মারাঠি, পালি, প্রাকৃত, অসমীয়ার সঙ্গে বাংলাকেও ‘ধ্রুপদী’ ভাষার মর্যাদা দেওয়া হয়। এই তালিকায় জায়গা পাওয়া ভাষার সংখ্যা দাঁড়াল বর্তমানে ১১। যা আগে ছিল ৬। আগে এই তালিকায় ছিল তামিল, সংস্কৃত, তেলেগু, কন্নড়, মালায়লাম এবং ওড়িয়া। বাংলা ভাষা ‘ধ্রুপদী’ ভাষার মর্যাদা পাওয়ায় স্বভাবতই খুশি বাংলাভাষী মানুষেরা। সেই উপলক্ষ্যে গত ৮ নভেম্বর কলকাতার উইসডম্ ট্রি ক্যাফেতে (উইসডম্ ট্রি, ৪৯, যতীন দাস রোড, কলকাতা – ৭০০০২৯) ছায়ানট (কলকাতা) – এর বিনম্র নিবেদন ‘মোদের গরব, মোদের আশা/ আ-মরি বাংলা ভাষা’। অনুষ্ঠান শুরু হয় বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে। সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিকল্পনা ও পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন ছায়ানটের সভাপতি সোমঋতা মল্লিক। অনুষ্ঠানের শুরুতে বিশেষ আলোচনামূলক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন: ১. ড. স্বাতী গুহ, অধিকর্তা, ইন্সটিটিউট অফ ল্যাঙ্গুয়েজ স্টাডিজ অ্যান্ড রিসার্চ (আইএলএসআর), কলকাতা ২. অধ্যাপক অমিতাভ দাস স্কুল অফ লিঙ্গুস্টিক স্টাডিজ; ইন্সটিটিউট অফ ল্যাঙ্গুয়েজ স্টাডিজ অ্যান্ড রিসার্চ (আইএলএসআর), কলকাতা ৩. ড. রাজীব চক্রবর্তী লিঙ্গুইস্ট; ইন্সটিটিউট অফ ল্যাঙ্গুয়েজ স্টাডিজ অ্যান্ড রিসার্চ (আইএলএসআর), কলকাতা এই পর্বে সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন রয় চৌধুরী। বাংলা ভাষা কিভাবে ধ্রুপদী ভাষার মর্যাদা পেল, সেই নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বক্তাদের তথ্যসমৃদ্ধ আলোচনার পাশাপাশি দর্শকদের স্বতস্ফূর্তঃ অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানকে অন্য মাত্রা দেয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ সংখ্যালঘু কমিশনের চেয়ারম্যান এবং ‘পুবের কলম’ পত্রিকার সম্পাদক আহমদ হাসান ইমরান। দীর্ঘদিন ‘বাংলা’ ভাষাকে কাজের মাধ্যম হিসেবে নির্বাচন করার জন্য ৪ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সংবর্ধিত করে ছায়ানট (কলকাতা)। লেখক ও প্রতিবিম্ব পত্রিকার সম্পাদক প্রশান্ত মাজী, বাচিক শিল্পী এবং রেডিও ব্যক্তিত্ব রাজা দাস, ক্যুইজ মাস্টার দেবাশীষ সরকার, শব্দবাজির প্রতিষ্ঠাতা রয় চৌধুরী সম্মানিত হন এই সন্ধ্যায়।
‘বাংলা’ ভাষা নিয়ে বিভিন্ন কবির লেখা কবিতা আবৃত্তি করেন ছায়ানটের বাচিকশিল্পীরা। কবিতা পাঠ/আবৃত্তিতে অংশগ্রহণ করেন স্বপ্নিকা দাস রায়, স্বর্ণিকা দাস রায়, তিস্তা দে, অরণ্য স্পন্দন ভদ্র, সুকন্যা রায়, দেবযানী বিশ্বাস, সুজল দত্ত, ইন্দ্রাণী লাহিড়ী, দেবলীনা চৌধুরী, সৃজিতা ঘোষ, সোনালী সাহা চৌধুরী, অভিদীপ্তা পাল, সোহালিয়া সিং, শ্রীকান্ত গোস্বামী, অনিন্দিতা ঘোষ এবং মৌমিতা ঘোষ। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে ছিল বাংলা শব্দের মজাদার খেলার অনুষ্ঠান শব্দবাজি।
অনুষ্ঠান শেষে প্রশান্ত মাজী সম্পাদিত ‘প্রতিবিম্ব’ পত্রিকার ৫০ বছর উপলক্ষ্যে নির্মিত অরিন্দম সাহা সরদার পরিচালিত ‘একটি তরবারির রূপকথা’ (স্বল্পদৈর্ঘ্যের কথাচিত্র) প্রদর্শিত হয়।

