ইউরোপ পাড়ি দিতে গিয়ে মৃত্যুর শীর্ষে বাংলাদেশিরা

facebook sharing button
messenger sharing button
whatsapp sharing button
sharethis sharing button

সমুদ্রপথে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ইউরোপে অবৈধভাবে পাড়ি দিতে গিয়ে ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৭৬০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী। এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ছিলেন বাংলাদেশি নাগরিক।

এই তথ্য উঠে এসেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমান্ত পর্যবেক্ষণ সংস্থা ফ্রন্টেক্স এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে অনিয়মিত অভিবাসনের সবচেয়ে বিপজ্জনক রুট হচ্ছে লিবিয়া থেকে ইতালিগামী সেন্ট্রাল মেডিটারেনিয়ান পথ।

এই পথ ব্যবহার করে যাত্রার হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৯ হাজার ৩০০-তে, যা আগের বছরের তুলনায় ১২ শতাংশ বেশি।

এর মধ্যে লিবিয়া হয়ে ইতালিতে পৌঁছেছেন প্রায় ২০ হাজার ৮০০ জন, যার মধ্যে অধিকাংশই বাংলাদেশি।

ফ্রন্টেক্স জানিয়েছে, লিবিয়া থেকে ইউরোপমুখী যাত্রীদের বড় একটি অংশ বাংলাদেশি, এরপর রয়েছে মিসরীয় ও আফগান নাগরিকরা।

এই বিপজ্জনক পথে পাড়ি দিতে গিয়ে অনেকেই পাচারকারী চক্রের ফাঁদে পড়ছেন, কেউ প্রাণ হারাচ্ছেন, কেউ নিখোঁজ।

২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে ইউরোপে মোট অনিয়মিত অভিবাসনের সংখ্যা কমে ৭৫ হাজার ৯০০-তে দাঁড়ালেও মৃত্যুর মিছিল থামেনি।

পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয়, পশ্চিম বলকান ও পশ্চিম আফ্রিকান রুটে প্রবেশের হার কমলেও সেন্ট্রাল মেডিটারেনিয়ান রুটে প্রবণতা বেড়েছে।

এছাড়া ফ্রন্টেক্স জানিয়েছে, পূর্ব ভূমধ্যসাগরে লিবিয়া থেকে গ্রিসের ক্রিট দ্বীপমুখী একটি নতুন করিডর গড়ে উঠেছে, যেটি বর্তমানে পাচারকারীরা বেশি ব্যবহার করছে।

পশ্চিম ভূমধ্যসাগরীয় রুটে অভিবাসন বেড়েছে ১৯ শতাংশ এবং শুধু জুন মাসেই অবৈধ প্রবেশ দ্বিগুণ হয়েছে।

আলজেরিয়া থেকে যাত্রার হার বেড়েছে ৮০ শতাংশ। এই রুট ব্যবহার করছে সোমালিয়া ও অন্যান্য আফ্রিকান দেশের অভিবাসীরা।

এদিকে, ইংলিশ চ্যানেল রুটে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের চেষ্টাও বেড়েছে ২৩ শতাংশ। জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত এ রুটে ফ্রান্স হয়ে ইংল্যান্ডে ঢোকার চেষ্টা করেছেন ৩৩ হাজার ২০০ জন।

ফ্রন্টেক্স ও আইওএম-এর মতে, অবৈধ অভিবাসনের সংখ্যা কিছুটা কমলেও মানবিক সংকট, পাচার ও মৃত্যুর হার এখনো উদ্বেগজনকভাবে রয়ে গেছে।

facebook sharing button
messenger sharing button
whatsapp sharing button
twitter sharing button
sharethis sharing button

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.