জলদস্যুদের কবল থেকে মুক্ত হওয়া এমভি আব্দুল্লাহ জাহাজের দ্বিতীয় প্রকৌশলী মো. তৌফিকুল ইসলামের স্ত্রী জোবায়দা নোমান জানিয়েছেন, ‘আমার স্বামী ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ফোন করেছিল। বলেছে, জলদস্যুদের কাছ থেকে মুক্ত হয়েছে, এখন ভালো আছে। তিনি আরও জানান, বেশিক্ষণ কথা হয়নি। কারণ তখন ব্যস্ত ছিল। সবকিছু গুছিয়ে পরে আবার কথা বলবে বলে জানিয়েছে। বলেছে চিন্তা করো না, দোয়া করো। দুবাই রওনা দিয়েছি।’
নগরীর করিমনগর এলাকার বাড়িতে বসে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি বলেন, আজ আমার জীবনের সবচেয়ে খুশির দিন। গত এক মাস অনেক দুশ্চিন্তা গেছে। তৌফিকের মা দিল আফরোজ বলেন, আল্লাহর কাছে অনেক অনেক শুকরিয়া। আমার ছেলেসহ ২৩ জন জলদস্যুদের কবল থেকে ছাড়া পেয়েছে। আমরা সরকারের কাছে, জাহাজ কোম্পানির কাছে কৃতজ্ঞ, দ্রুত তাদেরকে মুক্ত করেছে। আমাদের আনন্দের শেষ নেই।
তৌফিকের মেঝো ভাই মো. খালেদুল ইসলাম খালেদ বলেন, আমরা খুব খুশি। আল্লাহর অশেষ রহমত এবং সবার দোয়ায় ওরা মুক্ত হয়েছে। আমরা অপেক্ষায় আছি, দ্রুত তারা ফিরে আসুক। আমরা এক মাস ধরে সবাই খুব দুশ্চিন্তায় ছিলাম, আমাদের দুশ্চিন্তা কেটে গেছে, আমরা খুব খুশি।
তৌফিকের শ্যালক মো. শিব্বির আহমেদ বলেন, আমরা অনেক খুশি হয়েছি। আমরা অপেক্ষা করছি জাহাজের ২৩ জন দ্রুত যেন নির্বিঘ্নে দেশে ফিরে আসতে পারে। আমরা সেই অপেক্ষায় রয়েছি।
গত ২৫ নভেম্বর জাহাজে গিয়েছিলেন মো. তৌফিকুল ইসলাম। তিনি খুলনা নগরীর সোনাডাঙ্গা থানার ২০/১ করিমনগর এলাকার মো. ইকবাল এবং দিল আফরোজ দম্পতির ছেলে। তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি সবার ছোট।
প্রসঙ্গত, গত ১২ মার্চ ২৩ নাবিকসহ এমভি আবদুল্লাহ জাহাজকে জিম্মি করে সোমালিয়ার জলদস্যুরা। এরপর তারা মুক্তিপণ দাবি করে। বিষয়টি মালিকপক্ষ সরাসরি স্বীকার না করলেও মুক্তিপণ দিয়েই জাহাজটিকে মুক্ত করেছে তারা। এর আগে ১৪ বছর আগে একই মালিকের আরেকটি জাহাজ এমভি জাহান মণিকেও একইভাবে মুক্ত করে কেএসআরএম গ্রুপ।
দীর্ঘ ১ মাস পর জলদস্যুদের নিয়ন্ত্রণে থাকা জিম্মি অবস্থা থেকে মুক্ত হয়েছে বাংলাদেশি জাহাজ এম ভি আব্দুল্লাহ ও জাহাজের ২৩ নাবিক। বাংলাদেশে সময় শনিবার (১৩ এপ্রিল) দিবাগত রাত সোয়া তিনটার দিকে এ খবর নিশ্চিত করেছে জাহাজটির মালিকপক্ষ কেএসআরএম গ্রুপ।

