নেয়ামত উল্যা ভূঁইয়া’র কবিতাঃ
I গো-বৃত্তের ব্যূহ I
গরু সম্পর্কে রচনাটাকেই
জীবনের প্রথম রচনা হিসেবে শেখানোর কারণটা
বোধ করি কারো কাছেই পষ্ট না।
অনেক রকম আঁচ-আন্দাজ করা গেলেও
কারো বক্তব্যই সিগারেটের মতো সোজা না।
অতি পরিচিত গৃহ-পালিত পাখি হাস মুরগি
কিংবা একান্ত অনুগত বিরোধীদলের মতো গৃহপালিত
নিরুপদ্রব পশু হিসেবে ছাগল ভেড়াও হতে পারতো
কৈশোরের প্রথম রচনার উপজীব্য।
অথচ, সব ছেড়েছুঁড়ে গোবেচারা গরু?
আমাদের রচনা আর ব্যাকরণ পড়াতেন যদু স্যার
নিবেদিতপ্রাণ বনেদি শিক্ষাগুরু
মজা করে বলতেন, আমি তোদের এমনি বদ-নসিব গুরু যে
আমার কোন গুণই তোদের রপ্ত করাতে পারলাম না,
অন্ততঃ ‘গুরু’র হ্রস্ব-উ কারটা পেলেও
‘গরু’ হওয়া থেকে বেঁচে যেতি।
উপহাস করলেও স্যার নিজেও কায়মনে চাইতেন
ছাত্রদের স্বভাবে থাকুক গোবৎসের শিষ্টাচার;
পরে দেখলাম, তাঁর এই নির্দোষ আশীর্বাদ
তাঁর প্রিয় শিষ্য হিসেবে কেবল আমার ক্ষেত্রেই
দৈব-বাণির মতো সত্য হলো।
হায় রে নালায়েক নসীব!
রচনার জীবের মতোই গুরুবরে হয়ে আছো
নিরীহ গোবেচারা জীব।
শিং জোড়া কেবলি বীরত্বের বীর্যহীন বহু-রঙা পাতা বাহার
লিঙ্গ নির্ধারণ করতে গিয়ে অনেকেই বলে ফেলে ক্লীব।
সেই রচনার বৃত্তেই জীবনের সব ঘুর-পাক
সে বৃত্তেই গুরু-শিষ্যের ত্যক্ত তেলেসমতি
শেষদানে গুরুর গো-হারা; বিন্দুর পরিণতি
গুরুমারা শিষ্যের সিন্ধু দখল
বৃত্তের বেড়াভাঙ্গা সাফল্য
সুনামি’র জল।

