তারা (কামাল হোসেনরা) ছদ্মবেশী ও বিধ্বংসী রাজনীতি করেনঃসেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের

আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ এনে ঐক্যফ্রন্ট নেতা ড. কামাল হোসেন যে বক্তব্য দিয়েছেন, তার কঠোর সমালোচনা করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেছেন, তারা (কামাল হোসেনরা) ছদ্মবেশী ও বিধ্বংসী রাজনীতি করেন। তাদের বিধ্বংসী রাজনীতি ধ্বংসের পথে আরেক ধাপ এগিয়ে গেছে। নির্বাচনের ইতিহাস বলে, যারা বয়কট করবে, তাদের কিন্তু জনবিচ্ছিন্নতা, রাজনৈতিক ভাগ্য অনিবার্য হয়ে যায়। বিএনপিকেও বলি, গত সাধারণ নির্বাচনে জনমতের হাওয়াটা যদি তাদের অনুকূলে থাকত, তাহলে এর প্রভাব ফলাফলে পড়ত। জনমত যেদিকে থাকে, নির্বাচনের ফল সেদিকেই টার্ন করবে- এটা নির্বাচনের ইতিহাস। শনিবার দুপুরে আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আচরণবিধি মেনে চলতে মন্ত্রী ও দলীয় সংসদ সদস্যদের নির্দেশনা দিয়েছেন আমাদের যারা মন্ত্রী-এমপি আছেন, তারা যেন কোনো অবস্থাতেই যার যার নির্বাচনী এলাকায় নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি লঙ্ঘন না করেন, এমন কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত না হন যা, নির্বাচনের বিধি লঙ্ঘন- এটা প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে পরিষ্কার নির্দেশনা রয়েছে। উপজেলা নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যে কোনো সংঘাতের আশঙ্কা করছেন কি না- এ প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অনেকেরই আশঙ্কা ছিল যে ‘কমপিটিশন ওপেন’ করে দেয়ার পর সংঘাত-সহিংসতা হবে। সিটি কর্পোরেশনের ৩৬টি ওয়ার্ডে যে কাউন্সিলর ইলেকশন হয়েছে, অনেক প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল। তারপরও খারাপ কোনো ঘটনা, কোনো ইনসিডেন্ট ঘটেনি।

সেতুমন্ত্রী বলেন, উপজেলা নির্বাচন একেবারেই ‘পারফেক্ট’ হবে, এটা আমি মনে করি না। ‘পারফেক্ট’ বিষয়টা ভিন্ন বিষয়। কোনো বিষয়কে পারফেক্ট বলা ঠিক না। ভুলত্রুটি থাকে। ভুলত্রুটি নিয়েই আমরা এগিয়ে যাই। আমাদের গণতন্ত্রকে পুরোপুরি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার আগে কিছু কিছু ভুলত্রুটিও অতিক্রম করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা ইলেকশন করতে করতে, একটা সময় দেখা যাবে গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছে। যে কারণে এ ধরনের ত্রুটিবিচ্যুতির যে বিষয়গুলো, তখন আর কারও নজরে আসবে না। এ ধরনের ঘটনাগুলোর পুনরাবৃত্তি হবে না।

উপজেলা নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে দলীয় কোনো সিদ্ধান্ত আছে কি না- জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিদ্রোহীদের ব্যাপারে আমাদের সিটি কর্পোরেশনেও ‘ইনিশিয়ালি’ মনে করেছিলাম আমরা একক প্রার্থী দেব। কিন্তু সেখানে আমরা ‘ওপেন’ করে দিয়েছি। আবার উপজেলা নির্বাচনে আমরা ভাইস চেয়ারম্যান পদ কিন্তু ‘ওপেন’ করে দিয়েছি। জমজমাট একটা নির্বাচন হোক। আর বিএনপি না চাইলেও তাদের অংশগ্রহণটা কিন্তু গত দুইটি ধাপে বিশেষভাবে লক্ষ করেছি। বিএনপির অনেকেই তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে। কাজেই তাদের বারণ তৃণমূলে শোনেনি। এটা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। বিএনপি না এলে তো নির্বাচন বন্ধ থাকবে না, সংবিধানও বন্ধ থাকবে না। আশা করি, ভালো প্রতিদ্বন্দ্বি^তা হবে।

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘জাতীয় পার্টি বিরোধী দল হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার যে অঙ্গীকার করেছিল, সিটি নির্বাচনে সেটির কোনো প্রতিফলন ঘটেনি। বিরোধী দল যদি শক্তভাবে বিরোধিতা করত, তাহলে নির্বাচনটা আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতো। সংসদের ভেতর ও বাইরের উভয় রাজনৈতিক দলকে আমরা শক্তিশালী দেখতে চাই।’

ভোটার উপস্থিতি কম থাকার পরও বিপুল ভোটের ব্যবধানে মেয়র পদে নৌকার প্রার্থীর বিজয়ের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ভোটের দিন মেঘলাভাব কেটে যাওয়ার পর ভোটার ‘টার্ন আউট’ বেড়েছে। ভোটও বেড়েছে, তাই বিকাল বেলা ভোট বেশি পড়েছে। সকালে মেঘলা আকাশ বা দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ছিল, এর মধ্যে অনেকে আসতে পারেননি। তারা কিন্তু দুপুরের পর থেকে আসতে শুরু করেছিলেন। এটা তো গণমাধ্যমে আপনারাই রিপোর্ট করেছেন।’চতুর্থ ধাপের উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রকাশিত প্রার্থী তালিকার কিছু প্রার্থীর বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে মাদকের মামলাসহ নানা অভিযোগ রয়েছে- এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, শুক্রবার যে তালিকা প্রকাশ করেছি, প্রত্যাহারের আগ পর্যন্ত চিঠি পরিবর্তন করার একটা সময় আছে। এ সময়সীমা পর্যন্ত আমরা খোঁজখবর নিই। অভিযোগ থাকলে খতিয়ে দেখি, তদন্ত করি। সত্যিকার অর্থে অভিযোগ যদি সত্য হয়, তাহলে আমরা কিন্তু আমাদের প্রার্থী হিসেবে বাদ দিয়ে দিই।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আফজাল হোসেন, উপদফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়–য়া, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এসএম কামাল হোসেন, আমিরুল আলম মিলন, আনোয়ার হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.