গুম, খুন, ভোটচুরি, দুর্নীতি পাচারের বিচার হওয়া ছাড়া আওয়ামীলীগের সাথে কোনো ঐক্য হতে পারে না। – কবীর হাসান আজ জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘ছলচাতুরী টালবাহানা বাদ দাও, অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নির্বাচন দাও’ শীর্ষক বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে নাগরিক যুব ঐক্য। বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নাগরিক ঐক্যের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোফাখখারুল ইসলাম নবাব বলেন, দেশে কোনো গণতন্ত্র নাই। এই সরকার বিগত দুটি নির্বাচনে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে। রক্ত দিয়ে এ দেশের মানুষ স্বাধিনতা এনেছে। এই স্বাধিনতা, মানুষের নিরাপত্তাকে যারা বিঘ্নিত করেছে, অন্যায় দুর্নীতি করেছে তাদের বিরুদ্ধে আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রুখে দাঁড়াতে হবে। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন নাগরিক যুব ঐক্য কেন্দ্রীয় কমিটির সমন্বয়ক এস এম এ কবীর হাসান। তিনি বলেন, মাফিয়া সরকারের নেতাদের কারোরই আর দেশে বিদেশে কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই। এখন তাদের ক্ষমতা ছাড়তে হবে।
সম্প্রতি সংসদে গাইবান্দা ১ এর এমপি, তিনিও সঠিক ভোটে নির্বাচিত হোননি, জাতীয় ঐক্যের কথা বললেন। আপনারা এই কথা আজ কেন বলেলেন? গুম, খুন, ভোটচুরি, দুর্নীতি পাচারের বিচার হওয়া ছাড়া আওয়ামীলীগের সাথে কোনো ঐক্য হতে পারে না। যারা জাতীয় সরকারের কথা বলছেন তাদের বলি, যারা জনগণের অধিকার নিয়ে মাঠে সংগ্রামে আছে তারাই সরকার গঠন করবে, দেশে একটি স্থিতিশীল গণতন্ত্রের জন্য ও একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য কাজ করবে। জনগণ চায় না তাই অন্তর্বর্তী সরকারে আওয়ামীলীগের থাকার কোনো অধিকার নেই। নাগরিক ঐক্যের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আতিকুল ইসলাম বলেন, প্রতিটি সেক্টরে দুর্নীতি করেছে সরকার আর তাদের সুবিধাভোগী মহল। দেশে গুম খুন নির্যাতনের যে অপরাজনীতিতে সরকার নেমেছে তার ফল ভালো হবে না। দেশের মানুষ ফুসে উঠলে পালানোর জায়গা পাবেন না। তার আগেই ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে মানুষকে শান্তি দিন। কেন্দ্রীয় কমিটি সদস্য খলিলুর রহমান বলেন, বর্তমানে দ্রব্যমূল্য উর্ধ্বগতি অসহনীয় পর্যায়ে চলে গেছে।
দেশের অর্থনৈতিক অবকাঠামোতে উন্নয়নের নামে শুধু দুর্নীতি আর পাচার হয়েছে। গনতন্ত্র ও মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতির জন্য আজ দেশে বিভিন্ন দেশের নিষেধাজ্ঞা আসছে। এর দায় আওয়ামীলীগ এর। সমাবেশে নাগরিক যুব ঐক্য কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শাম্য শাহ বলেন, যখন পুড়ে যাচ্ছে গ্রাম, নগর, ধর্মগ্রন্থ, সংবিধান ঠিক তখন আমরা দাঁড়িয়েছি গণমানুষের আয়না প্রেসক্লাবের পবিত্র চত্বরে। আমরা দাঁড়িয়েছি ভোটের অধিকারে, মানুষের নিরাপত্তার প্রশ্নে। স্বাধীনতার ৫০ বছর পরে এটা আমাদের জন্য লজ্জার। আওয়ামি ফ্যাসিস্ট সরকার উন্নয়নের নামে সেংশনের সাথে মায়ানমার, উত্তর কোরিয়া এবং আফগানিস্তানের সাথে ব্রেকেট-বন্দি করে এই লজ্জা উপহার দিয়েছে! যুব ঐক্যের নেতা মোহাম্মদ শামীম আহমেদ বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছর পর বাংলাদেশের একটি বাহিনীর উপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এমন অমানবিক বাহিনী আমরা চাই নাই। দেশের মানুষ চায় নাই।
কিন্তুু একটি দল তার ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য এই বাহিনীকে ব্যবহৃার করেছে যার ফলে গুম, খুন হয়েছে, মানবাধিকার লংঘিত হয়েছে। যে কারণে আজ ১২টি মানবাধিকার সংগ ঠনের জন্য আরও নিষেধাজ্ঞা চেয়েছে। আমরা সঙ্কিত, এই প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা যদি রাষ্ট্রের উপর অর্পিত হয়। তবে আমাদের আবস্থা ইরান কিংবা ভেজুয়ালার মত হবে। নাগরিক ছাত্র ঐক্যের সভাপতি মোশাররফ হোসেন তার বক্তব্যে বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছর পর এসেও আমরা ভোটাধিকার ফিরে পাইনি। দেশে যখন ৫ কোটির উপর বেকার তখনই এই সরকার উন্নয়নের ফুলঝুরিতে ব্যাস্ত। নিজেরা অনির্বাচিতভাবে ১০ বছর ক্ষমতায় থাকলেও ৯০ দিনের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে তারা অসাংবিধানিক বলছে। দেশে যখন খাদ্যের অভাবে মানুষ আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে তখন তারা উন্নয়নের নামে বেগম পাড়ায় টাকা প্রাচার করছে। এই সরকারের পতনের আন্দোলন ছাড়া জনগণের মুক্তির আর কোনো উপায় নাই। নাগরিক যুব ঐক্যের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সালমান ফারসীর সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন যুব ঐক্য নেতা প্রাচ্যু মোহাম্মদ। যুব ঐক্য কেন্দ্রীয় কমিটি সদস্য মাহফুজুল ইসলাম, মোহাম্মদ সবুজ, হাফিজুদ্দিন মুন্না, যুব ঐক্য নেতা আব্দুর রহমান, মোহাম্মদ জহির, নাগরিক ঐক্যের কেন্দ্রীয় কমিটি সদস্য সাকিব আনোয়ার, রাজ্জাক সজিব, নারী ঐক্যের সদস্য সচিব ফেরদৌসি আক্তার, নাগরিক ছাত্র ঐক্যের কেন্দ্রীয় কমিটি সদস্য রাসেল আহমেদ, এম এ আলিফ, খালিদ হোসাইন শান্ত ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সংবাদসুত্র , প্রেস বিজ্ঞপ্তি ।

