উর্মী-পান্না কান্ড* ও আওয়ামী স্বৈরাচার
সরকারী কর্মকর্তা তাপসী তাবাসসুম উর্মী’র ফেসবুক পোষ্টের আগে ১৪ দলীয় হাসিনা গংয়ের স্বৈরশাসনকালীন সময়েও ড.মোহাম্মদ ইউনুস বিরোধী প্রপাগান্ডা তুঙ্গে ছিল।ছাত্র জনতা অতঃপর দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী’র সম্মিলনে ২০২৪’সালের রক্তগঙ্গা পেরিয়ে ঐতিহাসিক গনঅভ্যূত্থানের পরপরই খূবই সুক্ষভাবে ড. মোহাম্মদ ইউনূছকে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী স্বাধীনতা বিরোধী ইত্যাদি ট্যাগ লাগানোর প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা গিয়েছিল।তবে তাপসী’র পোষ্ট ফেসবুকে প্রকাশিত হওয়ার পর গত ষোল বছরের মাফিয়া স্বৈরাচারের দোসরদের হাউ মাউ কাউ আর নাচন কোদন দেখে হালকাভাবে দেখেছেন কেউ কেউ। তবে বিষয়টিকে হালকাভাবে দেখার অবকাশ আর নেই।
জেড আই খান পান্না সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবি।যিনি হাসানুল হক ইনু’র ও অনেক আওয়ামী গংয়ের খূবই নিকটজন হিসাবে পরিচিত।তিনি বেশ কিছু মানবাধিকার সম্পর্কিত মামলাও লড়েছেন।নামও কামিয়েছেন।তাপসী তাবাসসুম উর্মী’কে সমর্থন করে পান্না ভাইয়ের যে ভি ডি ও প্রচারিত হয়েছে তা নিঃসন্দেহে আওয়ামী খুনী স্বৈরাচার মাফিয়া গোষ্টীকে উজ্জীবিত করেছে।উনি উনার প্রকৃত স্বরূপ এভাবেই উন্মোচন করে নিজেকেও বর্জ্যে পরিনত করেছেন।দেশে বিদেশে সর্বত্র তিনি এখন ঘৃণিত ও সমালোচিত হচ্ছেন।সবকিছু বিবেচনা করে তাই বলা চলে উর্মি একটা উপলক্ষ মাত্র।
রাজাকার ট্যাগ।বিপ্লব ও প্রতিবিপ্লব
ইতিহাসের শিক্ষাঃ
ড.মোহাম্মদ ইউনূসকে দীর্ঘমেয়াদে স্বাধীনতা বিরোধী রাজাকার হিসাবে যেন প্রতিষ্ঠা করা যায়-তজ্জন্য আওয়ামী স্বৈরাচারের দোসর তথা প্রতিবিপ্লবী শক্তি অবশ্যই দীর্ঘ পরিকল্পনা হাতে নেয়ার বিষয়টি বিভিন্ন মহলে এখন উচ্চকিত।
শুধু তাই নয় ২০২৪’সালের ছাত্র জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবকে সাম্প্রদায়িক শক্তির ও মৌলবাদীদের দ্বারা সংঘটিত বলে গোয়েবলসীয় প্রচারনা যে নেই-তা নয়।তবে প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইউনুসও উপদেষ্টা পরিষদের সকল সদস্যদের দৈনন্দিন জীবনাচরণ তাতে বাধ সেধেছে।তাই এখন প্রতিবিপ্লবী’দের একটাই লক্ষ্য যে কোন মূল্যে ড. ইউনুসের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা চালানো।দেশ জাতি এমনকি বিপ্লবের সারথী সকল রাজনৈতিক দল ও মহলকে কনফিউস করে ছলে বলে কৌশলে স্বাধীনতা বিরোধী রাজাকার হিসাবে ড.ইউনূস সরকারকে প্রতিষ্ঠিত করাই মাফিয়া চক্রের একমাত্র লক্ষ্য।তাই ২০২৪’সালের ঐতিহাসিক গনঅভ্যূত্থানের সাথে সংশ্লিষ্ট ছাত্র জনতা, দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী সহ সকল রাজনৈতিক দল ও মহলকে হুশিয়ার থাকতে হবে। ১৯৭১’সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও ২০২৪’ সালের শিশু কিশোরসহ ছাত্র জনতা মা বোন ও দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী’র সম্মিলিত সংগ্রামের ফলিত ফসল ঐতিহাসিক গনঅভ্যূত্থানের স্পীরিট যাতে বেহাত না হয়-সতর্কতার বিকল্প নেই।প্রতিবিপ্লবী চক্রান্তকারী জনবিরোধী শক্তি যাতে স্বাধীনতা আন্দোলনের পবিত্র অনুভবের সাথে ধোকাবাজি করে ঐতিহাসিক গনঅভ্যূত্থানকে ১৯৭১’সালের স্বাধীনতা বিরোধী বলে ট্যাগ দিতে না পারে-সবাইকে কড়া নজর রাখতে হবে।হেলা ফেলা অবহেলা করার পরিণতি ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে হবে।
৭১’য়ের চেতনার আদর্শিক বিজয় ও চেতনার ব্যবসায়িক রূপান্তরের ভয়াবহ পরিনামঃ
বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ মহিউদ্দিন আহমেদের ভাষায় আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা একটি পবিত্র অনুভূতি।অনুভব।যা অন্যায়,অবিচার,অনাচার,অত্যাচার,অসাম্য,বৈষম্য,ভোটাধিকারহরণ,মানবাধিকারহরণ সহ শাসকদের সকল জুলুমের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শেখায়।মনে রাখতে হবে যে,Gen-Z ১৯৭১’সালের মুক্তিযুদ্ধের আদর্শিক চেতনা ও উৎস থেকে শিক্ষা গ্রহন করেছিল।আন্দোলনকালীন সময়ে ছাত্রছাত্রী তরুন তরুনী সমস্বরে মহান মুক্তিযুদ্ধকালীন দেশাত্মবোধক গান,শেকল ভাঙার গান গেয়ে জনতা ও সেনাবাহিনী’র অভূতপূর্ব সম্মিলন অতঃপর পরিনতিতে ঐতিহাসিক গনঅভ্যূত্থানের বিজয় অর্জন থেকে তা ধারণ করতে হবে।অনুভব ও উপলব্ধি করতে হবে।
অপরদিকে গুম,খুন,লুঠতরাজ,দরিয়াচুরি, অর্থ পাচারকারী,শত শিশু, শত শত কিশোর,তরুণ তরুণী’র হত্যাকারী বাংলাদেশের ইতিহাসের জঘন্যতম স্বৈরাচার মাফিয়া হাসিনা গং ‘বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ’কে ব্যক্তিকরণ,পরিবারিকীকরণ,দলীয়করণ করে।পরিনামে ‘বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ’কে হাসিনা ও আওয়ামী গং সরাসরি প্রশ্নবিদ্ধ করে। শুধু তাই নয়-বিগত ষোল বছর ধরে জাতীয় জীবনের সর্বক্ষেত্রে চেতনা’কে সর্বগ্রাসী ব্যবসায়ে রূপান্তর করে। আমজনতাকে পদতলে পিষ্ট করে।পরিনামে জালেম সরকারের ভূমিধ্বস পতন।
বিভাজন।দানবীয় উল্লাসগনঅভ্যূত্থানের স্পীরিটঃ
শেখ হাসিনা ও ১৪ দলীয় আওয়ামী গং যাতে আর কখনো চেতনার নামে জনমনে বিভাজন সৃষ্টি করতে না পারে-যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে।এক নদী রক্তগঙ্গা বেয়ে ছাত্র জনতার এই ঐতিহাসিক গনঅভ্যূত্থানের স্পীরিট যাতে নষ্ট না হয়-রেডিও টিভি সহ সকল মিডিয়া ও সংবাদ মাধ্যমে জনমনকে উজ্জীবিত রাখার জন্য উপাদান থাকতে হবে।
আমাদের স্মরণ রাখতে হবে যে, শহীদ শত শিশু, হাজারো কিশোর,তরুণ তরুণীর মৃত্যু বিশ্ববিবেককে নাড়া দিলেও তথাকথিত ১৪ দলীয় আওয়ামী গং’য়ের মাফিয়া লুঠেরা গোষ্টীর বিবেককে মোটেই নাড়া দেইনি।তাপসী তাবাসসুম উর্মী’র মত বর্জ্যের ফেসবুক পোষ্ট নিয়ে স্বৈরাচারী হাসিনা গং’য়ের দানবীয় উল্লাস সকলের নজর কেড়েছে। তাই প্রতিবিপ্লবী,উস্কানীদাতা,বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারীদের হালকাভাবে আর যেন দেখা না হয়।
*এফ আর খান ও ড. ইউনূস * প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধার স্বরূপ সন্ধানঃ
কয়েক যুগ ধরে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী।স্বল্প মেয়াদে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে থাকা ও ভ্রমনের সুবাদে অনেকের সাথেই পরিচিত।বছর খানেক মিশিগানে থাকলেও বেশীর ভাগ সময় নিউইয়র্ক ও এখন লাসভেগাস,নেভাদাতেই বসবাস করি।১৯৭১’সাল পূর্ব সময়ে যাঁরা যুক্তরাষ্ট্রে গমন করেন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে কাজ করেন এমন কয়েকজনের সান্নিধ্য লাভের সৌভাগ্য হয়। এঁদের মধ্যে ডাঃ খন্দকার আলমগীর, কাজী জাকারিয়া, ড. জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত ও ড. জিল্লুর রহমান খান উল্লেখযোগ্য।তবে কমিটি ফর ডেমোক্রেসী ইন বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে ডাঃ খন্দকার আলমগীর ভাইয়ের সাথে সবচাইতে বেশী ঘনিষ্ট ছিলাম।অন্যদেরও ভালবাসা পেয়েছি।স্নেহধন্য ছিলাম।ডাঃ খন্দকার আলমগীর ও ড. জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত একসময় বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় নেতা ছিলেন।স্বাধীন বাংলা নিউক্লিয়াসের কিংবদন্তি নেতা ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার রূপকার সিরাজুল আলম খানের মাধ্যমে ড.জিল্লুর রহমান খানের সাথে পরিচয়।
মুক্তিযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশীদের মধ্যে নিউইয়র্কে ডাঃ খন্দকার আলমগীর, কাজী জাকারিয়া ও ড.জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত সহ পাকিস্তান ফরেন সার্ভিস ত্যাগ করে বাংলাদেশের পক্ষে বিদ্রোহের নায়ক এ এইচ মাহমুদ আলী,সৈয়দ আনোয়ারুল করিম,এনায়েত করিম,শাহ এ এম এস কিবরিয়া,আবু রুশদ মতিনউদ্দিন,আতাউর রহমান চৌধূরী, সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী,এ এম শারফুল আলম,শেখ রুস্তম আলী ওয়াশিংটন ডি সি’র আবুল মাল আল মুহিত ও মহিউদ্দিন আহমদ উল্লেখযোগ্য।
শিকাগো ইলিনয়,টেনেসী ও আরকানসাস সহ মধ্য আমেরিকা থেকে বিশ্ববিখ্যাত স্থপতি স্যার ফজলুর রহমান খান( এফ আর খান) ও ড. মোহাম্মদ ইউনূস বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। শিকাগো, টেনেসি হয়ে হাজার মাইল গাড়িতে পাড়ি দিয়ে নিউইয়র্ক,ওয়াশিংটন ডি সি গিয়ে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বজনমত গঠনে এফ আপ খান ও ড.ইউনূস নিজেদের নিবেদন করেন।যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর,কংগ্রেসম্যান সহ শিল্পী ও সাংস্কৃতিক সেলিব্রিটি,কবি,লেখক,শিক্ষকদের মাঝে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে তুলে ধরেন। সাধারণের মাঝেও জনমত তৈরীতে ব্যাপক ভূমিকা প্রণিধানযোগ্য।নোবেল বিজয়েরও পয়ত্রিশ বছর আগে ১৯৭১’সালে তখন তিনি মিডল টেনেসী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। মাস কয়েক আগে সর্বপ্রথম বিশ্বের সূউচ্চ ভবনের নির্মান কাজ স্যার এফ আর খানের তত্তাবধানে ১৯৭০’সালের আগষ্ট মাসে শুরু হয়।১৯৭৩ সালে নির্মান কাজ শেষ হয়।যা তখন সিয়ার্স টাওয়ার নামে পরিচিত ছিল।এখন পরিবর্তিত নাম উইলিস টাওয়ার।স্যার এফ আর খান স্থাপত্য বিদ্যা তথা সূউচ্চ ভবন নির্মানে ‘টিউব টু টিউব’ পদ্ধতি আবিস্কারের জনক ও সিয়ার্স টাওয়ারের অন্যতম স্থপতি হিসাবে তখন বিশ্বব্যাপী প্রসিদ্ধি অর্জন করেছেন। এমতাবস্থায় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়।দেশে বিদেশে বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে জনমত গঠনে ও মুক্তিযুদ্ধ সহায়তা প্রকল্প বিনির্মানে স্যার এফ আর খান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেন।তখন এফ আর খানের সবচাইতে বিশ্বস্থ ও কাছের মানুষ ছিলেন ড. মোহাম্মদ ইউনূছ।স্যার এফ আর খানের ভাই প্রখ্যাত প্রয়াত রাষ্ট্র বিজ্ঞানী ড. জিল্লুর রহমান খান প্রায়শঃ একথা বলতেন। বিজ্ঞ ও প্রাজ্ঞ এই দুই ভাইয়ের সাথেই ড.মোহাম্মদ ইউনুসের গভীর সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ছিল।এফ আর খানের সাথে ড. মোহাম্মদ ইউনূছ নিউইয়র্কে পাকিস্তান ফরেন সার্ভিস ত্যাগ করে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে বিদ্রোহের নায়ক এ এইচ মাহমুদ আলী ও সৈয়দ আনোয়ারুল করিমের মাধ্যমে পাকিস্তান ফরেন সার্ভিস থেকে অর্থনৈতিক কারনে যাঁরা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে তখনও পর্যন্ত বিদ্রোহ করেনি তাঁদের উদ্ভূদ্ধ করনে কাজ করেন।পরে এফ আর খানের উদ্দ্যোগে অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান হলে সকলেই পাকিস্তানের পক্ষ ত্যাগ করে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। যা তখনকার বিশ্বপরিসরে স্বাধীন বাংলাদেশ অর্জনে চলমান মুক্তিযুদ্ধের জন্য ছিল বিরাট অর্জন।
মুক্তিযুদ্ধ ও প্রবাসী অর্থসংগ্রহ* প্রকাশনা* মিডিয়াঃ
মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রবাসী বাংলাদেশী ও বাংলাদেশী আমেরিকান ছিল খূবই অল্প।তাই বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বসবাসরত পরিচিতজনের মাধ্যমে ও ড.ইউনূস নিজে আমেরিকান ও বিভিন্ন দেশের লোকজনদের নিকট থেকে অর্থ সংগ্রহ করে তা কলকাতায় মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য প্রেরণ করতেন।স্থপতি এফ আর খান ঐ সময়ে মুক্তিযুদ্ধে জনমত গঠনে স্পেশাল চোখ ধাঁধানো নিউজ লেটার প্রকাশনা শুরু করেন।ড.ইউনুছ নিউজ লেটারে নিজে এঁকে আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে কার্টুন চিত্রের মাধ্যমে বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরতেন।একই নিউজ লেটারে যে সকল লেখা প্রকাশ করা হত-তা ড.ইউনুছের রাশিয়ান বংশোদ্ভূত স্ত্রী ভীরা টাইপ করতেন। অবাক করা বিষয় ছিল বিদেশে জনমত সংগঠনে ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্বপক্ষে আন্তর্জাতিক মিডিয়াতে ড. মোহাম্মদ ইউনূস জোরালো ভূমিকা রেখেছিলেন।বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে প্রবাসের ঝড় ঝাপটা সহ্য করে অবদান রাখার বিষয়টি স্মরণীয় হয়ে থাকবে।মোটাদাগে তিনি সস্ত্রীক যে ত্যাগ স্বীকার করেন তা সত্যিই বিস্ময়কর।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র থেকে স্যার এফ আর খান ও নোবেল বিজয়ী ড.মোহাম্মদ ইউনূছ সহ যে কয়জন অসামান্য অবদান রেখেছেন- তা আগামী জমানার সন্তানগন সমুদ্র মন্থন করে তুলে আনবেন।স্বৈরাচারী হাসিনা গং শাসনকালীন সময়ে ক্ষমতার মদমত্তে উন্মাদের মত ড. মোহাম্মদ ইউনূসকে দেশের কাজে না লাগিয়ে স্বাধীনতা বিরোধী ট্যাগ দেয়ার ব্যর্থ চেষ্টা করেছিলেন।যা ক্ষমতা থেকে উৎখাতের পর গৃহপালিত ভৃত্যদের মাধ্যমে আরও চরমে পৌছেছে।স্মরণ রাখতে হবে যে, মিথ্যা সে যতই শক্তিশালী হোক না কেন- সত্য একদিন প্রকাশিত হবে।যা হবে আলোকিত শিখা অনির্বানের মত।

হত্যা ও বিবেকহীনতা ড.ইউনূসের প্রয়োজনীয়তাঃ
১০৫ জন শিশু সহ শত শত কিশোর তরুণ তরুণী’র বুকের তাজা রক্ত দিয়ে আত্মত্যাগ ও মৃত্যু এখনও তথাকথিত ১৪ দলীয় গংয়ের অধিকাংশ জনের বিবেকবোধকে বিন্দুমাত্র নাড়া দিতে পারেনি।তা ভীষণ প্রকটভাবে তাপসী’র ফেসবুক পোষ্টের পর ধরা পড়ে।এমন উল্লাস ও দানবীয় নৃত্যের পর মধ্যবাম ও বামপন্থীদের কথা বাদ দিলে বি এন পি, জামাত সহ ধর্মীয় দলগুলোর জন্য এটি সতর্ক বার্তা নয় কি? কিছু কিছু ক্ষেত্রে ধর্মীয় দলগুলোর অতিরিক্ত উল্লাস বুমেরাং হওয়ার বিষয়টি ভেবে দেখার মত নয় কি? আওয়ামী গংয়ের ফাঁদে পা দিয়ে বার বার জালে আটকে পড়ার বিষয়টি বুঝতে হবে। অশিতিপর ড. মোহাম্মদ ইউনূস কত প্রেসার নিতে পারবেন-সেটি বিপ্লবের সহযোগী সকলকে বুঝতে হবে।সারাবিশ্বে তিনি সম্মানিত।অবস্থা যে রকম দাঁড়িয়ে গেছে তাতে তিনি যদি অপারগতা প্রকাশ করে আপন আলয়ে গমন করেন- তখনকার অবস্থা চিন্তা করা গা শিউরে উঠার মত নয় কি? তিনি ছাত্র জনতার অনুরোধে প্রধান উপদেষ্টা পদ গ্রহন করার পর সমগ্র বিশ্ব বাংলাদেশের দিকে কিভাবে হাত বাড়িয়ে দিয়েছে তা বুঝতে হবে।বাংলাদেশ সমগ্র বিশ্বে সম্মানের যে অনন্য উচ্চতায় অবগাহন করছে-এর পেছনে ড. মোহাম্মদ ইউনুসের রঅবস্থান ও ভূমিকাকে ধারন করতে হবে।বিপ্লব পরবর্তি এই টালমাটাল অবস্থায় সকলে মিলে ড.ইউনূসকে এগিয়ে না নিয়ে গেলে সকলকে চরম অকল্পনীয় মাশুল গুনতে হবে।আমরা যেন ভুলে না যায়।
সালতামামঃ
ড. ইউনূসের দেশে বিদেশের সকল বক্তৃতায় মানুষের হ্যাপীনেছ ও সূপার হ্যাপিনেছের কথা বলা হয়। অন্যদের পরিচয় করিয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে ড.ইউনূসের সরলতা বেশ উপভোগ্য।তবে তিনি কখনো নিজের কথা বা সুনাম নিজে করেছেন বলেছেন-তেমন কোথাও শুনা যায়নি। অথচ মুক্তিযুদ্ধে প্রবাসে তিনি যে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন-তা কখনো নিজ মূখে বলতে চাননি। বাংলাদেশের স্বাধীনতার রূপকার নিউক্লিয়াসের অন্যতম নেতা আমৃত্যু যেমন বলেননি-অনেকটা তেমনই।ইদানিং অবশ্য নাকে মূখে ফেনা তুলে গৃহপালিত চেতনাবাজরা যেভাবে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কথা বলেন-তাতে যে কেউ বুঝতে পারেন যে, *খালি কলসী বেশী বাজে।পরিশেষে ১৯৭১’সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধা ড. মোহাম্মদ ইউনূস ও ২০২৪’য়ের বিপ্লবের অন্যতম প্রতীক শহীদ আবু সাঈদ’কে নিয়ে সর্বোপরি ঐতিহাসিক ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানকে জনমানসে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য তাপসী তাবাসসুম উর্মী’র ফেসবুক পোষ্ট শিষ্টাচার বর্জিত ও চরম ধৃষ্টতাপূর্ণ।সরকারী কর্মকর্তা হয়েও আওয়ামী দলীয় ও হাসিনা গং’য়ের পারপাস সার্ভ করার মত উদ্ধত্য সরাসরি সরকারের প্রতি চ্যালেন্জ ঘোষনা নয় কি? রাষ্ট্রের অন্যতম অরগান জন প্রশাসন। প্রশাসন এধরনের ধৃষ্টতা ও অবাধ্যতা বরদাশত করবে কিনা সেটাই এখন দেখার বিষয়। শুধু তাই নয়-প্রধান উপদেষ্টা পদ’কে অপমানিত করার কথা বাদ দিলাম। জাতির গর্বিত সন্তান প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধা ড. মোহাম্মদ ইউনূস এবং ২০২৪’ জুলাই-আগষ্ট বিপ্লবের প্রতীক শহীদ আবু সাঈদের ব্যক্তিগত ও আদর্শিক চরিত্র হননের মত অনৈতিক ধৃষ্টতাপূর্ণ পোষ্ট বিবেচনায় নিয়ে তাপসী তাবাসসুম উর্মী’র অতীত ও বর্তমানের সমূহ কর্মকান্ডের সুষ্ট তদন্ত এখন অবশ্যকরণীয়।দোষী সাব্যস্ত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা এখন সময়ের দাবী।তদন্তকালীন অবস্থায় তাপসী’র বিদেশ গমন নিষিদ্ধ করার দাবীও লক্ষনীয়।বাঙালী জাতির বীর সন্তান একজন প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধা, বিশ্ববরেন্য ও বাংলাদেশ এবং জাতির গর্ব নোবেল লরিয়েট ড.মোহাম্মদ ইউনূসের এবং ২০২৪’য়ের বিপ্লবের অন্যতম প্রতীক শহীদ আবু সাঈদ’কে যেন আর শিষ্টাচার বর্জিত আচরনের শিকার ও অপমানিত হতে দেয়া না হয়।
তথ্যসূত্রঃ
উইকিপিডিয়া,গুগল, টক’শো, সোশ্যাল মিডিয়া,পত্রপত্রিকা,
আ স ম আবদুর রব,আবুল মাল আল মুহিত,মহিউদ্দিন আহমেদ,জুলফিকার শাহাদাত,ইলিয়াছ হোসেন,জাহেদ রহমান ও অন্যান্য।
সিকদার গিয়াসউদ্দিন
লাস ভেগাস,নেভাদা।
ইউ এস এ
লেখক পরিচিতিঃ
প্রধান পৃষ্টপোষক ও প্রতিষ্ঠাতাঃ মনসুর আলী সিকদার আইডিয়াল উচ্চ বিদ্যলয়।
হিউম্যান রাইটস কনসালটেন্টস
সাধারণ সম্পাদকঃ SAK রিসার্চ সেন্টার ফাউন্ডেশন
কেন্দ্রীয় উপদেষ্টাঃ জে এস ডি, বাংলাদেশ।
সমন্বয়কঃ প্রবাসীদের গ্লোবাল সংগঠন কানেক্ট বাংলাদেশ ও কানেক্ট বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল।
সাবেক ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ কমিটি ফর ডেমোক্রেসী ইন বাংলাদেশ নিউইয়র্ক,যুক্তরাষ্ট্র।
সাবেক সদস্য সচিবঃ মুক্তিযুদ্ধ চেতনা পরিষদ নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র
প্রতিষ্ঠাতা আহ্ববায়কঃ কর্ণেল তাহের স্মৃতি সংসদ, যুক্তরাষ্ট্র
সাবেক ভি পিঃ SBIT/BSPI ৮০/৮১
বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে যুক্ত।

