পল্লবী থানার ওসির বিরুদ্ধে আইজিপি বরাবর অভিযোগ

বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার বরাবর রাজধানীর পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পারভেজ ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন সাপ্তাহিক নতুন বার্তা সম্পাদক ও প্রকাশক ইউসুফ আহমেদ। গতকাল বুধবার তিনি এই অভিযোগ করেন।

অভিযোগে সাংবাদিক ইউসুফ আহমেদ বলেন, গত ২৮ অক্টোবর দিবাগত রাতে কিছু সহকর্মীকে নিয়ে রাত ১১টার দিকে গল্প করছিলাম। বাসায় যাওয়ার জন্য উঠব এই অবস্থায় জানতে পারলাম পলাশনগরে পুলিশের সহযোগিতায় অসহায় এতিম ছাত্রদের মারধর করে মাদ্রাসা থেকে বের করে দেওয়া হচ্ছে। এত রাতে আমার পত্রিকার কেউ না থাকায় ঘটনার সত্যতা জানতে আমি, বাংলানিউজের স্টাফ করেসপনডেন্ট মিরাজ মাহবুব ইফতি, দৈনিক বাংলাদেশের আলো সিনিয়র রিপোর্টার এসএম জহির ও অনলাইন পোর্টাল জাগোকণ্ঠের ক্যামেরা পারসন মো. আলীসহ ৪ জন ঘটনাস্থলে রওনা দিলাম।

তিনি বলেন, পুলিশের ওপর আমার আস্থাটা একটু বেশিই ছিল। ঘটনাস্থলে যাওয়ার পথে পুলিশের গাড়িতে এসআই মাহবুবকে দেখতে পাই। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পাই, অসহায় মাদ্রাসা ছাত্ররা মারধরের স্বীকার হয়ে কাঁদছে। বলছে, পল্লবী থানার পুলিশ এসে তাদের মাদ্রাসা ছেড়ে দিতে বলেছে। আমি বিষয়টি পল্লবী থানার এসআই কাওসারের কাছে বিস্তারিত জানতে চাইলাম। কাওসার বলল বাসায় চলে গেছি। এর মাঝে আমরা মাদ্রাসার ছাত্রদের ভিডিও ধারণ করছিলাম। এই সময় হঠাৎ ৪০ থেকে ৫০ জন এসে আমাদের ওপর হামলা চালায়। বলতে থাকে, ওসির সঙ্গে কথা হয়েছে; এদের মেরে পুলিশের গাড়িতে তুলে দে। মোবাইলে পদহীন যুবলীগ কর্মী নয়নের নির্দেশে আক্রমণ হয়েছে বলে ভিডিওতে প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ সময় আজমান নামে এক ছেলে কোমর থেকে পিস্তল বের করে আমার কপালে আঘাত করে; অন্যদেরও মারধর করছিল। এর মাঝে হামলাকারীরা আমাদের সঙ্গে থাকা মোবাইল, ক্যামেরা নিয়ে নেয়।

অভিযোগে তিনি বলেন, রক্তাক্ত অবস্থায় প্রথমে কিংস্টন হাসপাতালে চিকিৎসা নেই। পরে, সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ওটিতে কপালে সেলাই দেওয়া হয়। পুলিশ কেইস স্লিপ নিয়ে অভিযোগ লিখে থানায় যাই। থানা-পুলিশ সন্ত্রাসীদের পক্ষে হওয়ায় সময় ক্ষেপণ করছিল। সন্ত্রাসীদের এলাকা ছাড়তে বলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। যাওয়ার পরও সন্ত্রাসীদের আটক করেনি উপপরিদর্শক (এসআই) মাহবুব। বলেন, আগে মামলা করে আসেন। এরপরে গ্রেপ্তার করব কিনা দেখব।

সিসিটিভি ফুটেজ চেক করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, থানার সিসিটিভি ফুটেজ চেক করলেই দেখা যাবে, আমাকে আক্রমণ করার আগে থানায় নয়ন কতবার গিয়েছে। নয়ন ও তাঁর দলবল পুলিশ ম্যানেজ করে যেকোনো কিছু করতে পারে বলেই আক্রমণের সাহস পেয়েছে। পুলিশ যে মাদ্রাসার ছাত্রদের বের হয়ে যেতে বলেছে, সে বক্তব্য মাদ্রাসার ছাত্ররা পরবর্তীতে পুলিশের সামনেও দিয়েছে। পুলিশ কি কখনো কাউকে জায়গা ছাড়ার নির্দেশ দিতে পারে?

অভিযোগে তিনি আরও বলেন, আমি পরবর্তীতে পল্লবী থানায় মামলাটি রেকর্ড করার চেষ্টা করি। ফোন করলে ওসি বলেন ডিসি, এডিসির সঙ্গে কথা বলতে। হামলার স্বীকার আমার এক সহকর্মী ডিসির সঙ্গে দেখা করে হামলার ভিডিও দেখাতে চাইলে ডিসি বলেন—ভিডিওতে কোনো কাজ হবে না, ভিডিও দিয়ে কী হবে?

পরবর্তীতে ২ নভেম্বর মিরপুরের বসবাসরত সাংবাদিকেরা মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করেন। সেদিন ২ নভেম্বর পল্লবী থানার ওসি, আমার করা অভিযোগের ২ নম্বর আসামিকে দিয়ে আমার বিরুদ্ধে একটি চাঁদাবাজির মামলা রেকর্ড করে, পরের দিন ৩ নভেম্বর আমার অভিযোগের মামলাটি রেকর্ড করে। পল্লবী থানার মামলায় আমি জামিন নিয়েছি।

মামলার ধারার কথা উল্লেখ করে তিনি অভিযোগে বলেন, আমার মামলা ও আমার বিরুদ্ধে মামলা হিসেবে দায়ের করা অভিযোগে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় পিস্তলের আঘাত। কিন্তু, হত্যা চেষ্টার ধারাটি মামলায় নেই। কেননা, সেটা জামিন অযোগ্য ধারা। আসামিদের জামিন পেতে সমস্যা হবে। তাই এই ধারা যুক্ত করেনি থানা-পুলিশ।

অন্যদিকে আমার বিরুদ্ধে অজামিনযোগ্য ধারা চাঁদাবাজির অভিযোগ আনা হয়েছে। কিন্তু, মামলার কোথাও উল্লেখ নেই কবে কোথায় চাঁদাটা চাইলাম। এতেই বোঝা যায়, পুলিশ কোন পক্ষে কাজ করছে। এতেই বোঝা যায়, কত হাজার নিরীহ মানুষ আমার মতো থানার মিথ্যা মামলার স্বীকার। পলাশ নগরে আসলে কী হচ্ছে?

অভিযোগে দখলের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পলাশ নগরে প্রতিনিয়ত দখল, পাল্টা দখলের ঘটনা ঘটছে। অভিযোগ রয়েছে, পুলিশের সহযোগিতাই এসব ঘটছে। আগের ওসি কাজী ওয়াজেদের সময় শাহিনুদ্দিন হত্যাকাণ্ড ঘটে। যার প্রেক্ষিতে তাঁকে বদলি করা হয়। বর্তমান ওসি আগের ওসি থেকে শিক্ষা নিলেন না। আরেকটি শাহিনুদ্দিনের মতো ভয়ংকর ঘটনা ঘটলেই থামবে এই দখল পাল্টা দখলের খেলা? পলাশনগরে প্রতিনিয়ত বর্তমান ওসির প্রত্যক্ষ মদদে দখল ও পাল্টা দখলের ঘটনা ঘটছে বলে এলাকায় প্রচলিত রয়েছে। এই বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করলেই বের হয়ে আসবে প্রকৃত সত্য।

পলাশ নগর বেলতলার কথা উল্লেখ করেন ইউসুফ আহমেদ বলেন, আমরা যত দূর খবর পেয়েছি; ওই জমিটি নূরূ দেওয়ান নামে এক ব্যক্তির দখলে ছিল। জানা যায়, ওসির সঙ্গে ৩ লাখ টাকা চুক্তিতে সেই জায়গায় মাদ্রাসা নির্মাণ করে আমরা যাওয়ার আগের দিন রাতে। এরপর এতিম বাচ্চাদের সেই জায়গায় নিয়ে রাখে। অভিযোগ রয়েছে পরবর্তীতে পলাশনগরের নয়ন ও আনোয়ার গং ওসির সঙ্গে ১৩ লাখ টাকা চুক্তিতে জায়গাটি দখল করতে যায়। তখনই আমরা গিয়ে সেখানে উপস্থিত হই।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.