সবার সমন্বয়ে জাতীয় সরকার গঠনের মাধ্যমে পুনঃনির্বাচনের আহ্বান জানিয়েছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রধান কর্নেল অলি আহমদ। গতকাল বিকালে এলডিপির প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি সরকারের প্রতি এ আহ্বান জানান। অলি আহমদ বলেন, সৎ, দক্ষ এবং যোগ্য রাজনীতিবিদদের নিয়ে জাতীয় সরকার গঠন করতে হবে এবং তারপর নির্বাচন দিতে হবে। তিনি বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কবর রচনা হয়েছে। তারা এখন মিথ্যার ওপর ভর করে টিকে আছে। মিথ্যার ওপর ভর করে সরকার বেশিদিন টিকবে না। অলি আহমদ বলেন, সরকার জাতীয় ঐক্য চাইলে রাজনৈতিক বিবেচনায় যে সব বিরোধী নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের মুক্তি এবং মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। ২০ দলীয় জোটের এই সমন্বয়ক বলেন, বিরোধী দল তথা ঐক্যফ্রন্টে থেকেও অনেকেই সরকারের কাছ থেকে টাকা নিয়ে নির্বাচন করেছে।
কে কীভাবে নির্বাচিত হয়েছেন আমার কাছে শতভাগ তথ্য আছে। তারা ভালো ভালো বক্তব্য রাখেন। ভালো ভালো মিটিং করে ঐক্যজোটের কথা বলেন। কিন্তু তারা, ১০ তারিখের পরে সরকারের গোয়েন্দা বাহিনীর সঙ্গে বসে নির্বাচনের খরচাপাতি সব গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেন, বিরোধী দলের আমরা কেউ এই নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেই নাই। আমরা পরিষ্কারভাবে বলছি। আমরা এলডিপির পক্ষ থেকেও বলেছি, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট হোক আর বিএনপি হোক তারা যদি এমপি হওয়ার শপথ গ্রহণ করে তাহলে তারা ১৬ কোটি মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করবে। ৫০ হাজার নেতাকর্মীর নামে মামলা হয়েছে তাদের সঙ্গে প্রতারণা করবে। এ ছাড়া যারা মৃত্যুবরণ করেছে, জেলে আছে তাদের সঙ্গে বেইমানি করবে। যারা জেলে আছে মামলা হয়েছে শুধুমাত্র আমাদেরকে এমপি করার জন্য জেলে গিয়েছে। সুতরাং তাদের সঙ্গে যেন কখনো বেঈমানি করা না হয়। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের যারা নির্বাচিত হয়েছেন তারা শপথ নিলে বেঈমান বলে বিবেচিত হবে।
উপজেলা নির্বাচনে এলডিপি অংশ নেবে না জানিয়ে তিনি বলেন, গত কয়েক বছর ধরে নির্বাচনের ক্ষেত্রে দিনের বেলায় হয় ড্রামা আর রাতের বেলায় হয় ভোট। একাদশ সংসদ নির্বাচনে ভোটের আগের দিন রাতেই নির্বাচন হয়েছে। বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে যতো নির্বাচন হবে সবই এমন হবে। তাই আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে এলডিপি অংশগ্রহণ করবে না। ২০দলীয় জোটের কেউ নির্বাচন নিয়ে মামলা করতে যাবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিচার বিভাগ সরকারের নিয়ন্ত্রণে। তাই নির্বাচন নিয়ে মামলা করে কোনো ফল হবে না। আর করলেও সরকারের পক্ষেই রায় দেবে আদালত। এ জন্য মামলা করবে না ২০ দল। তিনি বলেন, মামলা করার আগে কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল প্রয়োজন।
কিন্তু টাকা জমা দেয়ার পরও নির্বাচনের কেন্দ্রভিত্তিক রেজাল্ট শিট দিচ্ছে না রিটার্নিং কর্মকর্তারা। এক প্রশ্নের জবাবে জামায়াত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগে দেখতে হবে বর্তমানে জামায়াত যারা করে তারা এদেশের নাগরিক কিনা। সরকার পারলে ঘোষণা করে দিক জামায়াত যারা করে তারা এদেশের নাগরিক না। তাহলেই তো সব সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। যদি তারা এ দেশের নাগরিক হয়ে থাকে তাহলে তাদের রাজনীতি করতে দিতে হবে। সরকার জামায়াতে ইসলামীকে এখনো নিষিদ্ধ করেনি। সুতরাং তাদের রাজনীতি করার অধিকার আছে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কেউ জামায়াত ছাড়ার ব্যাপারে আপনাকে চাপ দিচ্ছে কিনা আমি জানি না। তবে আমাকে কেউ চাপ দেয়ার জন্য ফোন করেনি বা দেখা করেনি। আর কারো কথায় আপনার বউ তালাক দিতে পারেন না। আপনার ভালোটা আপনাকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে এলডিপির মহাসচিব ড. রেদওয়ান আহমদ, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদত হোসেন সেলিম, সহ-সভাপতি মোখফার উদ্দিন চৌধুরী, প্রচার সম্পাদক বিল্লাল হোসেন মিয়াজি, যুব বিষয়ক সম্পাদক সফিউল বারী রাজু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

