ধর্ম নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে গ্রেফতার জগন্ননাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী তিথি সরকারকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
শনিবার (১৪ নভেম্বর) একদিনের রিমান্ড শেষে ঢাকার মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে সিআইডি পুলিশ। এ সয়ম মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে রাখার আবেদন করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর হাকিম শহিদুল ইসলাম তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এরআগে গত বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর হাকিম জিয়াউর রহমান গ্রেফতার তিথি সরকারকে একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এছাড়া তিথির স্বামী শিপলুকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
গত বুধবার (১১ নভেম্বর) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে নরসিংদীর মাধবদীর পাঁচদোনায় স্বামীর এক দূরসম্পর্কীয় আত্মীয়র বাড়ি থেকে তিথি সরকারকে এবং তার স্বামী শিপলু মল্লিককে বুধবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে রাজধানীর কাপ্তানবাজার এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
এরআগে রাসুল (সা.) কে নিয়ে ফেসবুকের বিভিন্ন পোষ্টে ও কমেন্টে কটুক্তি ও অরুচিকর মন্তব্যের করে আলোচনায় আসেন তিথি সরকার। এরই জেরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ছাত্রসংগঠন তাকে বহিষ্কার করার দাবি তুলেন। সংগঠগুলোর আন্দোলনের জেরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে সাময়িক বহিষ্কার করে। একইসঙ্গে তাকে ছাত্র অধিকার পরিষদের শাখা দপ্তর সম্পাদক থেকে বহিষ্কার করেন।
গত ৩১ অক্টোবর সিআইডির সাইবার মনিটরিং টিম দেখতে পায়, সিআইডির মালিবাগ কার্যালয়ের চারতলা থেকে তিথি সরকারকে ‘হাত পা-বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে’ বলে একটি মিথ্যা পোস্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করা হয়। এটি ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। প্রকৃতপক্ষে সিআইডিতে এ রকম কোনো ঘটনা ঘটেনি। এই ঘটনার তদন্তে নেমে গুজব রটনাকারী নিরঞ্জন বড়াল নামের একজনকে রামপুরার বনশ্রী এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। নিরঞ্জনসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে গত ২ নভেম্বর পল্টন থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা করা হয়। নিরঞ্জন বড়াল রিমান্ড শেষে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
২৫ অক্টোবর সকাল ৯টায় পল্লবীর নিজ বাসা থেকে থানার উদ্দেশে তিনি বের হয়েছিলেন তিথি সরকার। এরপর ১৫ দিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন তিনি। এরপর তার পরিবার থেকে অভিযোগ করেন তিথি নিখোঁজ।
তিথি সরকারকে গ্রেফতারের পর সাইবার পুলিশ জানান, তিথী সরকার স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে গিয়ে গ্রেফতার থেকে বাঁচতে নিজেকে অপহরণের নাটক সাজাচ্ছে। তার ধারণা ছিল অপহরণের দায়ভার অন্যের উপর চাপিয়ে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের ঘটনা থেকে সে রেহাই পাবে। এবং ঘটনা অন্যদিকে প্রবাহিত হবে।
সাইবার পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদে তিথি স্বীকার করেন, ২৫ অক্টোবর মিরপুরের পল্লবীর বাসা থেকে বের হয়ে তার প্রেমিক শিপলু মল্লিকের বাড়ি বাগেরহাটে চলে যান। সেখানে তার সঙ্গে বিবাহ করে শিপলু মল্লিকের দূর সম্পর্কের চাচা দেবাশীষ রায়ের বাসায় আত্মগোপনে থাকেন।

