সারাদিন সারারাত
………….…………..
ছোটবেলায় খবরের কাগজ পড়তাম পাশের বাড়িতে। রবিবারের দুপুরে অনুরোধের আসর শুনতাম সন্যাসীদার দোকানে।ইস্কুলে কখনও পয়সা জোটেনি টিফিনের জন্য।জমিদার মিত্তির দের ছেলে ক্লাসে আইসক্রিম খাওয়াতো অন্য বন্ধুদের। বড় হয়ে বদলা নিতে হবে,লেকের ইট বাঁধানো রাস্তায় অনেকদিন প্রতিজ্ঞা করেছি । এসব কথা বকুল, শিমুলেরা জানে ।
তারপর একদিন বড় হলাম,আমার যত না পাওয়ার বেদনা ছেলেকে দিয়ে হাসি ছুঁড়ে শোধ নিতাম আকাশের দিকে তাকিয়ে।
পুজোর সময় আমার উনিশ বছরের ছেলে সানি বকখালির সমুদ্রে ডুবে ফ্রেজারগঞ্জের বালিতে দেখা দিল নিথর দেহখানি। সমুদ্র সব ফিরিয় দেয়। আজ ঘর জুড়ে সাফল্যের চিহ্ন। আমি নিজেই এখন পিতা পুত্র সেজে খেলি সারাদিন সারারাত।
বন্ধু, আমি ভাল নেই
……………………….
সেদিনও এমন চৈত্রমাসের সন্ধ্যা শেষে।
ঠিকানাবিহীন কোথাও ভেসে
চলে গেছি আকাশ বাতাস ফেলে
মনে পরে বন্ধু,ভুলে গেলে !
তারপর কত দিন ফুরলো
পলাশেরা বনে বনে ফুটলো
পানশালার টেবিলকে অপেক্ষায় রেখে
বুড়ো কুতুবউদ্দিন আজো কি দাঁড়িয়ে থাকে !
আমাদের কথা কি আর নেই কিছুই !
বন্ধু আমি ভাল নেই
তুমিও কি খুব ভাল এখন !
তেলেভাজা ,বিয়ার খাও আগের মতন !
একদিন পৃথিবীর পথে যদি দেখা হয়
হয়তো দোষ করেছি নিশ্চয়
জেনে নেবো,এই অনন্ত কুয়াশার সেতু
আর কতকাল ,আমি ভাল নেই কিন্তু ।

