জাহিদুল ইসলাম জেরী, অনলাইন ডেস্ক :তারুণ্য ধরে রাখতে কে না চায়, বয়স যা-ই হোক সবাই চায় বয়স কে হার মানাতে, সেটা হোক নারী বা পুরুষ। অনেকেই বলে থাকেন মহান আল্লাহ পাক যে রুপ দিয়েছেন, সেটা পরিবর্তন করার কোন উপায় নেই। হ্যাঁ আমিও একমত পোষন করছি। মহান আল্লাহ প্রতিটি জীবকে সকল সৌন্দর্য দিয়েই তৈরী করেছেন। আর এই সৌন্দর্যকে ধরে রাখাও কিন্তু একটা আমানত। এটা কি খুব কঠিন কিছু??
প্রতিনিয়ত হাজার হাজার টাকা, সময় অপচয় কতো কিছুই না করছে সৌন্দর্যকে ধরে রাখতে। সাধারণত জন্মগত ভাবে সৌন্দর্য ধরে রাখতে, পুরুষের তুলনায় মেয়েরা একটু বেশী যত্নশীল হয়ে থাকে। অনেকে মেয়েদের উদ্দেশ্য করে বলেও থাকেন ” কাজ নেই তো খই ভাজ” আসলে ব্যাপার টা এমন নয়।
নারী পুরুষ যেই হোক তারুণ্যকে ধরে রাখা, নিজেকে সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করাও একটা শিল্প। প্রকৃতিতে এমন কিছু জিনিস আছে যা হার মানায় কৃত্রিমতাকে, ধরে রাখে তারুণ্যকে, জয় করে বয়সকে। অ্যালোভেরা তেমনি এক মহাষৌধ।
অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারী
অ্যালোভেরা পাতার জেল অসাধারণ প্রাকৃতিক প্রসাধনী। চুল থেকে নখ পর্যন্ত অ্যালোভেরার কার্যকারিতা অসাধারণ। ত্বকের যত্নে নিরাপদ প্রসাধনী ব্যাবহারে অ্যালোভেরার বিকল্প নেই।বর্তমানে বিভিন্ন ব্রান্ডের অ্যালোভেরা জেল কিনতে পাওয়া যায়, গাছ থেকে সংগ্রহকৃত অ্যালোভেরা ব্যাবহার সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর ও বটে। আসুন জেনে নেয় অ্যালোভেরার গুনাগুন সম্পর্কে-
(১) পি এইচঃ অ্যালোভেরা জেলের পি এইচ ৫.২ – ৫.৬ যা আমাদের ত্বকের পি এইচের ( গড়ে ৫.৫) সমান।
(২) জীবাণু প্রতিরোধকঃ ব্যাকটেরিয়া সব সময় মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর নয়। অ্যালোভেরা ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধি করে, ফলে অ্যালোভেরা ব্যাবহারে ত্বকের ভালো ব্যাকটেরিয়া বেচে থাকে আর খারাপ ব্যাকটেরিয়া ও ত্বককে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে না।
(৩) ময়েশ্চারাইজারঃ ময়েশ্চারাইজারকে ত্বকের খাবার বলা হয়ে থাকে। অ্যালোভেরা জেলের ৯৮.৫% পানি আর রয়েছে পানিগ্রাহী পেকটিন, লিগানিন, হেমিসেলুলোজ সহ নানা উপাদান। তাই এটি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন আদর্শ ময়েশ্চারাইজার। এর নানা উপাদান ত্বকে প্রবেশ করে ত্বকে আদ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে।
(৪) দ্রুত ক্ষত সারাতেঃ অ্যালোভেরার রয়েছে দ্রুত ক্ষত সারানোর সক্ষমতা যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। অ্যালোভেরার Mannose 6 – phosphate ও acemannan এক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে।
(৫) ত্বক ফর্সা করেঃ অ্যালোভেরার “অ্যালেসিন” মেলানিনের উৎপাদন হ্রাসের মাধ্যমে ত্বককে ফর্সা করে। কারন অ্যালোসিনের সক্ষমতা বহুল ব্যবহৃত ক্ষতিকর ত্বক ফর্সাকারী উপাদান হাইড্রোকুইনোনের প্রায় সমতুল্য।
(৬) অ্যন্টি এজিংঃ ত্বকের তারুন্য ধরে রাখার প্রধান নিয়ামক কোলাজেন ও ইলাস্টিন তন্ত। আর এ দুটো উৎপাদন করে ফাইব্রোব্লাস্ট। অ্যালোভেরা ফাইব্রোব্লাস্টের সংখ্যাবৃদ্ধি এবং কোলাজেন ও ইলাস্টিন তন্ত সংশ্লেষণে ফাইব্রোব্লাস্টকে উদীপ্ত করে।
(৭) পুস্টি যোগানদাতাঃ অ্যালোভেরা জেলে রয়েছে দেহের জন্য অতীব প্রয়োজনীয় ৯ টি Amonia Acid। তাছাড়াও আছে entire B, group ( including B12- unique in the world of plants), vitamin C, betacarotene, choline,and folic acid, calcium,magnesium, potassium, chromium, copper সহ নানাবিধ পুস্টি উপাদান।
(৮) পরিস্কারকঃ অ্যালোভেরার ” স্যাপোনিন” অনেকটা সাবানের মতো কাজ করে।
কিভাবে তৈরী করা যাবে যাদুকরী এই জেল
অ্যালোভেরা পাতা ভালো ভাবে ধুয়ে পাতার গোড়ার দিকের কিছু অংশ কেটে ফেলতে হবে। তারপর পাতাটিকে খাড়া করে একটি পাত্রে ৩০ মিনিট রাখতে হবে, যতক্ষন না পর্যন্ত এর থেকে খয়েরী রঙের তরল পদার্থ বের হয়ে আসছে। ভালো ভাবে মুছে পাতার উপরের সবুজ অংশ সাবধানে চুরি দিয়ে তুলে ফেলে ভেতরের জেলটাকে বের করে ব্লেন্ড করতে হবে।
প্রতি ৫০ গ্রাম জেলের সাথে একটা ভিটামিন ই (৪০০) গ্রাম (ই-ক্যাপ) ক্যাপসুল মেশাতে হবে। রাতে শোবার আগে প্রতিদিন মুখ ভালো ভাবে পরিস্কার করে মুখে মাখতে হবে। পরদিন সকালে আবার ভালো ভাবে ধুয়ে ফেলতে হবে। এই মিশ্রণ পরো শরীরে ব্যবহার করা যেতে পারে। এই মিশ্রনের সাথে ১০% গ্লিসারিন মিশিয়ে ব্যবহার করলে ময়েশ্চারাইজিং এর ক্ষমতা দ্বিগুণ বেড়ে যায়।
এটা ১ মাস পর্যন্ত নরমাল ফ্রিজে রেখে সংরক্ষণ করা যায়।
“আসুন প্রকৃতির ছোয়ায় থাকি
তারুণ্যেকে বাচিয়ে রাখি”

