জো বাইডেনঃ কী বার্তা নিয়ে আসছেন 

অ্যাডভোকেট আনসার খান :দুটো সপ্তাহ ভীষণ অসুস্থ ছিলাম, চিকিৎসা নিয়েছি হাসপাতালে।ছাড়া পেয়ে এখন বাসায় বিশ্রামে আছি।

 গেলো এই দুটো সপ্তাহে পৃথিবীর রাজনীতিতে অনেক বড় বড় ওলটপালট হয়ে গেছে।এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ঘটনা হলো,আমেরিকার রাষ্ট্রক্ষমতায় অভাবনীয় পরিবর্তন।
আরও হলো,মাত্র এক বছরের ব্যবধানে বলিভিয়ার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেসের দলের নির্বাচনের  মাধ্যমে ক্ষমতায় ফিরে আসা।এটাও কিন্তু অভাবনীয় ঘটনা।কারণ,নানা সত্য-মিথ্যা অভিযোগ এনে মোরালেসের সরকারকে জোর করে ক্ষমতা থেকে বিদায় করা হয়েছিলো, এমনকি, তাঁকে দেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিলো। কিন্তু তিনি আবার বীরের বেশে স্বদেশে ফিরে এসেছেন।
       এদিকে,ইরানের খ্যাতিমান পরমাণু বিজ্ঞানী     ও ইরানের পারমাণবিক বোমার জনকখ্যাত   মোহসেন ফাকরিজাদেহকে অতর্কিত হামলা চালিয়ে হত্যা করেছে ইসরাইলি গোয়েন্দারা,-অভিযোগ ইরানের।
      এসবই এক একটা অধ্যায় হয়ে থাকবে ২০২০ সালের বিশ্বরাজনীতির ইতিহাসে।আমার দৃষ্টিতে,একবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়   দশকটা বিশ্বব্যবস্হায় তুমুল সংঘাতপ্রবণ ও আলোড়ন সৃষ্টি
কারী দশক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।
 একদিকে,বিশ্বের নতুন ফ্যাসিবাদী শাসক ডোনাল্ড ট্রাম্পের উত্থান এবং অন্যদিকে,জনতার বিপুল রায় ও সমর্থনে ট্রাম্প ফ্যাসিজমের ওপর উদারনৈতিক গণতান্ত্রিক শাসনের প্রবক্তা জো বাইডেনের আমেরিকার ক্ষমতার কেন্দ্রে আরোহণ করা,-এদুটো ঘটনাই একবিংশ শতকের দ্বিতীয় দশকের মোড় পরিবর্তনকারী বিষয় হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
        ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজে একজন ফ্যাসিস্ট এবং পৃথিবীর দেশে-দেশে তথাকথিত পপুলিস্ট বা লোকরঞ্জনবাদী শাসকদের পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে সারা বিশ্বের দেশগুলোতে নব্যস্বৈরাচারী ও কর্তৃত্ববাদী শাসনকে ছড়িয়ে দিয়ে গণমানুষের আশা-আকাঙ্খা ও গণতান্ত্রিক মানবাধিকারসমূহ পদদলিত করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।উত্তর কোরিয়ার বিশ্ব স্বীকৃত কর্তৃত্ববাদী শাসক,- যিনি তাঁর দেশের মানুষকে মানুষ হিসেবে গণ্য করেননি কখনো,সেই স্বৈরশাসক কিম ইল জং ট্রাম্পের সেরা বন্দু বলে গণ্য ছিলেন ট্রাম্পের নিকটে।
        শুধু যে,ফ্যাসিস্টদের পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছেন,তাই নয়,সারা বিশ্বের এসব কর্তৃত্ববাদী শাসকদের মাধ্যমে সারা বিশ্বে উগ্রজাতীয়তাবাদ, হোয়াইট সুপ্রীমেসি,ধর্মান্ধতা,ঘৃন্য বর্ণবাদ,রেসিজম ইত্যাকার মানবতাবাদ বিরোধী ও মানুষে-মানুষে বিভেদ সৃষ্টকারী  কর্মকাণ্ড ছড়িয়ে দিয়ে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ও মূল্যবোধকে মাটিচাপা দিতে প্রধান নিয়ামক ভূমিকা পালন করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
       নির্বাচনে সুস্পষ্ট পরাজয়বরণ করার পরেও তিনি ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য সকল অন্যায্য এবং অগণতান্ত্রিক উপায় অনুসন্ধান করছেন।এমনকি,তাঁর  সমর্থনকদের মধ্যে উগ্রতা ও উম্মাদনা সৃষ্টি করে গোটা আমেরিকার জনগণকে চরম নৈরাজ্যের দিকে ঠেলে দিতে কার্পণ্য করছেন না।আমেরিকার সকল মৌলিক গণতান্ত্রিক ও মানবিকতাবাদী সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করেছেন এবং এখনও করে চলেছেন।
       মুসলিম সন্ত্রাসী অপবাদ দিয়ে পুরো মুসলিম সম্প্রদায়কে বিশ্বের অন্যসকল জাতিধর্মের মানুষের থেকে বিচ্ছিন্ন করে মুসলমানদেরকে অন্যসকল জাতিধর্মের মানুষের শত্রু হিসেবে প্রতিষ্টিত করতে সচেষ্ট থেকেছেন তাঁর শাসনকালে।
        এমনকি, খোদ্ আমেরিকার জনগণকে সাদা-কালো,শেতাঙ্গ-অশেতাঙ্গ ইত্যাকার বর্ণবাদী ও জাতিভেদে বিভাজন করে নিজের ব্যক্তিগত ফায়দা হাসিলের জন্য আমেরিকানদের মধ্যে অনৈক্য সৃষ্টির নিরন্তর চেষ্টা করেছেন,এটা সম্পুর্ণ রাজনৈতিক কারণেই করেছেন।তিনি আমেরিকার আবহমানকাল ধরে চলে আসা বহুবৈচিত্রপূর্ণ সমাজকে ধ্বংস করে দিয়ে আমেরিকার দীর্ঘ লালিত ঐতিহ্যকে বিনষ্ট করে দিয়েছেন।আমেরিকার স্বপ্নিল গণতান্ত্রিক, উদারনৈতিক ও মানবাধিকার সমৃদ্ধ রাজনৈতিক ব্যবস্হাকে কলুষিত করেছেন।
       সংক্ষেপে বলা যায় যে,ট্রাম্প সারা বিশ্বে জাতিবিদ্বেষ, বর্ণবাদ,সাম্প্রদায়িকতা,অগণতান্ত্রিকতা,মানবিক মূল্যবোধহীনতা,মানুষে-মানুষে ধনবৈষম্য,আয়বৈষম্য বৃদ্ধি সহ সর্বোপরি, ফ্যাসিবাদ, কর্তৃত্ববাদ,লোকরঞ্জনবাদী নামের তথাকথিত নব্যস্বৈরাচারী শাসনের চাষ করেছেন গত চার বছরধরে।
       ট্রাম্প শাসনের সময়কালটার সর্বাধিক গুরুত্ববাহী ঘটনা হলো,তিনি গোটা বিশ্বব্যবস্হার চরিত্রগত পরিবর্তন করে ফেলেছিলেন,বিশ্বের ক্ষমতার ভারসাম্য ধ্বংস করে দিয়ে বিশ্বব্যবস্হায় চরম অনৈক্য ও নৈরাজ্যকর অবস্হার সৃষ্টি করে গোটা বিশ্বকে যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিয়েছিলেন।
       বিশ্বব্যবস্হার ভারসাম্যমূলক পরিচালনামূলক প্রতিষ্ঠান,সংস্থা ও অবকাঠামোগত সুশাসন প্রতিষ্ঠানসমূহ দুমড়েমুছড়ে শেষ করে দেবার সকল ব্যবস্হাই ট্রাম্প করে ফেলেছিলেন।ইরানের সাথে স্বাক্ষরিত ছয়জাতির পারমাণবিক চুক্তি থেকে আমেরিকাকে প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন শান্তিকামী বিশ্ববাসীর আবেদন উপেক্ষা করে।বিশ্ব জলবায়ু চুক্তি থেকেও সরিয়ে এনেছিলেন তাঁর দেশকে।
        জাতিসংঘকে দূর্বল করার সব আয়োজন করে ফেলেছিলেন।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে তাঁর দেশকে সরিয়ে ফেলেছিলেন।
         সারা বিশ্বকে অবজ্ঞা করে একতরফাভাবে ইসরাইলের পক্ষ নিয়ে ফিলিস্তিনী মুসলমানদের স্বাধীনতা অস্বীকার করে মুসলমানদের পবিত্র ভূমি জেরুজালেম ও পশ্চিম তীর ইসরাইলিদের হাতে তোলে দেন ট্রাম্প। মধ্যপ্রাচ্যের মুসলমানরা ট্রাম্প শাসনযুগে এতিমের মতো অবস্হায় পতিত হয়েছেন। গোটা মধ্যপ্রাচ্যকে স্হলমাইনে পরিণত করে রেখে গেছেন ট্রাম্প। মোটকথা, সমগ্র বিশ্বব্যবস্হায় এখন চরম অশান্তি, অস্হিতিশীলতা ও চরম নৈরাজ্যকর অবস্হা বিরাজ করছে।
          এসব বিষয়গুলো ও এর পরিণতির জন্য ট্রাম্পের নীতি এবং বিশ্বব্যবস্হার ভারসাম্যহীনতাই দায়ী।আর ভারসাম্যহীন বিশ্বব্যবস্হার উদ্ভবের  জন্য ট্রাম্প এককভাবে দায়ি।
        ট্রাম্প শাসনে যেমন আমেরিকা,তেমনি গোটা বিশ্বব্যবস্হা বলতে গেলে স্হবির হয়ে পড়েছিলো।গোটা বিশ্ব ও এর মানবজাতিকে নাজুক ও ধ্বংসাত্মক এক অবস্হায় নীত করেছেন ট্রাম্প।   কখন,কী ঘটে যায় তা নিয়ে সচেতন বিশ্ববাসী ও আমেরিকান জনগণের মধ্যে সর্বদাই আতংক বিরাজমান ছিলো, আছে এবং মাথাগরম,চন্ঙল ও অস্হিরমতি প্রকৃতির ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউস ছেড়ে না যাওয়া পর্যন্ত সেই আতংক তাড়া করে ফিরছে বিশ্ববাসীকে।
       ট্রাম্প বিশ্ববাসীকে কতভাবে বিপর্যয়কর অবস্হায় টেনে নামিয়ে এনেছেন তার বিবরণ ছোট্ট এক লেখায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়,তাই যথাসম্ভব মূল বিষয়গুলো তোলে ধরার চেষ্টা করেছিমাত্র।
        ট্রাম্পের এই দুঃশাসন থেকে মুক্তির প্রত্যাশায়     আমেরিকাবাসী ও বিশ্বের জনগণ চার বছরধরে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেছেন।কাংখিত সূযোগটা পেয়েই আমেরিকান জনগণ দেখিয়ে ও বুঝিয়ে দিয়েছেন ট্রাম্পের প্রতি তারা কী পরিমাণে বিরক্ত ও হতাশাগ্রস্ত ছিলেন।
          ভোটের অধিকার প্রয়োগ করে আমেরিকানরা বিরল ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন।ট্রাম্পের বিপরীতে দাঁড়ানো ডেমোক্রেট প্রার্থী জো বাইডেনকে ভোট দেবার জন্য ছোট-বড়,বুড়ো-বুড়ি,সকল বয়সের নারী-পূরুষ ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে ভীড় জমিয়েছিলেন,মিলিয়ন-মিলিয়ন ভোটার ডাকে আগেভাগেই ভোট দিয়েছিলেন।অথচ আমেরিকানদের নিয়ে একটি কথা প্রচলিত আছে যে,ওরা ভোট দিতে সবসময় অনাগ্রহী। কিন্তু এবার সেটি মিথ্যা প্রমাণ করে মিলিয়ন-মিলিয়ন ভোটার কেন্দ্রে গিয়ে বাইডেনকে ভোট দিয়ে ট্রাম্পের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করেছেন।
        বাইডেনের প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যাই প্রমাণ করে আমেরিকানরা ট্রাম্পকে কীভাবে মূল্যায়ন করতেন।আমেরিকার ২৪৪-বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি পপুলার ভোট,অর্থাৎ মোট আট কোটি এগারো লাখেরও অধিক ভোট পেয়ে প্রেসিডেন্ট পদে বিজয়ী হয়েছেন জো বাইডেন।
        আমেরিকান নির্বাচনের ইতিহাসে বাইডেন নতুন এক রেকর্ড সৃষ্টি করেছেন।প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার জন্য ইলেক্টোরেল বডির মোট ভোট হলো,৫৩৮। এর মধ্যে যিনি কমপক্ষে ২৭০ ভোট পাবেন,তিনিই হবেন আমেরিকার পরিবর্তী প্রেসিডেন্ট। অথচ,জো বাইডেন রেকর্ড ৩০৬ ইলেক্টোরেল ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।
       জো বাইডেনের ইতিহাস সৃষ্টিকারী ভোট লাভ কী কেবল বাইডেনের গুণের কারণে বা অনুসৃত নীতির কারণেই হয়েছে? না,তা নয়।যেসব আমেরিকান ভোটার বাইডেনকে ভোট দিয়েছেন,তারা নানা কারণে ট্রাম্পের চার বছরের পাগলামো ও ক্ষেপাটে আচরণ ও নীতির কারণে  ট্রাম্পের ওপর বিরক্ত ছিলেন।অনেক ভোটার গণতন্ত্রের ভাগ্যের জন্য,ন্যায়বিচার, মৌলিক মানবাধিকার, ধ্বংসাত্মক পরিবেশবাদী নীতি,বিশ্ব থেকে আমেরিকার বিচ্ছিন্নতাবাদী দৃষ্টিভঙ্গী,কোভিড-১৯ মোকাবিলায় ব্যর্থতা ইত্যাদির জন্য গভীর উদ্ভিগ্ন ছিলেন।অনেক ভোটার একটা সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছিলেন,কিন্তু ট্রাম্পের চার বছরের শাসনে তাদের চোখের সামনে সে স্বপ্ন চুরমার হয়ে যেতে দেখেছেন।
        ট্রাম্পের অর্থনীতি,বৈদেশিক নীতি,জাতীয় সুরক্ষা, সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রতি উপেক্ষা, জলবায়ু নীতি,অভিবাসন নীতি,অভিবাসীদের প্রতি অমানবিক আচরণ ইত্যাকার নীতির প্রতি ভোটাররা চরম বিরক্তির প্রকাশ থেকেই তাঁর ওপর ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বাইডেনকে এতো অধিক পরিমাণে ভোট দিয়ে ট্রাম্পের ওপর চুড়ান্ত জবাব দিয়েছেন,ট্রাম্পের ওপর প্রতিশোধ নিয়েছেন ভোটের মাধ্যমে।
         একবিংশ শতকের তৃতীয় দশকের একদম শুরুতেই ২০২১-সালের ২০-জানুয়ারিতে ইতিহাস সৃষ্টি করে ৮৭-বছর বয়সে আমেরিকার ৪৬-তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণ ও দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন জো বাইডেন -,এমনটাই নির্ধারিত হয়ে আছে আমেরিকান সংবিধান অনুযায়ী।
         বাইডেন যখন ওভাল অফিসে প্রবেশ করবেন,তখন এমন এক বিশ্বকে দেখবেন যে, সারা বিশ্বব্যবস্হায় এক চরম নৈরাজ্যকর অবস্হা বিরাজ করছে তাঁর পূর্বসূরি ট্রাম্পের নীতিবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের কারণে।
        বাইডেন অবাক হয়ে দেখবেন,সারা বিশ্বের অধিকাংশ দেশগুলোতে গণতন্ত্রের ওপর ফ্যাসিবাদ ও কর্তৃত্ববাদের জয়জয়কার। দেখবেন গণতন্ত্রের সংকটের কারণে মানুষের মৌলিক মানবাধিকার বিপর্যস্ত। আরও দেখবেন তিনি,”অলওভার দ্য ওয়ার্ল্ড, পিপল ডোনট হ্যাভ দ্য রাইট।”দেখবেন,মানুষের ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অধিকার,মিডিয়ার স্বাধীনতা সর্বত্র প্রটেক্টটেড,নেই মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা। দেখবেন,মানুষের জন্য কী ভয়াবহ এক কণ্ঠরোধকারী পৃথিবী রেখে গেছেন ট্রাম্প।
        জো বাইডেন ৮৭-বছর বয়সে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন যেমন সত্য,তেমনি তাঁর ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমেরিকার ইতিহাসে প্রথম বারের মতো একজন মহিলাকে বাছাই করেও ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন।
       এদিকে, ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস একজন কৃষ্ণাঙ্গ-আফ্রিকান আমেরিকান মহিলাও বটে।এটাও আমেরিকার জন্য নতুন ইতিহাস।
      জো বাইডেন এবং কমলা হ্যারিস, দূজনই ক্যারিয়ারিস্ট রাজনীতিবিদ, এটি বিশ্ববাসীর জন্য আশার বিষয়।তাঁদের থেকে অনেক বেশি প্রত্যাশা বিশ্বসম্প্রদায়ের।
         জো বাইডেন ছিলেন আমেরিকান কংগ্রেসম্যান।পরে আট বছর ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে ছিলেন হোয়াইট হাউসের বাসিন্দা। রাজনীতিতে তাঁর অভিজ্ঞতা অসীম।
       কমলা হ্যারিসও দীর্ঘ সময়কাল ধরে আমেরিকান কংগ্রেসম্যান হিসেবে কাজ করেছেন।সেনেটের সদস্য হিসেবে তিনি গুরু দায়িত্ব পালন করেছেন আমেরিকার রাজনীতিতে।
       হ্যারিস একজন অভিবাসীর মেয়ে।তাঁর বাবা জ্যামাইকান এবং মা একজন ভারতীয়। তিনি আবার আমাদের বাঙালির গর্ব গণফোরাম সভাপতি ড.কামাল হোসেনের সরাসরি ছাত্রী ছিলেন।এটা আমাদের জন্য সম্মানের বিষয়।
       হ্যারিস একজন অসম্ভব মেধাবী ছাত্রী ছিলেন বলে তাঁর প্রকাশিত ও লিখিত বই,-“দ্য ট্রুথস উই হল্ড,অ্যান আমেরিকান জার্ণি”বই পড়ে জানলাম।
তাঁর আমেরিকায় বেড়ে ওঠা,শিক্ষা, রাজনৈতিক জীবন ইত্যাদি সবকিছু ওঠে এসেছে তাঁর লিখিত বইয়ে।রোগশয্যা থেকে ওঠে ঘরে বিশ্রামে থাকাবস্হায় ফাঁকে ফাঁকে গভীর মনোযোগ দিয়ে ইন্টারনেটের বদৌলতে মূল্যবান এ স্মৃতিচারণমূলক বইটা পড়ে অনেককিছু জানলাম,বোঝলাম। এও আমার জন্য বড় এক অভিজ্ঞতা।
        যাহোক, যেটা বলতে চাইছি, এমন অভিজ্ঞতা সম্পন্ন নেতৃত্বের কাছে বিশ্বব্যবস্হার বিরাট পরিবর্তন প্রত্যাশা করছে বিশ্বসম্প্রদায়ের মানুষেরা।ট্রাম্প বিশ্বব্যবস্হায় যে আবর্জনা রেখে গেছেন তা ধূয়েমুছে পরিষ্কার করে গোটা বিশ্বকে সঠিক ট্র্যাকে ফিরিয়ে এনে স্হিতিশীল  বিশ্বব্যবস্হা প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করা নতুন নেতৃত্বের জন্য প্রাথমিক দায়িত্ব বলে মনে করে সচেতন মানুষেররা,রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
       দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ কাজটা হলো,ট্রাম্পের সরাসরি তত্বাবধানে বিশ্বব্যাপী গজিয়ে ওঠা নব্যস্বৈরাচারী, কর্তৃত্ববাদী,তথাকথিত লোকরঞ্জনবাদী ও ফ্যাসিবাদী শাসনের ওপর আবার গণতান্ত্রিক, মানবিক মূল্যবোধ সম্পন্ন জনগণের নির্বাচিত সরকার ও শাসনব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে বিশ্ববাসীকে সহযোগিতা ও উৎসাহিত করা।এজন্য দেশে-দেশে ছিনতাই হয়ে যাওয়া জনগণের ভোট প্রদানের অবাধ অধিকার ফিরিয়ে এনে শাসক নির্বাচনে জনগণের ইচ্ছার অবাধ অধিকার পূণপ্রতিষ্ঠা করতে অব্যাহত চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া। জো বাইডেনের প্রতি শান্তিকামী মানুষের অনেক প্রত্যাশা। 
লেখক: আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষক।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.