নিজের বিচার সরাসরি সম্প্রচার করতে ইনুর আবেদন

 

নিজের বিচার টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছেন সাবেক মন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু।

বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ ইনুর পক্ষে এই আবেদন করেন তার আইনজীবীরা। বুধবারই এ বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

এর আগে সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে পঞ্চম দিনের মতো সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এদিন মামলার পঞ্চম সাক্ষী ও কাশিমপুর কারাগার-২ এর সাবেক ডেপুটি জেলার সাখাওয়াত হোসেন জব্দ তালিকার সাক্ষী হিসেবে ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি পেশ করেন।

পরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ৩ সদস্যের বিচারিক প্যানেল পরবর্তী শুনানির জন্য বুধবারের দিন ধার্য করেন। ট্রাইব্যুনালের অপর ২ সদস্য হলেন- বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কুষ্টিয়ায় ৬ জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গত ২ নভেম্বর জাসদের এই সভাপতির বিরুদ্ধে আনা আটটি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। সেই সঙ্গে সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ১ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেন। ওইদিন আটটি অভিযোগই ইনুকে পড়ে শোনান বিচারক। একপর্যায়ে নিজেকে পুরোপুরি নির্দোষ দাবি করেন হাসানুল হক ইনু।

তারও আগে গত ২৫ সেপ্টেম্বর জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে জুলাই-আগস্টে গণহত্যায় সহযোগিতাসহ সুনির্দিষ্ট আটটি অভিযোগ এনে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। পরবর্তীতে গত ২৩ অক্টোবর ইনুর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের ওপর শুনানি করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। শুনানিতে আটটি অভিযোগ উপস্থাপন করা হয়। একপর্যায়ে শুনানি শেষে অভিযোগ আমলে নিয়ে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করেন আদালত।

গত বছরের ২৬ আগস্ট রাজধানীর উত্তরা থেকে হাসানুল হক ইনুকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বর্তমানে বিভিন্ন মামলায় কারাগারে রয়েছেন তিনি। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন এই জাসদ নেতা। তবে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে জোটের প্রার্থী হিসেবে কুষ্টিয়ায় নিজ আসনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর কাছে হেরে যান তিনি।

উল্লেখ্য, জুলাই-আগস্ট আন্দোলন ঘিরে কুষ্টিয়া শহরে শহিদ হন শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী ও চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ। এছাড়াও আহত হন আরও বহু নিরীহ মানুষ। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইনুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা হয়। একপর্যায়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তারা। পরে যাচাই-বাছাই শেষে উসকানি, ষড়যন্ত্রসহ সুনির্দিষ্ট আটটি অভিযোগ আনে প্রসিকিউশন।

হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে দেওয়া ফরমাল চার্জটি ৩৯ পৃষ্ঠা সম্বলিত। আর মামলায় সাক্ষী করা হয়েছে ২০ জনকে। এছাড়াও নথি হিসেবে ৩টি অডিও ও ৬টি ভিডিও দিয়েছে প্রসিকিউশন।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.