বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় ফাঁসির দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত রিফাতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে তার ৫০ হাজার টাকার অর্থদণ্ডাদেশ স্থগিত করেছেন আদালত।
বুধবার (০৪ নভেম্বর) বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
এদিন আদালতে মিন্নির পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডাভোকেট জেড আই খান পান্না, সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট মাক্কিয়া ফাতেমা ইসলাম।
শুনানি শেষে মাক্কিয়া ফাতেমা ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় গত ৪ অক্টোবর মিন্নিসহ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৬ আসামির ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসে।
গেল ৩০ সেপ্টেম্বর বহুল আলোচিত এ মামলায় বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আছাদুজ্জামান মামলার প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির মধ্যে ৬ জনের ফাঁসি ও ৪ জনকে খালাস দিয়ে রায় ঘোষণা করেন। রায়ে আদালত মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি ৬ আসামির প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেন।
রায়ে মিন্নির বিষয়ে আদালত বলেছিলেন, ‘আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি এ হত্যা পরিকল্পনার মূল হোতা। তার কারণেই রিফাতের মা-বাবা পুত্রহারা হয়েছেন। মিন্নির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে তাকে অনুসরণ করে তার বয়সী মেয়েদের বিপথগামী হওয়ার আশঙ্কা থাকবে। তাই এ মামলায় মিন্নির দৃষ্টান্তমূলক শান্তি হওয়া বাঞ্ছনীয়।’
রায়ে আদালত আসামিদের মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নির্দেশ দেন। তবে আসামিরা রায় পরবর্তী ৭ দিনের মধ্যে রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারবেন বলেও জানান আদালত।
এরই ধারাবাহিকতায় গেল ৬ অক্টোবর খালাস চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন মিন্নির আইনজীবী।
রিফাত শরীফ হত্যা মামলার রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৬ আসামি হলেন- রাকিবুল হাসান রিফাত ফরাজি (২৩), আল কাইউম ওরফে রাব্বি আকন (২১), মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত (১৯), রেজওয়ান আলী খান হৃদয় ওরফে টিকটক হৃদয় (২২), আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি (১৯) ও মো. হাসান (১৯)। খালাসপ্রাপ্ত ৪ জন হলেন- মো. মুসা (২২), রাফিউল ইসলাম রাব্বি (২০), মো. সাগর (১৯) ও কামরুল হাসান সায়মুন (২১)।
গত বছরের ২৬ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্য দিবালোকে রাম দা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে রিফাত শরীফকে। একাধারে রিফাতকে কুপিয়ে বীরদর্পে অস্ত্র উঁচিয়ে এলাকা ত্যাগ করে হামলাকারীরা। গুরুতর আহত রিফাতকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বিকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় গত বছরের ২৭ জুন সকালে নিহতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে প্রথমে ১২ জনের নাম ও আরও ৫-৬ জনকে অজ্ঞাত উল্লেখ করে বরগুনা সদর থানায় মামলা দায়ের করেন।

