শুদ্ধস্বর রিপোর্ট । গত ২রা ফেব্রুয়ারি শিলিগুড়ির সুভাষপল্লীর ‘ইচ্ছেবাড়িতে’ ছায়ানট (কলকাতা) আয়োজন করেছিল নজরুল সন্ধ্যার – ‘আমারে দেব না ভুলিতে’। চমৎকার এক সাংস্কৃতিক অঙ্গন ‘ইচ্ছেবাড়ি’। পত্র-পুষ্প-পল্লবে আবৃত বুটিক ও দেশজ আয়োজনের মাঝে রয়েছে বাংলার চিরায়ত সংস্কৃতির আবহ। শিলিগুড়ির কালচারাল আইকন ‘ইচ্ছেবাড়ি’তে অনুষ্ঠিত হলো এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ‘আমারে দেব না ভুলিতে’ শিরোনামে সাংস্কৃতিক সন্ধ্যাটি আলোকময় করে তোলে কলকাতা ছায়ানট এর শিল্পীরা। কবি কাজী নজরুল ইসলামের গান ও কবিতায় সমৃদ্ধ মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা উত্তরের শহর শিলিগুড়ির দর্শক-শ্রোতাদের বিমোহিত করে। কবি কাজী নজরুল ইসলামের গান ও কবিতা নিয়ে অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করেন বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী সোমঋতা মল্লিক, অর্ণব মুখার্জী, শ্রীপর্ণা বিশ্বাস, প্রজ্ঞা অধিকারী, মীনাক্ষী ব্যানার্জী, মাধুরী শর্মা, সুরূপা মল্লিক, ইন্দ্রানী লাহিড়ী, অনির্বাণ দাশগুপ্ত। যন্ত্রানুষঙ্গে ছিলেন আশিষ পাত্র ও অনির্বাণ দাস। অনুষ্ঠান শুরু হয় কাজী নজরুল ইসলামের জাগরণমূলক গান ‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর’ ও ‘মোরা ঝঞ্ঝার মতো উদ্দাম’ পরিবেশনার মধ্য দিয়ে,অংশগ্রহণে সোমঋতা মল্লিক ও সুরূপা মল্লিক। প্রজ্ঞা অধিকারীর কন্ঠে ‘মা’ এবং ‘বারাঙ্গনা’ দর্শক-শ্রোতাদের মুগ্ধ করে।কিশোরদের জন্য লেখা কাজী নজরুল ইসলামের ৩ টি কবিতা আবৃত্তি করেন ইন্দ্রানী লাহিড়ী, তার মধ্যে ‘নবার নামতা পড়া’ ও ‘দিদির বে’তে খোকা’ খুবই চমৎকার উপস্থাপনা। অর্ণব মুখার্জীর কন্ঠে ‘অভিশাপ’ ও ‘চিরশিশু’ দর্শকদের বিশেষ ভালো লাগে।অনির্বাণ দাশগুপ্ত ২টি নজরুলগীতি পরিবেশন করেন, একটি শ্যামা সংগীত ‘আমার হাতে কালি মুখে কালী’ ও অন্যটি ভাটিয়ালী ‘আমি ময়নামতীর শাড়ী দেব’।কাজী নজরুল ইসলামের বিভিন্ন আঙ্গিকের গান পরিবেশন করেন সোমঋতা মল্লিক, তার মধ্যে লেটো গান, গজল, ঝুমুর, ঠুংরী ভাঙা গান,কীর্তন সহ আরো অনেক আঙ্গিক পরিবেশিত হয়।মীনাক্ষী ব্যানার্জীর কন্ঠে ‘ঠ্যাং ফুলী’ ও ‘কামালপাশা’ দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়। সমগ্র অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা ও পরিচালনায় সোমঋতা মল্লিক। ইচ্ছেবাড়ির অভয়া বসুর আন্তরিকতায় ও আতিথেয়তায় সমগ্র অনুষ্ঠানটি সকলের কাছেই উপভোগ্য হয়ে ওঠে।

