আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত রাজাকার ও রাজাকার পরিবারের সন্তান উল্লেখ করে ২২ নেতার নাম প্রকাশ করেছে বিএনপি। গতকাল সকালে দলের নয়াপল্টন কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ নাম প্রকাশ করেন। রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন- যারা যুদ্ধাপরাধীদের মনোনয়ন দেয় তারা দেশকে ধ্বংস করে দেবে। ধানের শীষকে ভোট দেয়া মানে দুর্নীতি, লুটপাট ও জঙ্গিবাদকে প্রশ্রয় দেয়া। যুদ্ধাপরাধীদের কথা বলছেন প্রধানমন্ত্রী, আপনিই তো জামালপুরের নুরু রাজাকারের গাড়িতে প্রথম পতাকা দিয়েছেন। এখনো আপনার দলে স্বাধীনতাবিরোধীদের ভিড়। জনগণকে প্রতারিত করে প্রধানমন্ত্রী আবারো মুক্তিযুদ্ধকে বিক্রি করে চলেছেন। রিজভী বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে হানাদার বাহিনীর সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে, এমন অভিযোগে এক ডজন ব্যক্তির বিচার করেছে আওয়ামী লীগ সরকার।

আওয়ামী সরকার নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের কথিত স্বপক্ষ শক্তি দাবি করে এ বিচার করলেও তাদের দলে থাকা রাজাকারদের ব্যাপারে একেবারে নীরব। এ দলটিতেও রয়েছে কুখ্যাত রাজাকার, আলবদর, আলশামস, গণহত্যাকারী, গণধর্ষণকারী, অগ্নিসংযোগকারীসহ অসংখ্য ব্যক্তি। যারা স্বাধীনতা যুদ্ধে মানবতাবিরোধী কাজে লিপ্ত ছিল। এই ব্যক্তিরাসহ তাদের সন্তান-সন্তুতি এখন আওয়ামী লীগের বড় নেতা বা তাদের টিকিটে নির্বাচন করছেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের নেতারা বিভিন্ন সময় বক্তৃতায় বলেছেন, আওয়ামী লীগে রাজাকার থাকলে দেখিয়ে দেন- আমরা তাদের বিচার করবো। আওয়ামী লীগের ২২ জন যুদ্ধাপরাধী বা তাদের পরিবার কোনো না কোনোভাবে ’৭১ সালে পাকিস্তান সরকার ও যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের এসব নেতা ঘৃণিত ভূমিকা পালন করেছেন। পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় থেকে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি বনে গিয়েছে। ১৯৭১ সালে তারা মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যাসহ নানা ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। মামলার তথ্য ও নানা ব্যক্তির প্রকাশিত বইপত্রের সূত্র ধরে মুক্তিযুদ্ধকালে তাদের কর্মকাণ্ডের সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরেন রুহুল কবির রিজভী। উল্লিখিত সে ২২ জন হলেন-

মুক্তিযুদ্ধকালে নেজামে ইসলামী পার্টির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক হাকিম হাফেজ আজিজুল ইসলামের ছোট ভাই ঢাকা-২ আসনের এমপি ও আইন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম; মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানিদের পক্ষে দিনাজপুরে কর্মরত পর্যটন মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান; ফরিদপুরের শান্তি কমিটির প্রধান নুরুল ইসলাম নুরু মিয়ার ছেলে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেয়াই ফরিদপুর-৩ আসনের এমপি ও মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন; ময়মনসিংহ-৬ আসনের এমপি ও আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট মোসলেম উদ্দিন; আওয়ামী লীগের সেকেন্ড ইন কমান্ড সংসদ উপনেতা ও ফরিদপুর-২ আসনের এমপি সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী; আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ; গোপালগঞ্জ-২ আসনের এমপি ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমের ছেলের শ্বশুর মুসা বিন শমসের; জামালপুর-৩ আসনের এমপি সংসদের হুইপ ও যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হুইপ মির্জা গোলাম আজমের বাবা মির্জা কাশেম; মুক্তিযুদ্ধকালে টাঙ্গাইলে কর্মরত পাকিস্তান সরকারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, রংপুর-৫ আসনের এমপি ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক এইচ এন আশিকুর রহমান; মুক্তিযুদ্ধকালে পাকিস্তান সরকারের অধীনে ময়মনসিংহে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পদে কর্মরত, চাঁদপুর-১ আসনের এমপি ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর; জামালপুরের সাবেক এমপি ও সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মাওলানা নুরুল ইসলাম; কোটালীপাড়ায় উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান হাওলাদার; গোপালগঞ্জ কোটালীপাড়া উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী রাফেজা বেগমের পিতা আবদুল বারেক হাওলাদার; গোপালগঞ্জ কোটালীপাড়া উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী রাফেজা বেগমের ভাই আজিজুল হক; আওয়ামী লীগ নেতা ও গোপালগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার আবুল কালাম দাড়িয়ার বাবা মালেক দাড়িয়া; গোপালগঞ্জ কোটালীপাড়া উপজেলা শ্রমিক লীগ সভাপতি আমির হোসেনের পিতা মোহন মিয়া; কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া দাড়িয়ার বাবা মুন্সি রজ্জব আলী দাড়িয়া; কোটালীপাড়া পৌর মেয়র ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা এইচ এম অহেদুল ইসলামের ভগ্নিপতি রেজাউল হাওলাদার; পৌর মেয়র এইচ এম অহেদুল ইসলামের পিতা বাহাদুর হাজরা; গোপালগঞ্জের এপিপি ও আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট দেলোয়ার হোসেন সরদার; দেলোয়ার হোসেন সরদারের পিতা হাসেম সরদার ও জামালপুর বকশিগঞ্জ আওয়ামী লীগ সভাপতি আবুল কালাম আজাদের পিতা আবদুল কাইয়ুম মুন্সি প্রমুখ। রুহুল কবির রিজভী তার এ দাবির পক্ষে তথ্যসূত্র হিসেবে প্রকাশিত গ্রন্থ হিসেবে- ‘মুক্তিযুদ্ধে ইসলামী দল’, ‘দিনাজপুরের মুক্তিযুদ্ধ’, ‘দৃশ্যপট একাত্তর: একুশ শতকের রাজনীতি ও আওয়ামী লীগ’, ‘মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ব্যক্তির অবস্থান’, ‘জামালপুরের মুক্তিযুদ্ধ’ এবং ‘১৯৭১ সালের ৭ই আগস্ট পাকিস্তানের তথ্য অধিদপ্তর থেকে প্রকাশিত আনুষ্ঠানিক তথ্য’, ‘১৯৭১ সালে পাকিস্তান সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃৃক প্রকাশিত গেজেট’, ‘ট্রাইব্যুনাল ওয়ার ক্রাইম ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির আহ্বায়ক ডা. এমএ হাসানের দেয়া ও দৈনিক ডেসটিনি পত্রিকায় প্রকাশিত যুদ্ধাপরাধের তালিকা’, ‘কোটালীপড়ায় ইউনিট কমান্ডের ডেপুটি কমান্ডার মজিবুল হক স্বাক্ষরিত গোপালগঞ্জের যুদ্ধাপরাধীর তালিকা’র উল্লেখ করেন সুত্র : মানবজমিন

