৭৭তম জন্মদিনে মির্জা ফখরুলের সঙ্গে কারা ফটকে দেখা করবেন স্ত্রী-মেয়ে

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ৭৭তম জন্মদিন আজ শুক্রবার (২৬ জানুয়ারি)। এ উপলক্ষে মির্জা ফখরুলের সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগম, তার বোন ও ছোট মেয়ে কারাগারে দেখা করতে যাবেন।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানিয়েছেন এসব তথ্য।

 

১৯৪৮ সালের ২৫ জানুয়ারি উত্তরবঙ্গের ঠাকুরগাঁও জেলায় জন্মগ্রহণ করেন দেশের প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ। বিরোধীদলীয় রাজনীতির কারণে তাকে কখনো কারাগারে আবার মাঠের নেতৃত্বে দেখা যায়।

গত বছর ২৮ অক্টোবর ঢাকায় বিএনপির মহাসমাবেশ হয়। এতে নেতাকর্মীদের সঙ্গে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষ বাঁধে। এক পর্যায়ে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ছোড়া টিয়ারশেল, রাবার বুলেট ও সাউন্ড গ্রেনেডে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় পুরো নয়া পল্টন। ভণ্ডুল হয় বিএনপির সেই মহাসমাবেশ। পরদিন সকালে মির্জা ফখরুলকে গুলশানের বাসা থেকে গোয়েন্দা পুলিশ ডিবিতে নেয়। এরপর মহাসমাবেশে সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে ভাঙচুরের মামলায় কারাগারে পাঠানো হয় তাকে। সব মামলা থেকে জামিন মিললেও একটি মামলায় জামিন পাননি মির্জা ফখরুল।

 

দুই মেয়েকে নিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও রাহাত আরা বেগমের সংসার। বড় মেয়ে মির্জা শামারুহ অস্ট্রেলিয়ায় স্বামী-সন্তান নিয়ে আছেন। সেখানে সিডনির একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্ট ডক্টরিয়াল ফেলোশিপ নিয়ে এখন ক্যানবেরার ফেডারেল মেডিকেল কাউন্সিলের সিনিয়র সাইন্টিস্ট হিসেবে কাজ করছেন। আর ছোট মেয়ে মির্জা সাফারুহ ঢাকার ধানমন্ডির ‘স্যানি ডেল’ স্কুলে শিক্ষকতা করেন।

ছাত্রজীবন থেকে রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ফখরুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন শাখার সভাপতি এবং এসএম হল শাখার নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করে শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেন। তিনি ঢাকা কলেজে অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক ছিলেন।

১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে সক্রিয় রাজনীতিতে আসেন মির্জা ফখরুল। ১৯৮৮ সালে ঠাকুরগাঁও পৌর সভার প্রথম নির্বাচিত চেয়ারম্যান হন।

 

মির্জা ফখরুলের বিএনপির রাজনীতির শুরুটা তৃণমূল থেকে। প্রথমে ১৯৯২ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি দিয়ে শুরু করেন বিএনপির সঙ্গে পথচলা। পরে দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য থেকে শুরু করে মির্জা ফখরুল সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব, ২০১১ সাল থেকে দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং ২০১৬ সালে ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব নির্বাচিত হন।

বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ে নেতৃত্বে আসার আগে তিনি জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের প্রথম সহসভাপতি এবং পরে সভাপতির দায়িত্বেও ছিলেন দীর্ঘদিন।

ঠাকুরগাঁও আসনে বিএনপি থেকে দু’বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি এবং এবং প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৭৯ সালে জিয়াউর রহমানের শাসনামলে উপ-প্রধানমন্ত্রী এস এ বারীর একান্ত সচিবও ছিলেন।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.