রাবন নয় রামের চেয়ার হতে হবে

সরকার চালানোটা নেহায়েত কোনো ছোটোখাটো বিষয় নয় নিশ্চয়ই। আমরা ইউরোপ আমেরিকার অনেক উদহারণ কথায় কথায় তুলে আনি । অমুক দেশের সরকার এই করেছে, সেই করেছে । তমুক দেশের সরকার করোনার মহামারীতেও নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছে । আথচ আমাদের সরকারের কাজ কর্ম দেখে আমরা যেই সেই বিরক্তি হই বা হচ্ছি ।

এখানে সাধারণ জনগণেরও তেমন কোনো দোষ বলা যাবে না। কেননা জনগণ তার সাধারণ প্রাপ্যটুকুও পাচ্ছে না, সুতরাং সুন্দরের তুলোনা আসবেই, সেটা ইউরোপ / আমেরিকা বা ভিয়েতনাম/ নেপাল যেটাই হোক । তবে মনে রাখা ভালো যে,আমাদের ছোট্ট ভূখণ্ডে ১৬১,৪ মিলিয়ন জনতা । আর উল্টো দিকে সমগ্র ইউরোপ মহাদেশের জনসংখ্যা ৭৪১,৪ মিলিয়ন মাত্র।

অর্থাৎ ভাগ করলে দেখা যায়, সমগ্র বাংলাদেশের চেয়ে ইউরোপ মহাদেশের জনসংখ্যা মাত্র চারগুনের চেয়ে কিছুটা বেশি মাত্র।  এবার একটু ভূখণ্ডকে মেপে দেখলে দেখা যায় সমগ্র বাংলাদেশ ১৪৭,৫৭০ কিলো স্কোয়ার মিটার মাত্র।  আর উল্টো দিকে ইউরোপ মহাদেশের ভূখন্ড বাংলাদেশের চেয়ে প্রায়  সাতগুন বেশি, ১০,১৮০,০০০ কিলো স্কোয়ার মিটার । লক্ষ্য করুন, বাংলাদেশে প্রতি স্কোয়ার কিলোমিটার জনবসতি ১০০০ জন লোকের । আর উল্টো দিকে ইউরোপ মহাদেশের প্রতি কিলো স্কোয়ার মিটারে বসবাস করেন ৭৫ জন মাত্র।  আমি ইচ্ছাকৃত দেশের সাথে মহা দেশের তুলনা তুলেছি। এবার একটু পার্থক্যটি অনুধাবন করার চেষ্টা করুন। এমন ঘণ জনবসতিপূর্ণ দেশ চালানোটা সত্যি চাট্টিখানি কথা নয়। ইউরোপে ৫০ টি দেশ, বলা যায় গড়পরতায় ইউরোপের ১২ জন প্রধানমন্ত্রীর কাজ আমাদের একজন প্রধানমন্ত্রীকে করতে হয় ।

তারপরেও আমাদের দেশ দিনকে দিন উন্নতির দিকেই হাঁটছে। তবে একটি কথা না বললেই নয়, যে দূর্ণীতি/ অবিচার/ অত্যাচার/ অমানবিকতার বিরুদ্ধে রক্ত দিয়ে লড়াই করে আমাদের দেশ স্বাধীন হয়েছিলো, সেই মন্ত্রগুলো আমরা নিজেরাই গিলে খেয়েছি । যুদ্ধে যে কারণে দেশের জনতারা রক্ত দিয়েছিলো, সেই মূলমন্ত্রই আমরা ধরে রাখতে পারিনি সেই শুরু থেকেই। সরাসরি বলা যায় আমরা আমাদের রক্তদানের মূল্যায়ন তো করিইনি বরং উল্টোরথে সরাসরি সেই রক্তের সাথে  বেঈমানী করা হয়েছে। কেননা যে দেশ স্বাধীনের পিছনে এত রক্ত গেছে, সেই দেশে এমনটি হবার কথা নয় ।

প্রশ্ন উঠবে তাহলে কে বা কারা সেই বেঈমানীর সাথে জড়িত ? হ্যাঁ সেই দায়িত্ব অবশ্যই সকল রাজনীতিকদেরই প্রথমে নিতে হবে । তবে জনমানুষেরাও কিন্তু কম দোষী নয় । কেননা আমরা জনমানুষেরা সেই বেঈমানীর সাথে সহায়ক ভূমিকায় বরাবরই ছিলাম। এটা একটি বিশদ আলোচনা । তবে দেশ স্বাধীনের পরের ছোট্ট উদাহরণ সবার জানা, বঙ্গবন্ধুর সেই ভাষ্য অনুযায়ী, ” আমার কম্বল কই ” ! ভাবুনতো সেই কম্বল তো বঙ্গবন্ধু নিজেই পাননি, তাহলে নিলো কারা ? হ্যাঁ সেখানেই সাধারণ জনমানুষেরাও সমান দায়ী, অর্থাৎ  আমরা জনমানুষেরা সহায়কের ভূমিকায় ছিলাম বলেই এমনটি হয়েছে, এটাই নেহায়েত সত্য কথা । সুতরাং জনমানুষেরাও দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারেন না ।

বর্তমানের পরিস্থিতির কথা বিবেচনায় নিলে কি দেখতে পাই ? আমি মহামারীর সময়কালের কথাই বলছি  মাত্র।  সরকার শত ভুল করেছে, তারপরেও যে সহায়তা নিয়ে মাঠে নেমেছিলো, সেটাকেও প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করানো হয়েছে। চাল চুরি, নগদ টাকা চুরি ইত্যাদি ইত্যাদি।  জানি সবাই বলবেন সরকারের লোকজন করেছে । হ্যাঁ তা ঠিক। মূলত দেশের সব লোকই তো সরকারের লোক। তাহলে কি সবাই দোষী? প্রশ্ন উঠবে সরকার কি জনগণের? এখানেই আমাদের মূল সমস্যা। কথায় বলে , ” যেই যায় লঙ্কায় সেই হয় রাবন ” ! মূলকথা হলো ক্ষমতার চেয়ারকে  যতদিন রাবনের চেয়ার ভাবা হবে , ততদিন এমনটাই চলবে। ক্ষমতায়ন হয়েই সব আমার ! জনগণের কিছুই না ! গণতন্ত্রে বিনা কারণে জনগণকেই মূলে রাখা হয়নি । অফ দা পিপল বাই দা পিপল ফর দা পিপল- জনগণ, জনগণের দ্বারা, জনগণের জন্য  । ক্ষমতার মূল মালিক জনগণ, শুধু কথার কথা নয়। যতদিন পর্যন্ত এর প্রতিফলন না হবে, কাজের কাজ কিছুই হবে না, জনগণের আস্ফালন ছাড়া।  অর্থাৎ ক্ষমতার চেয়ারটি রাবন নয় রামের চেয়ার হতেই হবে । তবেই মুশকিল আহসান।

সবই জনগণের। অথচ জনগণ তার অধিকার কতটুকুন বুঝে ? জনগণ যেদিন সুবিধা ভোগের পথ ছেড়ে অধিকারের পথ খুঁজে নিতে পারবে, সেদিনই কেবল সব কিছু জনগণের জন্য হবে । ইতিপূর্বে নয়।

20190210_195317

বুলবুল তালুকদার 

যুগ্ম সম্পাদক শুদ্ধস্বর ডটকম

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.