হত্যার হুমকি, মামলা-হামলা, পোস্টার লাগাতে না দেওয়াসহ একে অপরের বিরম্নদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ করেছেন চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা। নির্বাচনকে ঘিরে ভোটারদের মধ্যে ভয়-ভীতি সৃষ্টির পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তুলেছেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীরা।
দুই রিটার্নিং অফিসার চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মান্নান এবং জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেনের সাথে মতবিনিময়কালে এ অভিযোগগুলো করেন তারা।
গতকাল সোমবার সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস ও জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কড়্গে পৃথকভাবে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সার্কিট হাউজে চট্টগ্রাম-৪, চট্টগ্রাম-৫, চট্টগ্রাম-৮, চট্টগ্রাম-৯, চট্টগ্রাম-১০ ও চট্টগ্রাম-১১ আসন এবং জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কড়্গে চট্টগ্রাম-১, চট্টগ্রাম-২, চট্টগ্রাম-৩, চট্টগ্রাম-৬, চট্টগ্রাম-৭, চট্টগ্রাম-১২, চট্টগ্রাম-১৩, চট্টগ্রাম-১৪, চট্টগ্রাম-১৫ ও চট্টগ্রাম-১৬ আসনের সংসদ সদস্য পদ প্রার্থী ও তাদের প্রতিনিধি উপসি’ত ছিলেন।
সার্কিট হাউজে সভার শুরম্নতে সভাপতির বক্তব্য দেন মো. আবদুল মান্নান। পরে মুক্ত আলোচনা শুরম্ন হয়। একে একে ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, ওলামালীগ, স্বতন্ত্র, বিএনপির প্রার্থীরা নির্বাচনে বিভিন্ন বাধা এবং হয়রানির বিষয় তুলে ধরেন।
চট্টগ্রাম-১১ বন্দর-পতেঙ্গা আসনের বিএনপি প্রার্থী আমীর খসরম্ন মাহমুদ চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, ‘আমাদের নেতা-কর্মীদের ভয়-ভীতি প্রদর্শন করছে কারা; তা আপনাদের দেখতে হবে। ৩০ ডিসেম্বর পর্যনত্ম আপনারা গ্রেফতার অভিযান বন্ধ করম্নন।’
চট্টগ্রাম-১০ পাহাড়তলী-ডবলমুরিং আসনে বিএনপি প্রার্থী আবদুলস্নাহ আল নোমান বলেন, ‘মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছে। কিন’ আমরা প্রশাসনের আশ্রয় চাওয়ার পরও আশ্রয় পাইনি। প্রথম দিন থেকে পোস্টার-ব্যানার ছিঁড়ে ফেলছে পুলিশ এবং আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ। মুক্তিযোদ্ধা ছিলাম আমি, কারাদ-ও ভোগ করেছি; তারপরেও যদি আমরা বিজয় দিবস পালন করতে না পারি তাহলে এর চেয়ে দুঃখজনক কিছুই নেই। ’
বক্তব্যে নির্বাচনী প্রচারণায় লেভেল পেস্নয়িং ফিল্ড তৈরি হয়নি অভিযোগ করে আবদুলস্নাহ আল নোমান পুলিশ প্রশাসনে রদবদল দাবি করেন।
আব্দুলস্নাহ আল নোমান বক্তব্যের এক পর্যায়ে পুলিশি বাধা, পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা, নেতাকর্মীদের মামলা দিয়ে জেলে ঢুকিয়ে দেওয়া এবং নির্বাচনের আগে এসব কেন করা হচ্ছে এ বিষয়ে রিটার্নিং অফিসারের কাছে জানতে চান। এ সময় চট্টগ্রাম-৯ কোতোয়ালী-বাকলিয়া আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল গত নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র জ্বালিয়ে দেওয়া, দেশে ভীতিকর পরিসি’তি সৃষ্টি করাসহ ভয়ানক ২০১৫ সালের কথা তুলে ধরেন এবং ২০০৮ সালের নির্বাচনে ৬ জন শ্রমিক মেরে ফেলা হয়েছিল বলে জানান। কিন’ বর্তমান নির্বাচনে কাউকে মেরে ফেলা তো দূরের কথা; কারো গায়ে কোন আঘাত দেওয়ার ঘটনা ঘটেনি। নওফেলের বক্তব্য শেষ হতে না হতে আমীর খসরম্ন মাহমুদ এবং আব্দুলস্নাহ আল নোমান রিটার্নিং অফিসারের কাছে অভিযোগ করে বলেন, ‘নওফেল রাজনৈতিক আলোচনা করছে।’
এ সময় রিটার্নিং কর্মকর্তা নওফেলকে উনার আসনে ইভিএম ব্যবহার নিয়ে কোন কথা আছে কিনা জিজ্ঞেস করেন। উত্তরে নওফেল বলেন, ‘ইভিএম নিয়ে মানুষের মাঝে ভুল ধারণা দেয়া হচ্ছে। উনারা সাধারণ জনগণকে বলছে ইভিএম দিয়ে ভোট গ্রহণ করলে নাকি একটি নির্দিষ্ট দল জয়ী হবেন; তাদের কাঙ্খিত প্রার্থীর ভোট কাউন্ট হবে না।’
এ সময় রিটার্নিং কর্মকর্তা আবদুল মান্নান বলেন, ‘ইভিএমের মাধ্যমে ভোটের ফলাফল একটি নিখুঁত এবং নির্ভরযোগ্য ফলাফল আমরা দেখতে পাবো। নির্বাচনী প্রচারণার ড়্গেত্রে আমি সবসময় মনিটরিংয়ে থাকবো; আমার সাথে পুলিশও নিয়মিত পর্যবেড়্গণে থাকবে। কোথাও কোন অনিয়ম পেলে সাথে সাথে সংশিস্নষ্ট থানায় অথবা আমাদের জানাবেন। ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে কাজ করছে; তারাও পর্যবেড়্গণ করছেন বিভিন্ন বিষয়াদি।’
চট্টগ্রাম-৫ আসনে ধানের শীর্ষ মার্কার প্রার্থী সৈয়দ মো. ইব্রাহীম অভিযোগ করে বলেন, ‘পোস্টার না লাগাতে ও পা ভেঙে দেয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। কর্মীরা যাতে আতঙ্কে না থাকে; সে দিকে আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। মামলা-হামলা ধমকের কারণে নেতাকর্মীদের মাঠে পাচ্ছি না।’
এছাড়া চট্টগ্রাম-৮ চান্দগাঁও-বোয়ালখালী আসনের বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট প্রার্থী সেহাব উদ্দিন মু. আবদুস সামাদ জনগণের মাঝে অজানা উৎকণ্ঠা বিরাজ বলে অভিযোগ করেন।’
চট্টগ্রাম-১০ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবিনা খাতুন বলেন, ‘ভোটকেন্দ্রে যেতে ভোটাররা সংশয়বোধ করছেন।’ চট্টগ্রাম-৯ আসনের এক প্রার্থী ইভিএমের ব্যবহার সম্পর্কে যথাযথ ট্রেনিং দেওয়ার জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে অনুরোধ করেন।
অপরদিকে, চট্টগ্রাম-৮ চান্দগাঁও-বোয়ালখালী আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মইনদ্দিন খান বাদল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের এসব অভিযোগ অস্বীকার করে নির্বাচনী পরিবেশ সুষ্ঠু আছে বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘কাউকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করা হচ্ছে না।’
চট্টগ্রাম-৯ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, ‘ভয়-ভীতির কোন কিছু তো আমি দেখছি না, আমি যতবার এলাকায় গিয়েছি তখন প্রচারণায় সব দলের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেখেছি।’
সভায় আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা হাসানুজ্জামান বলেন, ‘আজ থেকে ইভিএম প্রদর্শনী এবং ব্যবহার শুরম্ন হয়েছে; যা আগামী ২৭ ডিসেম্বর পর্যনত্ম চলবে। চট্টগ্রামের সকল প্রার্থীদের এজেন্টদের তালিকা দিবেন, তাদের নির্বাচন সংক্রানত্ম প্রশিড়্গণ দেয়া হবে।
সভাপতির বক্তব্যে রিটার্নিং অফিসার আবদুল মান্নান বলেন, ‘আমরা আমাদের পড়্গ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে। সুন্দর ও নিরপেড়্গ নির্বাচন দেয়ার জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এতে আপনাদের সহযোগিতা দরকার।’
অন্যদিকে, জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কড়্গে অনুষ্ঠিত সভায় বিএনপির প্রার্থীরা অভিযোগ করেন, তাদের সরকার দলীয় লোকজন প্রচার-প্রচারণায় বাধা দিচ্ছেন।
রিটার্নিং অফিসার মো. ইলিয়াস হোসেন বলেন, ‘এ ধরনের কোন অভিযোগে আপনারা আমাকে, এসপি বা ইউএনওদের জানাননি।’ তিনি প্রার্থীদের নির্বাচনে সম্প্রতি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বজায় রাখার জন্য অনুরোধ জানান। গতকালের মতবিনিময় সভায় আসেননি চট্টগ্রাম-১০ বন্দর-পতেঙ্গা আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী এমএ লতিফ ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ।
জেলার আসনগুলোর প্রার্থীদের নানা অভিযোগ
বার্তা সংস’া বিডিনিউজ জানায়: চট্টগ্রাম নগরীর বাইরের সংসদীয় আসনগুলোর প্রার্থীদের নানা অভিযোগ শুনলেন ওই ১০টি আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক ইলিয়াছ হোসেন। গতকাল সোমবার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কড়্গে প্রার্থীরা তাদের দলীয় প্রচার চালাতে বাধা দেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন।
চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে ১০টি আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন জেলা প্রশাসক ইলিয়াছ হোসেন। মহানগরের বাকি ছয়টি আসনের দায়িত্বে থাকবেন বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল মান্নান।
জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় চট্টগ্রাম-১৩ আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী বিএনপি নেতা সরোয়ার জামাল নিজাম অভিযোগ জানান, তার এলাকায় কর্ণফুলী থানায় তার দলের নেতাকর্মীদের বিরম্নদ্ধে ৫০টির বেশি মামলা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘মোহছেন আউলিয়া মাজার জেয়ারত ও আমার বাড়িতে যেতে চেয়েছিলাম। কিন’ সরকারদলীয় কর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে আগে থেকে অবস’ান করায় আমি যেতে পারিনি। গত ১৩ ডিসেম্বর মইজ্জ্যার টেক এলাকায় নির্বাচনী সভা করার জন্য আমি পুলিশ থেকে অনুমতি নিয়েছি।
‘তার আগেই সরকার দলীয় লোকজন লাঠিসোটা নিয়ে সেখানে অবস’ান শুরম্ন করে। বিষয়টি আমি কর্ণফুলী থানার ওসিকে জানালে তিনি আমাকে অন্য জায়গায় সভা করার পরামর্শ দেন।’
চট্টগ্রাম- ১২ আসনে ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী এনামুল হক এনাম তার নির্বাচনী এলাকায় প্রচারে বাধা পাওয়ার কোনো অভিযোগ না করলেও তার দলীয় নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পুলিশ হয়রানি করছে বলে অভিযোগ করেন।
গ্রেফতারের অভিযোগ নিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা ইলিয়াছ বলেন, ‘বিনা ওয়ারেন্টে কাউকে পুলিশ গ্রেফতার করছে না। যাদের বিরম্নদ্ধে মামলা আছে শুধু তাদের ধরা হচ্ছে।’
মামলা ছাড়া কাউকে গ্রেফতার করা হলে বিষয়টি তাকে জানানোর অনুরোধ জানান ডিসি।
চট্টগ্রাম-২ আসনে ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী আজিম উলস্নাহ বাহার ও চট্টগ্রাম-৩ আসনের প্রার্থী মোসত্মফা কামাল পাশা তাদের এলাকায় প্রচার করতে না দেয়া এবং দলীয় পোস্টার ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ আনেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের বিরম্নদ্ধে।
রিটার্নিং কর্মকর্তা ইলিয়াছ বলেন, ‘এ ধরনের পোস্টার ছেঁড়ার ঘটনা ঘটলে জনগণের মধ্যে বিরূপ প্রভাব পড়বে। আমি প্রার্থীদের বলব, আপনারা আপনাদের কর্মীদের এ ধরনের কাজ করতে নিষেধ করম্নন।’
এদিকে চট্টগ্রাম-১৬ আসনের বিএনপি প্রার্থী জাফরম্নল ইসলাম চৌধুরী আওয়ামী লীগ কর্মীরা নিজেরা ‘ঝামেলা’ তৈরি করে পুলিশকে মামলা নিতে বাধ্য করছে বলে অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা জানি আপনাদের সীমাবদ্ধতা আছে। সরকারদলীয় কর্মীরা নিজেরা ঝামেলা তৈরি করে পুলিশকে মামলা নিতে বাধ্য করছে। আর ওইসব মামলা দিয়ে দলীয় কর্মীদের গ্রেফতার করাচ্ছে।’
সভায় বাঁশখালী উপজেলার এক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের বিরম্নদ্ধেও অভিযোগ করেন বিএনপি প্রার্থী জাফরম্নল।
তিনি বলেন, ‘বাঁশাখালীর সরল উপজেলার চেয়ারম্যান রশিদ আহমেদ আমাদের দলীয় নেতাকর্মীদের প্রচারণা না করতে হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন। এগুলো করে উনি বাঁশখালীতে উত্তেজনা সৃষ্টি করছেন।’
বৈঠকে আওয়ামী লীগের কয়েকজন প্রার্থী উপসি’ত থাকলেও চটগ্রাম-১ আসনের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, চট্টগ্রাম-২ আসনের মাহফুজুর রহমান মিতা, চট্টগ্রাম-৪ আসনের দিদারম্নল আলম, চট্টগ্রাম-১২ আসনের সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ উপসি’ত ছিলেন না।
পটিয়ায় আওয়ামী লীগের সাংসদ সামশুল হক চৌধুরী বলেন, তার এলাকায় বিএনপি প্রার্থী এনামুল হকের প্রচারে ‘কোনো ধরনের সমস্যা’ সৃষ্টি করা হচ্ছে না।
তিনি পাল্টা অভিযোগ করেন, সমপ্রতি কোলাগাঁও ইউনিয়নের তার নির্বাচনী প্রচারণার কাজে থাকা এক যুবলীগকর্মীর মোটর সাইকেল জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম-১৫ সাতকানিয়া-লোহাগাড়া আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রার্থী জামায়াত নেতা আ ন ম শামসুল ইসলামের পড়্গে তার প্রধান নির্বাচনী সম্বন্বয়ক ও দড়্গিণ জেলা জামায়াতর সেক্রেটারি জাফর সাদেক অভিযোগ করেন, উচ্চ আদালত থেকে জামিন নেয়ার পরও শামসুল ইসলামকে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের কারণে কোনো প্রকার নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে পারছি না আমরা। বিভিন্ন স’ানে আমাদের নেতাককর্মীদের মারধর করে পুলিশে দেওয়া হচ্ছে। পরে তাদের অস্ত্র আইনে চালান দেওয়া হচ্ছে।’
এছাড়া কয়েকদিন আগে তাদের কর্মীদের নির্বাচনী বৈঠকে পুলিশ অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকজনকে আটক করে নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ করেন।
প্রার্থীদের বিভিন্ন অভিযোগ শুনে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার নূরে আলম মিনা বলেন, ‘আপনারা ঢালাওভাবে অভিযোগ করবেন না। অনেক সময় ছোট্ট একটি ঘটনাকে আপনারা বড় করে ফেলেন।
‘কয়েকদিন আগে এক প্রার্থীর নির্বাচনী সভায় কিছুটা সমস্যা হয়। ওই সময় তার ছেলে পড়ে গিয়ে হাতে হাল্কা আঘাত পায়। কিন’ ওই প্রার্থী আমাকে ফোন করে বলছে, তার ছেলে গুরম্নতর আহত হয়ে সংজ্ঞাহীন হয়ে গেছে। তার অস্ত্রোপাচার করা হচ্ছে। কিন’ আমি জানলাম, তার ছেলের তেমন কিছু হয়নি।’
রাখাল বালকের বাঘ আসার প্রবাদ উলেস্নখ করে এসপি মিনা বলেন, ‘আপনারা এভাবে অভিযোগ করলে বড় কোন ঘটনা ঘটে গেলে কেউ যাবে না। তখন ছোট কিছু মনে করে আমরা না গেলে বড় কিছু হয়ে যাবে।’
নির্বাচনে পুলিশ-বিজিবি-সেনা সদস্যদের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকার কথাও উলেস্নখ করেন তিনি।
এসপি মিনা বলেন, ‘পত্রিকায় দেখেছি, কোনো কোনো দল বলছে, সরকারি বাহিনীর প্রতি তাদের আস’া নেই। তারা ভোট কেন্দ্র পাহারা দেওয়ার কথা বলছে। এভাবে করে একটি পড়্গকে ড়্গেপিয়ে তোলা হচ্ছে।’
২০১৪ সালের নির্বাচন পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সময়ে দড়্গিণ চট্টগ্রামে জামায়াতি তা-বের বিষয়টিতে ইঙ্গিত করে এসপি বলেন, ‘যতই কিছু হোক, সব দোষ পড়ে পুলিশের। আগের নিবাচনে আমাদের দুই পুলিশ সদস্যকে খুন করা হয়েছে। বাঁশখালীতে আদালত ভবন ও উপজেলা প্রশাসন কার্যালয় জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে।
‘আগের মতো কেউ কিছু করার চেষ্টা করলে আমরা সমুচিত জবাব দিব। সে ধরনের প্রস’তি আমাদের এখন আছে।’
নির্বাচনে পোলিং এজেন্ট ও ভোটারদের মোবাইল ফোন সঙ্গে না রাখার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসার কিংবা নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা প্রধান ব্যক্তি ছাড়া অন্য কারও কাছে মোবাইল ফোন থাকবে না।
‘বিভিন্ন সময়ে আমরা দেখেছি পোলিং এজেন্টরা কেন্দ্র থেকে গুজব ছড়িয়ে উত্তেজনা কিংবা মারামারির সৃষ্টি করে।’
জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা ইলিয়াছ হোসেন প্রার্থীদের প্রতিদিনের খরচ লিখে রাখার পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘আমি যে কোনো সময় তা দেখতে পারি। আপনারা ব্যক্তিগত ও পারিবারিক খরচের বাইরে নির্বাচনে নির্ধারিত খরচের বেশি করবেন না।’
বৈঠকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান, চট্টগ্রাম জেলার নির্বাচন কর্মকর্তা মুনির হোসাইন খান উপস্থিতিত ছিলেন ।

