ডিজিএফআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা আফজাল নাছের গ্রেপ্তার

এক-এগারোর আরেক আলোচিত চরিত্র বরখাস্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আফজাল নাছেরকে (৬১) গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। গতকাল রোববার দিবাগত গভীর রাতে রাজধানীর মিরপুর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিবির যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ডিবি সূত্র জানায়, সাবেক সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী এবং প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে জিজ্ঞাসাবাদের সূত্র ধরে আফজাল নাছেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এক-এগারোর সময় বিএনপির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ দলের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনার বর্ণনায় আফজালের নাম উঠে এসেছে।

বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টুকে হেনস্তা ও জোরপূর্বক ভিডিও ধারণ, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের একটি আলোচিত ভিডিও ধারণ এবং ব্যবসায়ী মোসাদ্দেক আলী ফালুর ওপর নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

আফজাল নাছেরের বাড়ি নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার মজিরখিল এলাকায়। তিনি ১৯৮৪ সালের ৪ জুলাই সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং ২০০৬ সালের মার্চ থেকে ২০০৮ সালের মার্চ পর্যন্ত ডিজিএফআইতে দায়িত্ব পালন করেন।

মো. আফজাল নাছের ২০০৬ সালের মার্চ থেকে ২০০৮ সালের মার্চ পর্যন্ত ডিজিএফআইয়ের পরিচালক ছিলেন।

জানা যায়, ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই রাজধানীর প্রগতি সরণির শাহজাদপুর বাঁশতলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান বাহাদুর হোসেন মনির। এ ঘটনায় একই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর গুলশান থানায় ইউনাইটেড গ্রুপের প্রধান উপদেষ্টা হাসান মাহমুদ রাজা, চেয়ারম্যান ও এমডি মঈনউদ্দিন হাসান রশিদ ও গ্রুপের কর্মকর্তা বরখাস্তকৃত লেফটেন্যান্ট কর্নেল আফজালের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়। মামলাটি তদন্ত করছে ডিবি পুলিশ।

এর আগে, গত সোমবার রাতে সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে ঢাকার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। পল্টন থানার একটি মামলায় তাঁকে প্রথমে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। পরে নতুন করে রিমান্ড আবেদন করলে আদালত ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এরপর গত বুধবার ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক শেখ মামুন খালেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। মিরপুর থানার একটি হত্যা মামলায় আদালত তাঁর পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বর্তমানে ডিবি হেফাজতে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.