দক্ষিণ থাইল্যান্ডের দীর্ঘদিনের রক্তাক্ত সংঘাত থামার কোনও ইঙ্গিত মিলছে না; বরং পূর্ণ স্বাধীনতার দাবি আদায়ে শেষ দিন পর্যন্ত রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা করেছে অঞ্চলটির শীর্ষ মুসলিম বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী ‘বারিসান রেভোলুসি ন্যাসিওনাল’ (BRN)। সরকারের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক শান্তি আলোচনার প্রক্রিয়া কার্যত থমকে থাকা এবং সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সংঘাত নতুন করে মাথাচাড়া দেওয়ার প্রেক্ষাপটে এমন অনড় অবস্থান প্রকাশ করল এই সশস্ত্র সংগঠনটি।
গোষ্ঠীটির সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, স্থানীয় মালয় মুসলিম জনগোষ্ঠীর আত্মনিয়ন্ত্রণ ও ঐতিহাসিক পাত্তানি ভূখণ্ডের পূর্ণ স্বাধীনতা ছাড়া অন্য কোনও ধরনের আপস তারা মেনে নেবে না। ব্যাংকক সরকারের দেওয়া তথাকথিত প্রশাসনিক স্বায়ত্তশাসন বা অর্থনৈতিক প্যাকেজের প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে তারা জানিয়েছে, এই সংগ্রাম নিছক অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য নয়, বরং তাদের জাতিসত্তা, সংস্কৃতি এবং সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধারের লড়াই। থাই নিরাপত্তা বাহিনীর দীর্ঘদিনের দমনপীড়ন ও সেনা উপস্থিতিকে সামনে এনে তাদের দাবি, যতক্ষণ না পর্যন্ত দখলদারিত্বের অবসান ঘটছে, ততক্ষণ প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে এই সশস্ত্র প্রতিরোধ অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য, মূলত বৌদ্ধপ্রধান থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলীয় তিনটি সীমান্ত প্রদেশ—ইয়াত্তা, পাত্তানি ও নারাথিওয়াত—ঐতিহাসিকভাবে মালয় মুসলিম অধ্যুষিত। ২০০৪ সাল থেকে এই অঞ্চলে নতুন করে শুরু হওয়া বিচ্ছিন্নতাবাদী বিদ্রোহ ও সশস্ত্র সংঘাতে এ পর্যন্ত সাত হাজারেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। সাধারণ নাগরিক থেকে শুরু করে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও শিক্ষক—কেউই এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের হাত থেকে রেহাই পাননি। মালয়েশিয়ার মধ্যস্থতায় অতীতে একাধিকবার শান্তি আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা কোনও স্থায়ী সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি।
বিচ্ছিন্নতাবাদী শীর্ষ নেতৃত্বের এই হুঁশিয়ারি এমন এক সময়ে এলো, যখন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো দক্ষিণাঞ্চলে ক্রমবর্ধমান সহিংসতা ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে। চরম এই রাজনৈতিক অনমনীয়তার কারণে রক্তপাতহীন শান্তির সম্ভাবনা আরও ফিকে হয়ে উঠছে, যার খেসারত দিতে হচ্ছে সীমান্তে বসবাসকারী নিরীহ সাধারণ মানুষকে।


