদালতের তরফ থেকে ঝটিকা অভিযান চালানোয় খুশি ক্রেতারা। বৃহস্পতিবার মোহাম্মদপুর কাঁচাবাজার, কামরাঙ্গীরচর ও বেইলি রোডের অভিজাত ইফতারির বাজারে ঝটিকা অভিযান চালানো হয়েছে। অভিযানে নোংরা, বাসি, পচা খাবার ও নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রি না করায় জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া তিনটি খাদ্য উৎপাদনকারী কারখানা সিলগালা করা হয়েছে।

এমন অভিযান অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। তাদের ভাষ্য, এমন অভিযান অব্যাহত থাকলে ব্যবসায়ীরা আর জেল জরিমানার ভয়ে পণ্যের দাম বাড়াবে না। বাজার থেকে পচাবাসি নষ্ট খাদ্যদ্রব্য নিমিষেই উধাও হয়ে যাবে। মানুষ রমজানে ভাল খাবার খেতে পারবেন। পুরো রমজানেই এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে সিটি কর্পোরেশন ও র‌্যাবের তরফ থেকে জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোঃ আতিকুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউন হল কাঁচাবাজারে আচমকা অভিযান চালায়। এমন অভিযানে হতভম্ব দোকানিরা। অভিযানে দেখা যায়, অনেক দোকানের সামনেই পণ্যের দামের তালিকা নেই। অথচ এই তালিকা থাকা বাধ্যতামূলক। অনেকেই ইচ্ছেমত পণ্যের দাম লিখে তালিকা টাঙ্গিয়ে রেখেছেন। কেউ কেউ আবার মেয়রকে দেখে তড়িঘড়ি মূল্য তালিকা টাঙ্গানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি।

আবদুল কাদির নামের একটি মাংসের দোকানে গরুর মাংসের দাম সরকার নির্ধারিত প্রতি কেজি ৫২৫ টাকার পরিবর্তে ৫৫০ টাকা লেখা। মেয়রকে দেখে দ্রুত তালিকা বদলানোর চেষ্টা করেন দোকানি। কিন্তু বিধি বাম। শেষ পর্যন্ত ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে দোকানিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা করে তা আদায় করা হয়। পরে মেয়র বলেন, কোনভাবেই নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়ানো যাবে না। যে ব্যবসায়ী এমন নির্দেশনা মানবেন না, তাদের জেল জরিমানা করা হবে। ব্যবসায়ীদের উচিত রমজানে ইমানের সহিত তাদের পণ্য বেচাকেনা করা। তারপরও কেউ যদি প্রতারণা করে তার বিষয়ে নজর রাখা হবে।

উত্তর সিটি কর্পোরেশনের তরফ থেকে লাগাতারভাবে পাইকারি বাজারে মনিটরিং করা হচ্ছে। দাম নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। কিন্তু খুচরা বাজারের নির্ধারিত দামে বিক্রি হচ্ছে না। বাজার পরিদর্শনের সময় প্যানেল মেয়র আলেয়া সরোয়ারসহ স্থানীয় কাউন্সিলর এবং সিটি কর্পোরেশনের উর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে বৃহস্পতিবার রাজধানীর হাতিরপুল কাঁচাবাজারে ঝটিকা অভিযান চালান ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন। মেয়র বাজারের সব দোকান ঘুরে দেখেন। বাজারে গরুর মাংসের দাম বেশি দেখা গেছে। পরে মেয়র বলেন, গরুর মাংসের দাম বেশি রাখার জন্য গাবতলী পশুর হাটে চাঁদাবাজি অনেকটাই দায়ী। মাংস ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, গাবতলী পশুর হাটে চাঁদাবাজির কারণে তারা ক্রেতাদের কাক্সিক্ষত মূল্যে মাংস দিতে পারছেন না। যে কারণে গরুর মাংসের দাম তুলনামূলকভাবে কিছুটা বেশি।

বিষয়টি ঢাকা মহানগর পুলিশকে জানানো হয়েছে। তবে এবার রোজায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ‘মোটামুটিভাবে’ সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যেই আছে। বিশেষ করে চিনি ও সয়াবিন তেলের দাম বেশ কম। তবে বাজারে সিটি কর্পোরেশনের দ্রব্য মূল্যের তালিকা টাঙ্গিয়ে দেয়া হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিক্রেতারা তা মানছেন না বলে জানান মেয়র। এজন্য ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের এলাকাভুক্ত বাজারগুলোতে মূল্যতালিকা প্রদর্শনে ডিজিটাল বোর্ড বসানো হবে। আগামী এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যেই এসব ডিজিটাল বোর্ড স্থাপন করা যাবে বলে আশা করছি। ঢাকা মহানগরের ২১০ বাজারে সীমিত সংখ্যক জনবল নিয়ে বাজারমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার যথাসাধ্য চেষ্টা করা হচ্ছে। বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতও কাজ করছে। যারা দরদামে ভেজাল করবেন, বেআইনীভাবে বেচাকেনা করবেন, তাদের ঈদ জেলে হবে তা নিশ্চিত।  শুদ্ধস্বর / বি তালুকদার

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.