বাংলাদেশ সীমানা থেকে মাত্র ২০০ কি.মি. দূরে ‘ফণী’

বাংলাদেশের সীমানা থেকে ঘূণিঝড় ফণীর মূল অংশটি মাত্র ২০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।

শুক্রবার রাতে ঘূর্ণিঝড় ফণীর সর্বশেষ অবস্থা ও মোকাবেলার প্রস্তুতি নিয়ে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান আবহাওয়া অধিদফতরের পরিচালক।

আবহাওয়া অধিদফতরের পরিচালক সামছুদ্দিন আহমেদ বলেন, ঘূর্ণিঝড় ফণীর মূল অংশটি বাংলাদেশের সীমানা থেকে ২০০ কিলোমিটার দূরে ভারতে অবস্থান করছে।

তিনি বলেন, সারাদেশের আকাশ ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে মেঘাচ্ছন্ন হয়ে গেছে।

ঘূর্ণিঝড়টির আকার বড় বলে এটি এখনও বাংলাদেশের বাইরে অবস্থান করা সত্ত্বেও সারা বাংলাদেশের আকাশ মেঘলা হয়ে গেছে। শুক্রবার সকাল থেকে বিভিন্ন স্থানে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও দমকা হাওয়া বয়ে গেছে।

তবে মূল ঝড় এবং এর সঙ্গে যে শক্তিশালী ঝড়ো হওয়া বয়ে যাওয়ার কথা, ঘূর্ণিঝড়ের গতিবিধির কারণে এটিতে দেরি হচ্ছে। আমাদের ধারণা, আজ মধ্য রাতের পর থেকে সেই প্রবল ঝড়ো হওয়াও শুরু হবে।

উড়িষ্যা রাজ্যে ২০০ কিলোমিটার গতিবেগে ছোবল মারা ফনি পশ্চিবঙ্গের দিকে যাচ্ছে।

তিনি জানান, সারারাত ফণী সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, বরিশাল অঞ্চলের দিক থেকে ফরিদপুর, ঢাকা হয়ে ভারতের মেঘালয়ের দিকে যাবে।

দেশের ১৯ জেলার ১৪৭টি উপজেলার ১৩ হাজার ৫০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা উপকূলীয় এলাকা হিসেবে চিহ্নিত; সেখানে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ মানুষের বসবাস। এই ১৯ জেলায় ৪ হাজার ৭১টি আশ্রয় কেন্দ্র রয়েছে, যার বেশিরভাগই প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

সচিব জানিয়েছেন, নেভি, কোস্টগার্ড, পুলিশ, আনসার-ভিডিপি, স্বেচ্ছাসেবকসহ রাজনৈতিককর্মীরা উপকূলের মানুষদের আশ্রয় কেন্দ্রে নেয়াসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন। ঘণ্টায় ১৭৫ থেকে ১৮৫ কিলোমিটার গতির ঝড়ো হাওয়া সঙ্গে নিয়ে শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে ওড়িশ্যা উপকূল অতিক্রম শুরু করে ঘূর্ণিঝড় ফনি।

বৃষ্টি ঝরিয়ে দুর্বল হয়ে মোটামুটি এর অর্ধেক শক্তি নিয়ে এ ঝড় শুক্রবার মধ্যরাতের দিকে খুলনাসহ বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পৌঁছাতে পারে।

শুদ্ধস্বর/এন.হাসান

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.