শেখ হাসিনা-তারিক সিদ্দিকী গুমের ‘সরাসরি নির্দেশ’ দিতেন : চিফ প্রসিকিউটর

আওয়ামী লীগের আমলে গুমের ‘সরাসরি নির্দেশ’ দিতেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার প্রতিরক্ষাবিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা তারিক সিদ্দিকী বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে শুনানিতে তিনি এ মন্তব্য করেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন-বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

বিগত সরকারের শাসনামলে সংঘটিত গুমসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে করা মামলায় শেখ হাসিনাসহ আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের ওপর পরবর্তী শুনানি ৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে।

জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল (জেআইসি) বা আয়নাঘরে গুম-নির্যাতনের ঘটনায় করা মামলায় শেখ হাসিনা, তারেক সিদ্দিকী, পলাতক ডিজিএফআইয়ের সাবেক ৪ মহাপরিচালক ও গ্রেপ্তার তিন সেনা সদস্যসহ ১৩ জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

এদিন গ্রেপ্তার ৩ সেনা কর্মকর্তাকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। তারা হলেন হলেন-ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী।

এ মামলায় শেখ হাসিনাসহ পলাতক ১০ আসামি হলেন-শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষাবিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) লে. জেনারেল (অব) মোহাম্মদ আকবর হোসেন, সাবেক ডিজি মেজর জেনারেল (অব) সাইফুল আবেদিন, লে. জেনারেল (অব) মো. সাইফুল আলম, সাবেক ডিজি লে. জেনারেল তাবরেজ শামস চৌধুরী, সাবেক ডিজি মেজর জেনারেল (অব) হামিদুল হক, মেজর জেনারেল তৌহিদুল ইসলাম, মেজর জেনারেল কবির আহাম্মদ ও লে. কর্নেল (অব) মখসুরুল হক।

শুনানিতে তাজুল ইসলাম বলেন, গুমের সরাসরি নির্দেশ দিতেন শেখ হাসিনা।

তিনি জেআইসি সেলে সরকারবিরোধী ঘরানার লোকদের তুলে নিয়ে গুম-নির্যাতনের ভয়াবহ বর্ণনা তুলে ধরেন। একইসঙ্গে ২০১৫ সালের ২২ অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত গুম হওয়া ২৬ জনের বীভৎসতা সামনে আনেন। এসব ঘটনায় পাঁচটি অভিযোগ এনে এ মামলায় ১৩ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন বা বিচার শুরুর আবেদন করেন চিফ প্রসিকিউটর।

এদিকে, স্টেট ডিফেন্স ও গ্রেপ্তার তিন আসামির পক্ষে সময় চাইলে শুনানির জন্য ৯ ডিসেম্বর দিন ঠিক করেন ট্রাইব্যুনাল। উপস্থিত তিন আসামির পক্ষে আবেদন করেন আজিজুর রহমান দুলু ও মাহিন এম. রহমান।

 

facebook sharing button
twitter sharing button
skype sharing button
telegram sharing button
messenger sharing button
viber sharing button
whatsapp sharing button

 

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.