বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির প্রধান আকরাম খান আশাবাদি, সাকিব আল হাসানকে পাওয়া যাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের মাঝামাঝি থেকেই। বাংলাদেশ দলের টেস্ট অধিনায়কের আঙুলের চোট এমন আকার ধারণ করেছিল যে, কবে নাগাদ মাঠে ফিবরেন তা নিয়ে বড্ড শঙ্কাই তৈরি হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপট সাকিবের ফেরা নিয়ে আশার সঞ্চার করছে।
কিন্তু আকরাম খান কি একটু বেশিই আশাবাদি হচ্ছেন? মোটও না। সাকিব আল হাসান নিজেও ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে সিরিজেই ফেরার ব্যাপারে আশার কথা শোনালেন। যদিও নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিচ্ছেন না তিনি।
মঙ্গলবার আকরাম খান সাকিবের ফেরার ব্যাপারে আশার কথা শোনান। একই দিন একটি বহুজাতিক মুঠোফোন কোম্পানির অনুষ্ঠানে সাকিব মাঠে ফেরার ব্যপারে বলেন, ‘মাঠে ফেরার সময়সীমা নেই। যদি ফিরতে পারি (ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে) তাহলে ভাল লাগবে। আশা তো থাকবেই যেন ফিরতে পারি। এখনই বলা মুশকিল যে আমি খেলব, এই গ্যারান্টি আসলে নেই। তবে যেভাবে উন্নতি হচ্ছে তাতে সম্ভাবনা তো আছেই।’
পরের সপ্তাহ থেকে স্ট্রেন্থ ট্রেনিং শুরু করতে যাচ্ছেন জানিয়ে সাকিব বলেন, ‘যখন উন্নতি হতে থাকবে, ধীরে ধীরে একটার পর একটা, যখন দেখব যে সব দিক থেকেই খেলার ক্ষেত্রে আমার কোন প্রবলেম হচ্ছে না, তখনই আসলে খেলার কথা চিন্তা করব। তার আগ পর্যন্ত আমিও খেলতে চাইব না। ফিজিও আমাকে দিবে না। এই কারণে আসলে আমরা কেউই সময়টা বলতে পারছি না।’
তবে সাকিবের এই কথাটা সবচেয়ে বেশি আশাবাদি করবে সবাইকে, ‘এমনও হতে পারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের প্রথম টেস্ট থেকে খেলতে পারি, সেকেন্ড টেস্টেও খেলতে পারি। হতে পারে ওয়ানডে পর্যন্তও না খেলতে পারি। কিন্তু আমি আবারো বলছি, উন্নতি যেভাবে হচ্ছে সেই অনুযায়ী খুব বেশি সময় লাগার কথা না।’
বছরের শুরুতে ত্রিদেশীয় সিরিজে আঙ্গুলে চোট পান সাকিব। পরে চোট কাটিয়ে দলে ফিরেন। ক্যারিবীয় সফরে পুরো সময় জুড়ে ছিলেন। কিন্তু সেই সিরিজেই চোটটা আবার মাথা চাটা দেয়। চোট নিয়ে এশিয়া কাপ খেলতে গিয়ে আঙ্গুলে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। তাই মাঝ পথেই দেশে ফিরে এসেছিলেন।
এরপর তার আঙ্গুলে পুঁজ অপসারণ হয়েছে কয়েক দফা। বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখাতে অস্ট্রেলিয়াও গিয়েছিলেন সাকিব। সেখান থেকে ফিরেছেন সুখবর নিয়েই। আপাতত আঙ্গুলে অস্ত্রোপচরা প্রয়োজন হচ্ছে না বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের। পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শেষে তাই মাঠে ফেরার অপেক্ষা তার।

