কোথা থেকে শরু করবো ঠিক ঠাউর করতে পারছি না। কেননা রাজনীতি হলো নীতি আদর্শের । প্রতিটি রাজনৈতিক দলের একটি নিজেস্ব নীতি আদর্শ নিশ্চয়ই আছে বা থাকে। তাদের নিজেস্ব একটি গঠনতন্ত্র নিশ্চয়ই থাকে। অবশ্য বলতেই হয়, আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলের কতজন কর্মী নিজ দলের গঠনতন্ত্র হাতে নিয়ে নাড়াচাড়া করে ? পড়ার কথা না হয় আপাতত নাই জিজ্ঞাসা করলাম। আমার কথা বিশ্বাস না হয় , যে কেউ যে কোনো রাজনৈতিক দলের একজন একনিষ্ঠ আদর্শ কর্মীদের জিজ্ঞাসা করে দেখুন, তাদের দলের গঠনতন্ত্রের একটি পয়েন্ট। তারপরে দেখুন কয়জনা সঠিক উত্তর দিতে পারেন। আমি বলছি না কেউ গঠনতন্ত্র জানে না ব পড়ে না, তবে সংখ্যায় কতজন , সেটা একটি বড় প্রশ্ন বটে ।
রাজনৈতিক দলগুলোর কার কি গঠনতন্ত্র সেটা আমার বলা উদ্দেশ্যে নয়। তাছাড়া প্রয়োজন আছে বলেও মনে হয় না। কেননা লক্ষ্য করুণ , ঘুরেফিরে দেশ সেই অনেকদিন যাবত্ই দুইটি আদর্শেই বন্দি । আদর্শ নিয়ে কারো আপত্তি থাকলে, বলতে হবে দুই শিবিরে বন্দি । একটি নৌকা আর একটি ধানের শীষ। আর যে ছোটো আকাড়ে দুটি আছে, দাড়ীপাল্লা আর লাঙল(!) , তার একটির আপাতত নিবন্ধনহীন ( যা কিছুটা শান্তির) আর অন্যটির কথা বলতে গেলে লজ্জাই পেতে হয়। কেননা এর প্রধানের কখন যে কি হয় ! আবার কখন যে হাসপাতালে যেতে হয়! বা কখন যে নাকে খত দিতে হয়! বলা বড় মুশকিল । সত্যি বলতে আমাদের বাপ- দাদারা সবাই চাষাভুষোর সমাজের, তাদের হাতের লাঙল সত্যি এই দলের প্রতিক হওয়া এক প্রকার অপমানজনকই বলতে হয়। তবে নৌকা ভালোই চলছে আর ধানের শীষ ভালোই লম্বা হচ্ছে। যদিও নৌকার মানুষের কথা ভিন্ন হয়, তাদের ভাষা অনুযায়ী দেশে মাত্র দুটি দল আছে। একটি হলো স্বাধীনতার পক্ষের আর অন্যটি হলো স্বাধীনতার বিপক্ষের! এই থিউরি যে কোথা থেকে উত্পত্তি! তা বুঝতে পন্ডিত হতে হয় না। তাদের কথা বিবেচনায় নিলে দেশে যে দিন দিন স্বাধীনতার বিপক্ষের মানুষের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। আমার সঙ্গে থাকলে স্বাধীনতার পক্ষের আর না থাকলে বিপক্ষের! এটা একটি বাতুলতা ছাড়া ভিন্ন কিছু নয়।
দেশে এখন চলছে নানান রাজনৈতিক মেরুকরণ । সব শেষে কিন্তু মেরুকরণের সেই একই রথ যাত্রা। সকলেই ঘুরেফিরে হয় নৌকা না হয় ধানের শীষ! যারা এই পথে এখনও পা মারায়নি তাদের হিসেব ভোটের বাজারে শূণ্যেই বলতে হবে। তবে একথা বলতেই হবে এবারের রাজনৈতিক মেরুকরণে একটু ভিন্নমাত্রা আছে বটে। লক্ষ্য করুণ, একঝাক আওয়ামী লীগার এখন ধানের শীষে জোট বেঁধেছে। আবার ভিন্নদিকে পূর্বের কিছু তথাকথিত কমরেড ( কমরেট) গণ আগে থেকেই নৌকার মাঝি। এখন আবার ধানের শীষের বোঝা বহনকারী ঐক্যফ্রন্টের জাল থেকে ছিটকে গিয়ে নৌকার মাঝি। ঐক্যফ্রন্টে পিতা পুত্রের ১৫০ আসনের হরদম শেষে এখন শোনা যাচ্ছে ১ টি আসনেই সন্তুষ্টিতে আছে। দিলেই খুশি, আদর্শ আবার কি ?
অন্যদিকে ঐক্যফ্রন্ট ইতিমধ্যেই নানা রঙের পোস্টার ছড়িয়েছে হাটে ঘাটে। লক্ষ্যণীয় যে ধানের শীষেই ভোট করবে, অথচ পোস্টার গুলো বেশ কথা বলে। “যেখানে ধানের শীষ মানেই জিয়া আর জিয়া মানেই ধানের শীষ” সেখানে ঐক্যফ্রন্টের পোস্টারে তারেক জিয়ার কথা বাদই দিলাম, সেই পোস্টার গুলোতে ছবিতে ভরা ডঃ কামাল, আ স ম রব, মির্জা ফখরুল আর মান্না ভাই গণ। কোথাও না আছে জিয়া বা না আছে খালেদা জিয়া!!! অনেক একনিষ্ঠ বিএনপি কর্মীদের দেখলাম ইতিমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশ্ন তুলেছেন । তাদের ভাষায় এটা এক প্রকার হঠকারিতা । আর সেই হঠকারিতার সামিল তারা হবেন না বলেই অনেকেই মতামত প্রকাশ করছেন। তাদের ভাষ্য, মানে সহজ বাংলায়, যে ভোট প্রার্থী অন্তত জিয়া আর খালেদা জিয়া ছাড়া নির্বাচনী প্রচারণা চালাবে তাদের কে কেবলমাত্র ধানের শীষের কারণে কোনো ভোট দেওয়া তো দূরে থাক , চিন্তাতেও তারা ভোট দেওয়ার কথা ভাববেন না।
এখন সামনে দেখার বাকি আছে সেই পিতা পুত্র কি পোস্টার বাজারে ছাড়ে। তখন স্পষ্ট বুঝা যাবে কে কতটুকুন জোটে সত্যি সামিল হয়েছেন। বাজারে কিন্তু আরো কথা বাতাসে শোনা যায় । অনেকের স্পষ্ট মতামত যে, যারা শুধুমাত্র ক্ষমতার জন্য নিজের অস্তিত্বের আদর্শকে বিলিন করে শক্ত মার্কায় ভোট চান! তারা যে আবার সময়ে ভিন্ন পথে হাটবেন না , তার বা কি গ্যারান্টি আছে ? অনেকের তো আরো স্পষ্ট মতামত, এরা সবাই স্বার্থানেষী মহল, এদের ভোট দেওয়ার প্রশ্নই উঠে না। সামনে যদি ভোট সত্যি সত্যি ভালো , মানে মোটামুটি সুষ্ঠু হয় , তাহলে এর ফলাফল একটা মারাত্মক চমক হবে বলেই আপাতত মনে হচ্ছে।
শেষে শুধু বলবো , জোটই যখন করেছেন, সেটা যেই দলই হোক, মার্কা যখন নিয়েছেন , তাহলে আর ঘোমটা না দিয়ে বা মার্কার জনগণ কে বিভ্রান্তি বা আঁতে ঘাঁ না দিয়ে , সাধারণ পথেই হাটুন। কেননা নৌকা আর ধানের শীষের মালিকদের একটা নিজেস্বতা নিশ্চয়ই আছে।
যত কথাই বলুন বা ভালো চিন্তা থেকে জোট করুণ, সত্য হলো, আপনারা যারা নৌকা থেকে কেউ ধানের শীষে বা ধানের শীষ থেকে নৌকায় উঠেছেন, আপনাদের আদর্শ নিয়ে কিন্তু জনগণের মাঝে বিরাট এক প্রশ্ন তৈরি হয়েই আছে। সুতরাং আর ঘোমটার কোনো প্রয়োজন আছে কি ?

বুলবুল তালুকদার
সহকারী সম্পাদক, শুদ্ধস্বর ডটকম

