লন্ডনে বাংলাদেশ জাসদ ও বামফ্রন্টের যৌথ সভায় ছাত্র-জনতার প্রতি ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম জারি রাখার আহবান

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে ফ্যাসিবাদের ভিত্তি ধ্বংস করে সমতাভিত্তিক সমাজ, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার আহবান জানানো হয় লন্ডন বামফ্রন্ট ও অন্যান্য সংগঠনের এক  জনসভায় । আজ পূর্বলন্ডনে বাংলাদেশ জাসদের শামীম আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপরিউক্ত আহবান জানানো হয়। সভায় আরো বলা হয় যে, আগস্ট গণঅভূত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামীলীগের ফ্যাসিস্ট শাসনের অবসান হলেও ফ্যাসিবাদের ভিত্তি ধ্বংস হয়নি। বিজয়ের লক্ষ্য অর্জন ও সংস্কার সম্পূর্ণ করতে ছাত্র-জসতার প্রতি ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম জারি রাখার আহবান জানানো হয় । সভার শুরুতে গণআন্দোলনের সকল শহীদ ও বন্যায় মৃতদের এবং তেল গ্যাস রক্ষা আন্দোলনের নেতা ইন্জিনিয়ার শহীদুল্লাহ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য গবেষক গোলাম মুর্শিদ, পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মূখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভটাচার্যের মৃত্যুতে গভীর শোক ও এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।
সভায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে নিম্নোক্ত দাবি উত্থাপন করা হয়ঃ
সমতাভিত্তিক সমাজ, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষে সংস্কার অব্যাহত রাখতে হবে;
কেবল ক্ষমতার হাত বদল নয়, ফ্যাসিবাদের নিবর্তনমূলক সকল ভিত্তির অবসান ঘটাতে হবে;
সকল ধরনের নিবর্তনমূলক আইন ও ব্যবস্থা বাতিল করতে হবে।
সকল হত্যাকাণ্ডের বিচার করতে হবে;
বৈষম্য নিরসন ও সমতা অর্জনের লক্ষে সকল ধরনের সামাজিক বৈষম্য, আয় ও সম্পদের বৈষম্য নিরসনের পদক্ষেপ নিতে হবে
সেন্ট মার্টিন দ্বীপ ও বঙ্গোপসাগরে কোন বৈদেশিক সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করা যাবে না;
ভারতের সাথে সকল চুক্তি প্রকাশ ও পুনর্মূল্যায়ন করতে হবে। দেশের স্বার্থকে প্রধান্য দিয়ে কারো প্রতি বৈরী বা নতজানু নয় -এমন স্বাধীন ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী পররাষ্ট্র নীতি অনুসরণ করতে হবে;
নির্বাচন কমিশন আইনকে সংস্কার করতে হবে, যাতে করে নির্বাচন কমিশন সরকারের নিয়ন্ত্রণমুক্ত থেকে স্বাধীনভাবে নির্বাচন করার ক্ষমতা পায়;
শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি পুনঃ নির্ধারণ ও ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। শ্রমিক কৃষকসহ মেহনতী মানুষের সাথে আলোচনার ভিত্তিতে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। আদিবাসীদের ন্যায়সঙ্গত অধিকার নিশ্চিত করতে হবে;
ধর্মীয় ফ্যাসিবাদী শক্তি কর্তৃক দেশের বিভিন্ন স্থানে স্বাধীনতার ভাস্কর্য ধ্বংস সাধনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে । ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও উপসনালয়ে হামলার নিন্দা, হামলার বিচার ও নিরাপত্তা নিশিচত করার দাবি জানাননো হয়। অভূত্থানোত্তর প্রতিহিংসা ও শারিরীক হামলা বন্ধ করতে হবে;
দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত সম্পত্তি অবিলম্বে বাজেয়াপ্ত করতে হবে ও লুটপাটকারীদের গ্রেফতার করতে হবে; ও সকল ধরনের দখল, পুনঃদখল ও চাদাবাজি, ঘুষ বন্ধ করতে হবে। জড়িত বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
সভায় বক্তব্য রাখেন বিশেষ বক্তা ডাকসুর সাবেক জিএস এবং বাংলাদেশ জাসদ স্থায়ী  কমিটির সদস্য ডাঃ মুশতাক হোসেন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির আবেদ আলী, নিসার আহমেদ, আমজাদ খান, উদীচীর ডাঃ রফিকুল হাসান জিন্নাহ, বাসদ মার্কসবাদীর মোস্তফা ফারুক ও বাবলু খন্দকার, বাসদের হুমায়ুন খান, ওয়ার্কার্স কাউন্সিলের শাহরিয়ার বিন আলী, ওয়ালি রহমান, মন্জুলিকা জামালী ও সাবিনা শ্রাবনী, বাংলাদেশ সলিডারিটি গ্রুপের ড. আখতার সোবহান মাসরুর ও ড. আয়েশা সিদ্দিকা, বাংলাদেশ জাসদের বেলায়েত হোসেন পলিট, ফ্রেনডস অফ ছাত্র ইউনিয়নের গোলাম আকবর মুক্তা, সাবেক ছাত্র ইউনিয়ন নেতা ইকবাল বাল্মীকি প্রমুখ। সুত্র : প্রেস বিজ্ঞপ্তি ।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.