সিপিবি’র সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেছেন, শুধু একাত্তরের ভূমিকা দিয়ে রাজাকার চিহ্নিত করা যায় না। আমাদের দেশে রাজনৈতিক বিভাজনের একটি উৎস হচ্ছে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ। আর এক্ষেত্রে একটি হচ্ছে পক্ষের শক্তি আর অন্যটি হচ্ছে বিপক্ষের শক্তি। আর এই বিপক্ষের শক্তিকে আমরা রাজাকার হিসেবে চিহ্নিত করি। কিন্তু স্বার্থবোধ, গণতন্ত্রহীনতা, স্বৈরাচার, সামরিক শাসন, লুটপাট, বাজার আর্থনীতি এসকল কর্মকান্ড মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী। এই মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী কর্মকান্ডের জন্য এদেরকে রাজাকার বলা যায। আর এরা হচ্ছে স্বাধীন দেশের রাজাকার। রবিবার ডিবিসি নিউজের টক’শোতে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আমাদের দৃষ্টি সরিয়ে রাখা হয়েছে অন্য জায়গায। জামাতকে নিষিদ্ধ করা হয়নি নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে। আমরা পোড়াতন ইসো জিইয়ে রাখি। আমাদের নীতি আদর্শের জায়গায় থাকে ক্ষমতায় যাওয়ার হিসাব নিকাশ। ২০১৮ সালে সাম্প্রদায়িক জঙ্গিবাদের আশ্রয় নেই। যারা সাম্প্রদায়িকতার আশ্রয়দেয় তাদেরকে রাজাকার হিসেবে মূল্যায়িত করতে চাই। সে হিসেবে হেফাজতের সাথে আওয়ামী লীগের যে যোগসূত্র এটা দিয়ে কী প্রমানিত হয়। আমরা ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য এই দলগুলোকে ‘পুষে’ রাখি। নীতি আদর্শের বিবেচনা করি না ।
তিনি আরো বলেন, আমরা ক্ষমতাকেন্দ্রিক চিন্তা করছি। ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী কাজ করছি। জনগণের দৃষ্টিকে ভিন্নদিকে রেখে সাম্রাজ্যবাদ, লুটপাটতন্ত্র,সাম্প্রদায়িকতা, গণতন্ত্রহীনতা ইত্যাদি মুক্তিযোদ্ধ বিরোধী কর্মকান্ডে জড়িয়ে গেছি। অধিকারের লড়াই করতে হবে আমাদের। একাত্তরের মূল চেতনাকে বাস্তবায়ন করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের মূলচেতনা বিরোধী কর্মকান্ডের সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করতে হবে।

