যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে ৩ কিশোর নিহত ও ১৫ কিশোর আহত হওয়ার ঘটনায় গ্রেফতার ওই কেন্দ্রের ৫ কর্মকর্তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ।
এ ঘটনায় দায়ের হওয়া একমাত্র মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক রকিবুজ্জামান রবিবার (১৬ আগস্ট) সকালে গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি জানান, গতকাল শনিবার আদালত রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করার পর সেখান থেকে আসামিদের পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয় এবং গতকাল রাত থেকেই তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে।
গতকাল শনিবার যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের ওই ৫ কর্মকর্তার রিমান্ড মঞ্জুর করেন জেলা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মাহদী হাসান।
রিমান্ড প্রাপ্তরা হলেন- কেন্দ্রের সহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল মাসুদ, প্রবেশন অফিসার মাসুম বিল্লাহ ও সাইকো সোশ্যাল কাউন্সিলর মুশফিকুর রহমানের পাঁচ দিন করে এবং কারিগরি প্রশিক্ষক ওমর ফারুক ও ফিজিক্যাল ইন্সট্রাক্টর এ কে এম শাহানুর আলমের তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে ৩ কিশোর নিহত হয়। ঘটনায় ঘটনার ঘণ্টা ৬ পর কেন্দ্রের কর্মকর্তারা দাবি করেন, দুই দল কিশোরের মধ্যে সংঘর্ষে তিন কিশোর নিহত ও আরও বেশ কয়েকজন কিশোর আহত হয়।
ওইদিন রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কথিত সংঘর্ষের বিষয়টি উড়িয়ে দিয়ে জানায়, সংঘর্ষ নয়, একতরফাভাবে পিটিয়ে ওই কিশোরদের হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় হাসপাতালের চিকিৎসাধীন কিশোরদের জবানিতেও উঠে এসেছে দিনভর ভয়াবহ নির্যাতনের বর্ণনা। কেন্দ্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশেই তিনজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ চিকিৎসাধীন কিশোরদের।
নিহত ৩ কিশোর হলো- খুলনার দৌলতপুর থানার মহেশ্বরপাশা পশ্চিম সেনপাড়ার রোকা মিয়ার ছেলে পারভেজ হাসান রাব্বি (১৮), বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলার মহিপুর গ্রামের নুরুল ইসলাম নুরুর ছেলে রাসেল সুজন (১৮) ও বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার তালিপপুর পূর্বপাড়ার নানু প্রামাণিকের ছেলে নাঈম হোসেন (১৭)।
এ ঘটনায় কিশোর রাব্বির বাবা রোকা মিয়া বাদী যশোর কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের অজ্ঞাত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আসামি করা হয়।
পরে পুলিশ ওই মামলায় কেন্দ্রের সহকারী পরিচালকসহ ৫ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে গ্রেফতার করেন।

