সালের আগস্টে বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিনক্ষণ ও ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার প্রেক্ষাপট নিয়ে এবার প্রকাশ্যে এসেছে এক বিস্ফোরক তথ্য। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপির (AFP) এক সাংবাদিক স্বয়ং শেখ হাসিনার দেশত্যাগের আগেই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ও নেতাদের সঙ্গে ফ্রান্সে অবস্থানরত ড. ইউনূসের যোগাযোগের সেতু গড়ে দিয়েছিলেন। ইউনূসের প্রাক্তন প্রেস সচিব ও এএফপির সাবেক ঢাকা ব্যুরো প্রধান শফিকুল আলমের এক ফেসবুক পোস্টের সূত্রে এমন চাঞ্চল্যকর খবর সামনে এসেছে।
শফিকুল আলম তাঁর পোস্টে জানান, ২০২৪ সালের আগস্টের উত্তাল দিনগুলোতে যখন ছাত্র নেতারা হাসিনা-পরবর্তী বাংলাদেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে দায়িত্ব দেওয়ার কথা ভাবছিলেন, তখন তাঁদের একজন বিশ্বস্ত মধ্যস্থতাকারীর দরকার ছিল। সেই জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ সময়ে এএফপির ঢাকা ফ্যাক্ট-চেক বিভাগের তৎকালীন প্রধান কদরুদ্দীন শিশির এই দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন। অফিসে ঠিক তাঁর পাশেই বসে অত্যন্ত গোপনে ছাত্রনেতাদের পক্ষ থেকে ড. ইউনূসের সঙ্গে প্রথম যোগাযোগ স্থাপন এবং প্রাথমিক কথাবার্তা এগিয়ে নেওয়ার কাজটি সেরেছিলেন শিশির।
আন্দোলনের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নেন। পরদিনই ছাত্র আন্দোলনের নেতারা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ড. ইউনূসের নাম প্রকাশ্যে ঘোষণা করেন এবং ৮ আগস্ট তিনি প্যারিস থেকে ঢাকায় ফিরে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেন। পরবর্তীতে ড. ইউনূস নিজেও নিউইয়র্কের এক অনুষ্ঠানে এই গণঅভ্যুত্থানকে অত্যন্ত পরিকল্পিত ও নিখুঁত এক রূপরেখা হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। এবার এএফপির অভ্যন্তরীণ এক সাংবাদিকের মধ্যস্থতার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসায় হাসিনা সরকারের পতন ও তার পরবর্তী ক্ষমতার পুনর্বিন্যাসের প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।

