কে করবে বিচারপতিদের বিচার?

 

নিম্ন আদালত সমুহের সমন্বয়ে গড়ে উঠছে আমাদের উর্ধতন বিচার বিভাগ যাকে আমরা সুপ্রিম কোর্ট বলে থাকি।
সংবিধানের ৯৪ অনুচ্ছেদের ১ ধারা অনুযায়ী দেশের সর্বোচ্চ আদালত বিভাগ আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিদের নিয়ে সুপ্রীম কোর্টের মুলত কার্যক্রম।
হাইকোর্ট বিভাগের তত্ত্বাবধানে অধস্তন দেওয়ানি আদালত যথা – সহকারী জজ আদালত, উর্ধতন সহকারী জজ আদালত, যুগ্ম জেলা জজ আদালত
অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত ও জেলা জজ আদালতের করুণ চিত্র নিয়ে আমার আজকের এই প্রতিবেদন।
যেখানে ঝুলে আছে ৩২ থেকে ৩৫ লাখ বিচার প্রার্থীর বিচারী কার্যক্রম বৎসরের পর বৎসর,যুগের পর যুগ। এমন অসমাপ্ত বিচার ব্যাবস্থায় ঝুলন্ত মানুষের ভাগ্যের চাকা আর কত থেমে থাকলে আমরা বলতে পারব আমাদের বিচার বিভাগ সচল?
যে প্রশ্নের উত্তরে আজ জাতির বিবেক প্রশ্নবিদ্ধ।
প্রতিটি জেলার বিচার বিভাগের প্রধান হলেন জেলা জজ। জেলা জজ,অতিরিক্ত জেলা জজ সহকারী জজ ও অধস্তন জজের প্রদত্ত রায় ডিগ্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে আপিল জেলা জজদের রায় বা ডিগ্রির বিরুদ্ধে আনিত আপিল গুলো যুগ্ম জেলা জজদের কাছে নিষ্পত্তির বেড়া জালে বন্দি বা জিম্মি দেশের ষোলো কোটি জনগণ। জনগণের আতঙ্ক, আদালত,জজ কোর্ট হাইকোর্ট যার নিষ্পত্তি বিচার না পাওয়া লাখো হত দরিদ্র জনগনের স্পন্দনহীন নীথর দেহ।
বিচারী কার্যক্রম ঝুলে রেখে আর যাই হোক আমরা বলতে পারি না আমরা একটা সুস্থ সমাজে বাস করি।
যার জন্য দায়ী বিচার বিভাগের প্রতিটি স্তর।
দেওয়ানি বিষয়ক সীমাহীন মৌলিক এখতিয়ার, সময় ক্ষেপনের অভয় অরণ্য, বিচারী কার্যক্রম পরিচালনায়
অনির্দিষ্ট সময় ক্ষেপনে আইন ব্যবসায় সুযোগ সন্ধানি উকিলদের খপ্পরে নাজেহাল হওয়া অসহায় জনগণের আজ একটাই আবেদন এর একটা সমাধান।
সকল প্রকার বিচারী কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে সময়সীমা নির্ধারণ। সুপ্রিম কোর্টের নিদের্শনায় দ্রুত ঝুলে থাকা সকল বিচারকার্য সমাপ্তি সমাধান এক বৎসর, দুই বৎসর,তিন বৎসর, অতিরিক্ত পাঁচ বৎসর?

যুগের পর যুগ ঝুলে থাকলে সে বিচার বিভাগ একটা সভ্য দেশের বিচার বিভাগ হতে পারে না।
তাই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতি বিনীত অনুরোধ আপনারা বাংলাদেশ কে বিশ্বের দরবারে হেয় করার চেষ্টা করবেন না।
জননেত্রী কে তার বাবা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান ও পরিবারের সদস্যদের বিচার ও চার নেতার বিচার পেতে যুগ ধরে অপেক্ষা করতে হয়েছে।
পুরস্কৃত করা হয়েছে বিচারী কার্যক্রম না চালিয়ে আরাম আয়েশে খুনীদের বাচিঁয়ে রেখে।
এখনও শত শত হত্যার বিচার পেতে মানুষ আদালতের মুখোপেক্ষী। পর্যন্ত ভুমি সংক্রান্ত হাজারও মানুষের কেস ঝুলে আছে ৫০/৬০ বৎসর ধরে। বিচার না পেয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে লাখো মানুষ। এমনটা অন্যায়, মহা পাপ বিচার প্রার্থীদের উপর।
এর দায়ভার থেকে কোনো বিচারপতি মুক্তি পেতে পারে না। রাষ্ট্র ও জনগণের এমন মহান দ্বায়িত্ব নিয়ে এর সুরাহ দিতে না পারলে এর ব্যার্থতা সরকারের আইন ও প্রশাসনের অবশ্যই নিতে হবে। খুঁজে বেড় করতেই হবে মেহনতী মানুষের মৌলিক অধিকার বিচার পাওয়ার সুনির্দিষ্ট পথ।

মায়দুল ইসলাম তালুকদার , প্রবাসী কবি, এবং সমাজকর্মী ।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.